কুষ্টিয়ায় আধিপত্য বিস্তার নিয়ে সংঘর্ষ, নারীসহ আহত ৫

কুষ্টিয়া সদর উপজেলার ঝাউদিয়া ইউনিয়নের উদয়পুর ও মাছপাড়া এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুপক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ ও হামলার ঘটনা ঘটেছে। এতে নারীসহ অন্তত পাঁচজন আহত হয়েছেন। এ ঘটনায় দুজনকে আটক করেছে পুলিশ।
রোববার (৪ অক্টোবর) দুপুরে উদয়পুর ও মাছপাড়া এলাকায় এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। আহতদের মধ্যে তিনজনকে কুষ্টিয়া ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। ঘটনার পর এলাকায় পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
পুলিশ, স্থানীয় বাসিন্দা ও প্রত্যক্ষদর্শীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, গত এক মাস ধরে উদয়পুর ও মাছপাড়া এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুপক্ষের মধ্যে বিরোধ চলে আসছে। এর মধ্যে কয়েক দফা সংঘর্ষ, হামলা ও বাড়িঘর ভাঙচুরের ঘটনাও ঘটেছে বলে স্থানীয়রা জানান। এরই ধারাবাহিকতায় রোববার দুপুরে পেশকার ও রিপন গ্রুপের লোকজন রবিউল মণ্ডলের সমর্থক মান্নান মণ্ডলের বাড়িতে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হামলা চালায় বলে অভিযোগ ওঠে। এ সময় বাড়িঘর ভাঙচুর করা হয়। হামলায় ডালিম, মর্জিনা ও মনোয়ারসহ অন্তত পাঁচজন আহত হন। পরে স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে কুষ্টিয়া সদর হাসপাতালে নিয়ে যান।
আহত ডালিমের স্বামী মান্নান মণ্ডল বলেন, আমাদের বাড়ি মাছপাড়ায়। দুপুরে আমি বাঁশ কাটছিলাম। এ সময় পেশকার ও রিপন গ্রুপের লোকজন আমাদের বাড়িতে হামলা চালায়। তারা দেশীয় অস্ত্র নিয়ে বাড়িঘর ভাঙচুর করে। এ সময় তাদের সঙ্গে পুলিশও ছিল।
আহত মর্জিনা খাতুন বলেন, বাড়িতে পুরুষ মানুষ না থাকার সুযোগে তারা আমাদের ওপর হামলা করেছে। আমার মাথায় কয়েকটি সেলাই লেগেছে। গত এক মাস ধরে এলাকায় এ ধরনের সংঘর্ষ চলছে।
স্থানীয়রা জানান, দীর্ঘদিনের আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুপক্ষের বিরোধের জেরে এলাকায় বারবার সংঘর্ষের ঘটনা ঘটছে। দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে যেকোনো সময় বড় ধরনের সংঘর্ষ ও প্রাণহানির ঘটনা ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তারা।
কুষ্টিয়া সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. ইকবাল হাসান বলেন, মারামারির ঘটনায় তিনজন হাসপাতালে এসেছেন। তাদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।
পুলিশ জানায়, সংঘর্ষের খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়। এ ঘটনায় দুজনকে আটক করা হয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পুলিশ কাজ করছে। আটক ব্যক্তিদের পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।
এ বিষয়ে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এস এম মামুনুর রশীদ জানান, তিনি ব্যস্ত আছেন; পরে বিস্তারিত জানাবেন।
