এশিয়া পোস্টের প্রতিবেদনের পর কেএসএফ ট্রেডার্সের চুক্তি বাতিলের প্রস্তাব ইসির

রাজশাহী আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তার কার্যালয়ে আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে কর্মী নিয়োগে অনিয়ম ও অর্থ লেনদেনের অভিযোগের ঘটনায় নতুন মোড় নিয়েছে। জনবল সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান কেএসএফ ট্রেডার্স লিমিটেডের সঙ্গে করা চুক্তি বাতিলের প্রস্তাব পাঠিয়েছে নির্বাচন কমিশনের রাজশাহী আঞ্চলিক কার্যালয়। এশিয়া পোস্টের অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশের পর এ সিদ্ধান্ত নিল প্রতিষ্ঠানটি।
রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) নির্বাচন কমিশনের রাজশাহী আঞ্চলিক কার্যালয় থেকে নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের সিনিয়র সচিবের কাছে পাঠানো এক চিঠিতে এ প্রস্তাব দেওয়া হয়।
চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে, কেএসএফ ট্রেডার্স লিমিটেডের বিরুদ্ধে আর্থিক লেনদেনের অভিযোগ ওঠার পর বিষয়টি তদন্তে নির্বাচন কমিশন সচিবালয় তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে। তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালকের বিরুদ্ধে ঘুষ গ্রহণের মাধ্যমে সেবাকর্মী সরবরাহের বিষয়টি সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
এর আগে গত ১৮ জুলাই ‘পরীক্ষা ছাড়াই রাজশাহীর নির্বাচন অফিসে নিয়োগ পেলেন ১৪৩ জন’ শিরোনামে এশিয়া পোস্টে একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। ওই প্রতিবেদনে রাজশাহী আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তার কার্যালয়ে কোনো উন্মুক্ত নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি বা পরীক্ষা ছাড়াই ১৪৩ জনকে আউটসোর্সিং কর্মী হিসেবে নিয়োগ দেওয়ার তথ্য তুলে ধরা হয়।
প্রতিবেদনে নিয়োগ পাওয়া একাধিক কর্মীর অভিযোগের বরাত দিয়ে বলা হয়, চাকরি পেতে তাদের কাছ থেকে জনপ্রতি ৭০ থেকে ৮০ হাজার টাকা পর্যন্ত নেওয়া হয়েছে। তবে এসব অর্থ লেনদেনের অভিযোগ সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য ও তদন্তের মাধ্যমে যাচাইয়ের বিষয় ছিল।
এশিয়া পোস্টের অনুসন্ধানে আরও উঠে আসে, নিয়োগপ্রাপ্তদের অধিকাংশই এর আগে নির্বাচন অফিসে দৈনিক মজুরি কিংবা অস্থায়ী ভিত্তিতে কাজ করতেন। পরে তাদের আউটসোর্সিং কর্মী হিসেবে নতুন চুক্তির আওতায় নেওয়া হয়।
এ নিয়োগ প্রক্রিয়ায় কোনো উন্মুক্ত দরপত্র আহ্বান না করে ডাইরেক্ট প্রকিউরমেন্ট মেথড (ডিপিএম) পদ্ধতিতে কেএসএফ ট্রেডার্স লিমিটেডকে কাজ দেওয়ার বিষয়টিও প্রতিবেদনে তুলে ধরা হয়। ফলে পুরো নিয়োগ প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও নিয়ম অনুসরণের বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন ওঠে।
এশিয়া পোস্টের অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশের পর বিষয়টি নির্বাচন কমিশনের নজরে আসে। পরে অভিযোগ খতিয়ে দেখতে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। গত ৩০ জুলাই রাজশাহী আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তার কার্যালয়ে তদন্ত কমিটির শুনানি অনুষ্ঠিত হয়।
শুনানিতে নিয়োগ পাওয়া কর্মীদের পাশাপাশি চাকরিবঞ্চিত কয়েকজন প্রার্থীও উপস্থিত হন। তাদের কয়েকজন লিখিতভাবে তদন্ত কমিটির কাছে নিয়োগে অনিয়ম ও অর্থ লেনদেনের অভিযোগ তুলে ধরেন। চাকরিবঞ্চিতদের একাংশ বর্তমান নিয়োগ বাতিল, যোগ্য প্রার্থীদের নিয়োগ এবং নেওয়া অর্থ ফেরতের দাবিও জানান।
এদিকে তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনের পর কেএসএফ ট্রেডার্স লিমিটেডের সঙ্গে করা চুক্তি বাতিলের প্রস্তাব পাঠানোর ঘটনায় বিষয়টি আরও গুরুত্ব পেয়েছে। এখন নির্বাচন কমিশন সচিবালয় এ বিষয়ে কী সিদ্ধান্ত নেয়, সেটিই দেখার বিষয়।

