Advertisement

পাসের হারে তিন পার্বত্য জেলায় বান্দরবান এগিয়ে

এশিয়া পোস্ট নিউজ, বান্দরবান
পাসের হারে তিন পার্বত্য জেলায় বান্দরবান এগিয়ে
কোয়ান্টাম কসমো স্কুল এন্ড কলেজের কৃতি শিক্ষার্থীরা। ছবি : এশিয়া পোস্ট

এসএসসি পরীক্ষার ফলাফলে চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের অধীন তিন পার্বত্য জেলার মধ্যে পাসের হারে শীর্ষে রয়েছে বান্দরবান। জেলাভিত্তিক ফলাফলে সাধারণ শিক্ষা বোর্ডে বান্দরবানে পাসের হার ৬৩ দশমিক ১২ শতাংশ। অন্যদিকে খাগড়াছড়িতে ৬০ দশমিক ৭৭ শতাংশ এবং রাঙামাটিতে ৫৬ দশমিক ৫৫ শতাংশ শিক্ষার্থী পাস করেছে।

Advertisement

সোমবার (১০ আগস্ট) সকালে চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের ফলাফল ঘোষণার সময় পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক ড. পারভেজ সাজ্জাদ চৌধুরী এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

তবে স্কুল, মাদ্রাসা ও কারিগরি—এই তিন শিক্ষা ধারার পরীক্ষার্থীদের সমন্বিত হিসাব বিশ্লেষণে বান্দরবানের চিত্র বেশ ভিন্ন। জেলা শিক্ষা অফিসের তথ্য অনুযায়ী, তিন ধারায় মোট ৪ হাজার ৪৮৯ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছেন ২ হাজার ১৯৯ জন; অর্থাৎ সামগ্রিক পাসের হার মাত্র ৪৮ দশমিক ৯৯ শতাংশ।

জেলা শিক্ষা অফিসের বিস্তারিত তথ্যে দেখা যায়, স্কুল পর্যায়ে ৩ হাজার ৮৬৫ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছেন ১ হাজার ৮৭৪ জন (পাসের হার ৪৮ দশমিক ৪৮ শতাংশ এবং জিপিএ-৫ পেয়েছে ১৩৮ জন)। মাদ্রাসা পর্যায়ে ৪২২ জনের মধ্যে ২১২ জন পাশ করেছে (পাসের হার ৫০ দশমিক ২৩ শতাংশ)। আর কারিগরি শিক্ষায় ২০২ জনের মধ্যে পাশ করেছে ১১৩ জন (পাসের হার ৬০ দশমিক ৩১ শতাংশ এবং জিপিএ-৫ পেয়েছে ২ জন)।

স্কুল পর্যায়ে অর্ধেকের বেশি শিক্ষার্থী অকৃতকার্য হওয়ায় জেলার সামগ্রিক শিক্ষার মান ও শ্রেণিকক্ষের পরিবেশ নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। অভিভাবক জমির উদ্দিনের মতে, পার্বত্য জেলার দুর্গম যোগাযোগব্যবস্থা, দারিদ্র্য ও তীব্র শিক্ষক সংকটের মধ্য দিয়ে শিক্ষার্থীদের লেখাপড়া চালিয়ে যেতে হচ্ছে।

বান্দরবান জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মোহাম্মদ জসিম উদ্দিন বলেন, বান্দরবানের সামগ্রিক ফলাফল সন্তোষজনক নয়। জেলার ভৌগোলিক সীমাবদ্ধতা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষকের ঘাটতি ও শিক্ষার্থীদের ঝরে পড়ার প্রবণতা এ ব্যর্থতার অন্যতম কারণ। দুর্গম এলাকার বিদ্যালয়ে পর্যাপ্ত শিক্ষক পদায়ন ও অর্থনৈতিক সহায়তা নিশ্চিত করা জরুরি।

এদিকে চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডে এবার সামগ্রিক পাসের হার ৫৯ দশমিক ৪৮ শতাংশ, যা গত পাঁচ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন। ২০২৫ সালে বোর্ডে পাসের হার ছিল ৭২ দশমিক ৭ শতাংশ এবং ২০২৪ সালে তা ছিল ৮২ দশমিক ৮০ শতাংশ। এবার বোর্ডের অধীনে ২১টি বিদ্যালয়ের শতভাগ শিক্ষার্থী পাস করলেও ৮টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে কোনো শিক্ষার্থী উত্তীর্ণ হতে পারেনি।

বিষয়টি নিয়ে শিক্ষাবিদ মিনহাজ উদ্দীন জানান, পার্বত্য অঞ্চলের শিক্ষাব্যবস্থার চ্যালেঞ্জ সমতলের চেয়ে ভিন্ন। দুর্গম পাহাড়ি এলাকার বিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষক পদায়ন, আবাসিক সুবিধা ও তদারকি জোরদার না করলে কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন সম্ভব নয়।