logo
Advertisement

তিন মাস পর খুলল সুন্দরবনের দুয়ার

এশিয়া পোস্ট নিউজ,সাতক্ষীরা
তিন মাস পর খুলল সুন্দরবনের দুয়ার
সুন্দরবন সংলগ্ন বুড়িগোয়ালিনী ফরেস্ট স্টেশন ঘাট। ছবি : এশিয়া পোস্ট

সাতক্ষীরা রেঞ্জের কর্মকর্তা মশিউর রহমান জানান, তিন মাস বন্ধ থাকার পর আজ থেকে সাতক্ষীরা রেঞ্জের চারটি স্টেশন থেকে মাছ ধরা ও ইকোট্যুরিজমের পাস দেওয়া শুরু হয়েছে।

Advertisement

মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) বেলা ১১টা পর্যন্ত ১৫৪টি পাস ইস্যু করা হয়েছে, যার মাধ্যমে চার শতাধিক জেলে-বাওয়ালি সুন্দরবনে প্রবেশের অনুমতি পেয়েছেন।

তিনি আরও জানান, সাতক্ষীরা রেঞ্জের চারটি স্টেশন থেকে চলতি মৌসুমে প্রায় তিন হাজার বিএলসি নবায়ন করা হয়েছে। পর্যটকদের সুবিধার্থে কলাগাছি ও দোবেকি ইকোট্যুরিজম কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে। তবে প্রথম দিনে বৈরী আবহাওয়ার কারণে পর্যটকের সমাগম কিছুটা কম ছিল, আবহাওয়া ভালো হলে ভিড় বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।

জেলেদের নিরাপত্তার বিষয়ে মশিউর রহমান বলেন, বন্ধের সময়ও কোস্টগার্ডের সঙ্গে বন বিভাগের যৌথ দল কাজ করেছে এবং বর্তমানেও যৌথ টহল অব্যাহত রয়েছে। দস্যুদের বিষয়ে সুনির্দিষ্ট তথ্য পেলে তাৎক্ষণিক কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বন বিভাগ সূত্রে জানা যায়, প্রতিবছর মাছের প্রজনন মৌসুম ও সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্য রক্ষায় ১ জুন থেকে ৩১ আগস্ট পর্যন্ত সুন্দরবনে পর্যটক এবং জেলে-বাওয়ালিদের প্রবেশ নিষিদ্ধ থাকে। এ বছরও একই উদ্দেশ্যে তিন মাসের নিষেধাজ্ঞা শেষে মঙ্গলবার থেকে বনে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়েছে।

সুন্দরবনের প্রায় ৭০ শতাংশ এলাকা অভয়ারণ্য হিসেবে সংরক্ষিত। এসব এলাকায় সাধারণ মানুষের মাছ ধরা বা প্রবেশাধিকার নেই। ফলে অনুমতি নিয়ে বনে প্রবেশ করলেও পর্যটক ও জেলেদের নির্ধারিত বিধিবিধান কঠোরভাবে মেনে চলতে হয়।

বন বিভাগ জানিয়েছে, সুন্দরবনের পশ্চিম ও পূর্ব বিভাগের চারটি রেঞ্জে এবার মোট ১২ হাজার নৌযানকে বিএলসি দেওয়া হচ্ছে। দর্শনার্থীদের সুবিধার্থে পর্যটন কেন্দ্রগুলোর পন্টুন মেরামত ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করা হয়েছে।

সুন্দরবন পশ্চিম বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) এ জেড এম হাসানুর রহমান বলেন, পর্যটক ও মৎস্যজীবীদের সুরক্ষার বিষয়টি বিবেচনায় রেখে সুন্দরবনের সব ক্যাম্প ও স্টেশনকে সতর্ক থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্য রক্ষায় পর্যটক, জেলে ও বননির্ভর জনগোষ্ঠীর দায়িত্বশীল আচরণ অত্যন্ত জরুরি। পরিবেশ ও বন্যপ্রাণীর ক্ষতি করে—এমন যেকোনো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।