logo

নিউগিনি প্রপার্টিজে হামলা/জামাতা গ্রেপ্তার নিয়ে কুষ্টিয়া-২ আসনের জামায়াত এমপির বিবৃতি

জামাতা গ্রেপ্তার নিয়ে কুষ্টিয়া-২ আসনের জামায়াত এমপির বিবৃতি
বাঁ থেকে কুষ্টিয়া-২ আসনের সংসদ সদস্য আব্দুল গফুর ও জামাই মিজানুর রহমান। ছবি: এশিয়া পোস্ট কোলাজ

রাজধানীর ‘নিউ গিনি প্রপার্টিজ’-এ হামলার অভিযোগে কুষ্টিয়া-২ আসনের জামায়াতমনোনীত সংসদ সদস্য (এমপি) আব্দুল গফুরের জামাতা মিজানুর রহমানকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। এ ঘটনায় গণমাধ্যমে প্রকাশিত বিভিন্ন সংবাদের পরিপ্রেক্ষিতে একটি বিবৃতি দিয়েছেন এমপি আব্দুল গফুর।

মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) দুপুরে কুষ্টিয়া জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি এনামুল হক হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপের মাধ্যমে গণমাধ্যমকর্মীদের কাছে এই বিবৃতি পাঠান।

বিবৃতিতে এমপি আব্দুল গফুর বলেন, সম্প্রতি ঢাকার মাটিকাটা এলাকা থেকে মিজানুর রহমানের গ্রেপ্তার এবং তাকে কেন্দ্র করে গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদের প্রতি আমার দৃষ্টি আকর্ষিত হয়েছে। প্রকাশিত এসব প্রতিবেদনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নাম জড়িয়ে এবং আমাকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে সম্পৃক্ত করে রাজনৈতিকভাবে হেয়প্রতিপন্ন করার অপচেষ্টা চালানো হয়েছে। আমি এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি।

প্রকাশিত সংবাদে দাবি করা হয়েছে, মিজানুর রহমানকে তার (এমপি) নিজস্ব বাসভবন থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তথ্যটিকে সম্পূর্ণ মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও কাল্পনিক দাবি করে এমপি বলেন, প্রকৃত সত্য হলো, ঢাকার মাটিকাটায় আমার নিজস্ব কোনো বাসা নেই। আমি সরকারিভাবে বরাদ্দকৃত ‘ন্যাম ভবন’-এ অবস্থান করি। অথচ প্রকৃত তথ্য যাচাই না করে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে সংবাদ প্রকাশের মাধ্যমে আমাকে বিতর্কিত করার চেষ্টা করা হয়েছে।

বিবৃতিতে তিনি আরও স্পষ্ট করেন, মিজানুর রহমানের সঙ্গে সংঘটিত বিষয়টি তার সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত ও ব্যবসায়িক। এই ঘটনার সঙ্গে আমার কোনো ব্যক্তিগত বা রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা নেই। একইভাবে, তার এই ব্যক্তিগত ও ব্যবসায়িক বিরোধের সঙ্গে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীরও কোনো সম্পর্ক নেই।

ঘটনার ব্যাখ্যা দিয়ে এমপি বলেন, প্রকৃত ঘটনাটি সম্পূর্ণ ব্যবসায়িক লেনদেন কেন্দ্রিক। মিজানুর রহমানের সঙ্গে ‘নিউ গিনি প্রপার্টিজ’-এর দীর্ঘদিনের বাণিজ্যিক সম্পর্ক ছিল। ওই প্রতিষ্ঠানের কাছে তার পাওনা টাকা দীর্ঘদিন বকেয়া ছিল এবং তিনি আইনানুগভাবে তা পরিশোধের দাবি জানিয়ে আসছিলেন। কিন্তু প্রতিষ্ঠানের মালিক সাইফুল ইসলাম পাওনা টাকা পরিশোধ না করার জন্য নানা কৌশল অবলম্বন করেন। একপর্যায়ে পাওনা টাকা আদায়ের জন্য মিজানুর রহমান আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করে থানায় মামলা দায়ের করেন।

তিনি জানান, ওই মামলার পরিপ্রেক্ষিতে ‘নিউ গিনি প্রপার্টিজ’-এর মালিক সাইফুল ইসলাম বাধ্য হয়ে পাওনা টাকার একটি অংশ পরিশোধ করেন। তবে অবশিষ্ট পাওনা পরিশোধ না করার উদ্দেশ্যে পরবর্তীতে সাইফুল ইসলাম পাল্টা একটি মামলা দায়ের করেন, যা পরবর্তীতে মিথ্যা প্রমাণিত হওয়ায় খারিজ হয়ে যায়।

সাম্প্রতিক ঘটনা নিয়ে এমপি আব্দুল গফুর আরও বলেন, আমার জানামতে সম্প্রতি সংঘটিত ভাঙচুর বা অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার সঙ্গে মিজানুর রহমানের কোনো ধরনের সংশ্লিষ্টতা ছিল না এবং নেই। বিষয়টিকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার উদ্দেশ্যে ‘নিউ গিনি প্রপার্টিজ’-এর মালিক সাইফুল ইসলাম পরিকল্পিতভাবে একটি সাজানো ঘটনা ও ষড়যন্ত্রের আশ্রয় নিয়েছেন বলে আমি মনে করি।

একটি ব্যক্তিগত ঘটনাকে জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে জড়িয়ে সংবাদ প্রকাশ করা মূলত রাজনৈতিক ফায়দা হাসিলের অপকৌশল উল্লেখ করে তিনি বলেন, ব্যবসায়িক বিরোধকে রাজনৈতিক রং দিয়ে জামায়াতে ইসলামীর ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করা এবং আমাকে রাজনৈতিকভাবে হেয়প্রতিপন্ন করার অপচেষ্টা অত্যন্ত দুঃখজনক ও নিন্দনীয়। এ ধরনের অপপ্রচার শুধু বিভ্রান্তিই সৃষ্টি করে না, বরং জনগণের কাছে প্রকৃত ঘটনাকে আড়াল করার সুযোগ তৈরি করে। জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি ও স্বার্থান্বেষী মহলের এমন কর্মকাণ্ডে গণমাধ্যমকে ব্যবহার করা হচ্ছে বলে আমি মনে করি।

অবিলম্বে বিভ্রান্তিকর তথ্য সংশোধনের দাবি জানিয়ে তিনি আহ্বান জানান, সংশ্লিষ্ট সকল গণমাধ্যমের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি, কোনো পক্ষের দেওয়া একতরফা, অসম্পূর্ণ বা যাচাই-বাছাইহীন তথ্যের ভিত্তিতে সংবাদ প্রকাশ না করে ঘটনার প্রকৃত সত্য অনুসন্ধান করুন এবং সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষের বক্তব্য যাচাই করে বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশন করুন। একই সঙ্গে যেসব গণমাধ্যমে এ বিষয়ে বিভ্রান্তিকর ও অসত্য তথ্য প্রকাশিত হয়েছে, সেসব সংবাদ দ্রুত সংশোধন করে প্রকৃত তথ্য জনসম্মুখে তুলে ধরার জোর দাবি জানাচ্ছি।