কপোতাক্ষের ভাঙন: চার গ্রাম প্লাবনের শঙ্কা, স্থায়ী বাঁধের দাবি

সাতক্ষীরার তালা উপজেলার খেশরা ইউনিয়নের বালিয়া এলাকায় কপোতাক্ষ নদের বেড়িবাঁধে নতুন করে ফাটল দেখা দেওয়ায় চারটি গ্রামের হাজারো মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। গত তিন দিন ধরে গ্রামবাসী নিজেরাই মাটি ফেলে ও পালাক্রমে পাহারা দিয়ে বাঁধটি রক্ষার চেষ্টা চালাচ্ছেন।
তবে অভিযোগ উঠেছে, স্থানীয় প্রশাসন ও পানি উন্নয়ন বোর্ডকে বিষয়টি জানানো হলেও এখন পর্যন্ত কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
স্থানীয়রা জানান, গত শনিবার রাতে জোয়ারের তীব্র চাপে বালিয়া গ্রামের বেড়িবাঁধের একটি অংশ ভেঙে যায়। পরে মসজিদের মাইকে ঘোষণা শুনে গ্রামের নারী-পুরুষ ঝুড়ি ও কোদাল নিয়ে ছুটে আসেন এবং সম্মিলিত প্রচেষ্টায় সাময়িকভাবে ভাঙন ঠেকান।
সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, বাঁধের আরও দুটি স্থানে নতুন করে ফাটল ধরেছে এবং সেখান দিয়ে ভেতরে পানি চুঁইয়ে ঢুকছে।
স্থানীয় বাসিন্দা নাজমিন আক্তার বলেন, সময়মতো গ্রামবাসী এগিয়ে না এলে ঘরবাড়ি ও মাছের ঘের লোনা পানিতে তলিয়ে যেত। তিনি অভিযোগ করেন, তিন দিন ধরে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে যোগাযোগ করা হলেও কেউ ঘটনাস্থলে আসেননি।
গ্রামবাসীর আশঙ্কা, বাঁধ ভেঙে গেলে বালিয়ার পাশাপাশি শুভংকরকাঠি, তেঘরিয়া ও শ্রীমন্তকাঠি গ্রামের শতাধিক বাড়িঘর, বিস্তীর্ণ মাছের ঘের এবং কৃষিজমি প্লাবিত হবে।
বালিয়া গ্রামের হাবিবুর রহমান গাজী ও জামাল উদ্দীন জানান, প্রায় ১২-১৩ বছর আগে কপোতাক্ষ নদ খননের সময় সিএস ম্যাপ অনুযায়ী কাজ না হওয়ায় নদীর গতিপথ বদলে তা জনবসতির কাছাকাছি চলে আসে। পরবর্তীকালে টিআরএম (টাইডাল রিভার ম্যানেজমেন্ট) প্রকল্পের প্রভাবে স্রোত বৃদ্ধি পাওয়ায় প্রতিবছরই একই এলাকার বাঁধ ঝুঁকিতে পড়ে।
খেশরা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান কামরুল ইসলাম লাল্টু বলেন, বালিয়া গ্রামের একাধিক স্থানে বাঁধ ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। বিষয়টি পানি উন্নয়ন বোর্ড ও উপজেলা প্রশাসনকে জানানো হয়েছে।
এ বিষয়ে সাতক্ষীরা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আব্দুর রহমান তাযকিয়া জানান, বালিয়া এলাকার বাঁধের বিষয়টি তিনি অবগত আছেন এবং আগেই স্থানটি পরিদর্শন করেছেন। তবে মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে বর্তমানে জরুরি কাজ বন্ধ থাকায় আপাতত মেরামত করা সম্ভব হচ্ছে না। বরাদ্দ পাওয়া মাত্রই এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


