logo

ব্যবসায়ীকে আটকে নির্যাতন ও টাকা আদায়, স্বেচ্ছাসেবক দল নেতার বিরুদ্ধে মামলা

এশিয়া পোস্ট নিউজ
এশিয়া পোস্ট নিউজ, চট্টগ্রাম
ব্যবসায়ীকে আটকে নির্যাতন ও টাকা আদায়, স্বেচ্ছাসেবক দল নেতার বিরুদ্ধে মামলা
ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী মঞ্জুর আলম। ছবি : এশিয়া পোস্ট

চট্টগ্রামের দোকান ভাড়া দেওয়ার নামে ডেকে নিয়ে এক ব্যবসায়ীকে বাসায় আটকে রেখে রাতভর নির্যাতন ও অর্থ লুটের অভিযোগ উঠেছে এক স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতার বিরুদ্ধে। পরবর্তীতে ছিনিয়ে নেওয়া টাকা ফেরত দেওয়ার কথা বলে ওই ব্যবসায়ীকে রড দিয়ে পেটানোর অভিযোগ পাওয়া গেছে।

রোববার (৭ জুন) ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী মঞ্জুর আলম বাদী হয়ে কোতোয়ালি থানায় মামলাটি দায়ের করেন।

মামলার একমাত্র আসামি রাহাত উল্লাহ রবিন পাঁচলাইশ থানার কাতালগঞ্জের মুন্সি পুকুর পাড় এলাকার হাবিব উল্লার ছেলে ও চকবাজার থানা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক।

মামলার এজাহার ও ভুক্তভোগী ব্যবসায়ীর বিবরণ অনুযায়ী, পূর্বপরিচয়ের সূত্রে রবিন ব্যবসায়ী মঞ্জুর আলমকে একটি দোকান ভাড়া নেওয়ার প্রস্তাব দেন। তবে দোকানটি বিতর্কিত ও দখল করা জানতে পেরে মঞ্জুর আলম ভাড়া নিতে অস্বীকৃতি জানান। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে গত ১০ এপ্রিল মঞ্জুর আলমকে পাঁচলাইশের মুন্সী পুকুর পাড়ের একটি বাসায় ডেকে নিয়ে যান রবিন। সেখানে তাকে মারধর করে সঙ্গে থাকা নগদ ৭৮ হাজার টাকা এবং বিকাশ ও নগদের মাধ্যমে আরও ২০ হাজার টাকা জোরপূর্বক ছিনিয়ে নেওয়া হয়। সারারাত নির্যাতনের পরদিন বেলা সাড়ে ১১টার দিকে মঞ্জুরকে ছেড়ে দেওয়া হয়। পরে তিনি চিকিৎসকের শরণাপন্ন হন এবং পাঁচলাইশ থানায় বিষয়টি অবহিত করেন। ওই অভিযোগের প্রেক্ষিতে পাঁচলাইশ থানা পুলিশ সংশ্লিষ্ট বাসা থেকে চারজনকে আটক করেছিল বলেও জানা গেছে।

ভুক্তভোগীর আরও অভিযোগ, ঘটনার কিছুদিন পর ছিনতাই হওয়া টাকা ফেরত চাইলে উল্টো রবিন তার কাছে এক লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। এরপর গত ২১ মে টাকা ফেরত দেওয়ার কথা বলে মঞ্জুর আলমকে রিয়াজুদ্দিন বাজারের কাছে তিন পুলের মাথা এলাকায় ডাকা হয়। মঞ্জুর সেখানে পৌঁছালে রবিন ও তার সহযোগীরা লোহার রড দিয়ে তাকে বেধড়ক পিটিয়ে গুরুতর আহত করে এবং তার কাছে থাকা আরও ৬৫ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেয়।

অভিযোগের বিষয়ে স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা রাহাত উল্লাহ রবিন দাবি করেন, বাবু নামে একজনের সঙ্গে মনজুরের দ্বন্দ্ব ছিল। আমি সে সময় খুলনায় ছিলাম। পরে শুনি সে পাঁচলাইশ থানায় অভিযোগ করেছে। পরবর্তীতে ভুল বুঝতে পেরে সে আমার বাসায় গিয়ে আমার মায়ের কাছে দুঃখ প্রকাশ করে আসে।

তিনি আরও বলেন, খুলনা থেকে আসার পর সেই কল করে আমাকে হোটেল টাওয়ার ইনে ডেকে নেয়, যার রেকর্ড আমার কাছে আছে। সেখানে গিয়ে দেখি টাওয়ার ইন থেকে সে ও তার বন্ধুরা নামছে এবং নিজেদের মধ্যে মারামারি করছে, যা হোটেলের সিসিটিভি ফুটেজে আছে। আমি তাকে উদ্ধার করে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে ফাঁড়িতে পৌঁছে দিয়েছিলাম। এখন আপনার কাছেই শুনলাম মামলা হয়েছে।

এ বিষয়ে তদন্ত কর্মকর্তা ও কোতোয়ালি থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. আল আমিন বলেন, এক ব্যবসায়ীকে হত্যাচেষ্টার অভিযোগে রোববার একটি মামলা হয়েছে। ঘটনার তদন্ত চলছে এবং আসামিকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।