আশুলিয়া সড়কে ডাকাতি, ৯৯৯-এ ফোনের পরও পুলিশের তাৎক্ষণিক সহযোগিতা পাননি ভুক্তভোগী

আশুলিয়ার দুর্গাপুরে একটি আঞ্চলিক সড়কে গাছ ফেলে ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ যোগাযোগ করেও পুলিশের তরফ থেকে কোনো তাৎক্ষণিক সহযোগিতা পাননি বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী হাফেজ ক্বারী কামরুজ্জামান।
শনিবার (৩ অক্টোবর) সকালে আশুলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তরিকুল ইসলাম ডাকাতি চেষ্টার বিষয়ে নিশ্চিত করে জানান, শুক্রবার সন্ধ্যার পর আশুলিয়া থেকে কাঠগড়া আঞ্চলিক সড়কে গাছ ফেলে ডাকাতি চেষ্টার খবর পাওয়া যায়।
ভুক্তভোগী হাফেজ ক্বারী কামরুজ্জামান আন্তর্জাতিক হিফজুল কুরআন ইনস্টিটিউটের প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক ও হিফজুল কুরআন ফাউন্ডেশন বাংলাদেশের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক।
তিনি জানান, গতকাল সন্ধ্যা পৌনে ৭টার দিকে পরিবার নিয়ে বাসায় ফেরার পথে কাঠগড়া বাজার রোডের ঝোপঝাড় ও জঙ্গলঘেরা নির্জন এলাকায় পৌঁছালে ডাকাতির মুখে পড়েন তারা। ডাকাত দলটি সড়কের ওপর গাছ ফেলে প্রাইভেটকারসহ বিভিন্ন গাড়ির গতিরোধ করে। এ সময় অপর একটি প্রাইভেটকার যাত্রীরা নেমে গাছ সরাতে গেলে ডাকাত সদস্যরা দেশীয় ধারালো অস্ত্র ও চাপাতি নিয়ে অতর্কিত হামলা চালায় ও এলোপাতাড়ি কোপাতে থাকে। এতে প্রাইভেটকারের একাধিক যাত্রী গুরুতর আহত হন। একই সময়ে পেছনের অন্যান্য যানবাহন ও এক রিকশা আরোহীর মালামালও ছিনিয়ে নেয় ডাকাত দলটি।
এ সময় এলোপাতাড়ি আঘাতে করে ভুক্তভোগী হাফেজ ক্বারী কামরুজ্জামানের গাড়ির কাঁচ ভেঙে ফেলা হয়। পরে কৌশলে গাছের পাশ দিয়ে পালিয়ে আসতে তিনি সক্ষম হন বলে জানান।
তিনি অভিযোগ করে বলেন, হামলার পরপরই আমি ৯৯৯-এ বারবার কল দিলেও পুলিশের কোনো সহযোগিতা পাইনি। ঘটনার প্রায় ১০-১৫ মিনিট পর ঘটনাস্থলে পুলিশের একটি দল পৌঁছালেও তারা ‘ডিউটি জোন বা এরিয়ার বাইরে’ অজুহাত দেখিয়ে নিষ্ক্রিয় ভূমিকা পালন করেছে।
তবে ঘটনার সময় ডিউটিতে থাকা সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) রতন মিয়ার সঙ্গে মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।
আশুলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তরিকুল ইসলাম জানান, সড়কে গাছ ফেলে ডাকাতির চেষ্টার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে অপরাধীরা সংলগ্ন জঙ্গলে পালিয়ে যায়। এই ঘটনায় লিখিত অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
