স্বৈরাচারের দোসররা এখনও ঘাপটি মেরে আছে: সমাজকল্যাণ মন্ত্রী

সমাজকল্যাণ এবং নারী ও শিশু বিষয় মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেন বলেছেন, দেশ থেকে শুধু স্বৈরাচারের নেত্রী পালিয়ে গেছে, তবে তাদের দোসররা পালায়নি। তারা আপনার ও আমাদের ভেতেরই ঘাপটি মেরে বসে আছে। তারা আমাদের দুর্বলতা খোঁজার জন্য বসে আছে। যদি আমরা তাদের সামনে আমাদের দুর্বলতা প্রকাশ করি তাহলে তারা একদিন না একদিন আমাদেরকে ছোবল মারবেই।
শনিবার (৩১ অক্টোবর) দুপুরে দিনাজপুর ইনস্টিটিউট প্রাঙ্গণে জাতীয়তাবাদী যুবদলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
এসময় তিনি বলেন, মনে রাখতে হবে আমার যে ভাই গুম, খুন, পঙ্গুত্ব বরণ করলো সেই অপরাধে স্বৈরাচারের দোসরদের বিচারের সম্মুখীন করতেই হবে। আর তারা যদি বিচারের সম্মুখীন না হয়, তাহলে তাদের অতীত বলে, তারা কোনো সময় ইতিহাস থেকে শিক্ষা নেয়নি। যদি ইতিহাস থেকে তারা শিক্ষা নিত তাহলে ১৯৭৫ সালে কিংবা ২০০১ সালেই তাদের শিক্ষা হতো। ইতিহাস থেকে শিক্ষা না নেওয়ার কারণেই তারা ২০০৯ থেকে ২০২৪ পর্যন্ত আপনাদের ও আমাদের ওপর দমন, নিপীড়ন চালিয়েছে।
দিনাজপুর জেলা যুবদলের আহ্বায়ক একেএম মাসুদুল ইসলাম মাসুদের সভাপতিত্বে ও সদস্য সচিব রেজাউর রহমান রেজার সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন জাতীয় সংসদের হুইপ ও দিনাজপুর-৪ আসনের এমপি আখতারুজ্জামান মিয়া, জেলা বিএনপির সভাপতি ও জেলা পরিষদ প্রশাসক অ্যাড. মোফাজ্জল হোসেন দুলাল, সাধারণ সম্পাদক বখতিয়ার আহমেদ কচি।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী ডা. জাহিদ হোসেন আরও বলেন, স্বৈরাচারের কিছু প্রভু বিদেশে আছে। সেই প্রভুরা তাদের এমনভাবে সমর্থন করে যে, জনগণের সমর্থন প্রয়োজন হয় না। তারা প্রশাসনের বিভিন্ন অংশকে এমনভাবে ব্যবহার করেছে যে তারা মনে করেছিল ২০৪১ সাল পর্যন্ত স্বৈরাচারী শাসন অব্যাহত রাখবে। কিন্তু আমরা সবসময় বলতাম তাদের এই সাজানো সংসার কাচের ঘরের মতো ভেঙে পড়বে।
তিনি বলেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টে এ দেশের ছাত্র-জনতা শুধু নয়, সারা দেশের গণতন্ত্রকামী মানুষ একীভূত হয়ে যে বিস্ফোরণ ঘটিয়েছে স্বৈরাচার সাজানো কাচের ঘর ভেঙে পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়েছে। তারা পালিয়ে গেলে তাদের অতীত থেকে তাদের চরিত্র বদলাবে এই আশা করা ঠিক না।
আলোচনা সভার পরে বেলুন উড়িয়ে যুবদলের প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উদ্বোধন করা হয়। এরপর এক বর্ণাঢ্য র্যালী শহর প্রদক্ষিণ করে। ব্যান্ডপার্টির তালে তালে মিছিলটিতে হাজারো নেতাকর্মী অংশ নেন।
