কুমারখালীতে নৌকা বাইচে বিশৃঙ্খলা, মাঝপথেই স্থগিত প্রতিযোগিতা

ঢোল-কাঁসরের শব্দ, বৈঠার ছন্দ আর হাজারো দর্শকের উচ্ছ্বাসে জমে উঠেছিল কুষ্টিয়ার কুমারখালীর বহলবাড়িয়া বিল। দুই দিনব্যাপী ঐতিহ্যবাহী নৌকা বাইচের শেষ দিনে প্রতিযোগিতা চলাকালে এক নৌকার মাঝিরা অন্য নৌকায় উঠে পড়াকে কেন্দ্র করে তৈরি হয় উত্তেজনা। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে শেষ পর্যন্ত নৌকা বাইচ স্থগিত করতে বাধ্য হয় আয়োজক কমিটি।
সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে নন্দলালপুর ইউনিয়নের বারেক মোড় এলাকার বহলবাড়িয়া বিলে এ ঘটনা ঘটে।
আয়োজক ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ইতালি প্রবাসীদের উদ্যোগে রোববার থেকে শুরু হয় দুই দিনব্যাপী এ নৌকা বাইচ প্রতিযোগিতা। এতে কুষ্টিয়াসহ আশপাশের বিভিন্ন এলাকা থেকে ১১টি দল অংশ নেয়। প্রতিযোগিতা দেখতে দূর-দূরান্ত থেকে ছুটে আসেন হাজারো দর্শনার্থী।
সোমবার বিকেলে চূড়ান্ত পর্বের প্রতিযোগিতা শুরু হলে বিলের পানিতে একের পর এক রঙ-বেরঙের ডিঙি নৌকা ছুটে চলতে থাকে। মাঝিদের বৈঠার ছন্দে পানিতে সৃষ্টি হয় ঢেউ, আর তীরে থাকা দর্শকদের মুহুর্মুহু উল্লাসে মুখর হয়ে ওঠে পুরো এলাকা।
তবে প্রতিযোগিতা চলাকালে কয়েকটি নৌকার মাঝি নিয়ম লঙ্ঘন করে অন্য নৌকায় উঠে পড়েন। একাধিকবার এমন ঘটনা ঘটলে প্রতিযোগীদের মধ্যে তীব্র উত্তেজনা দেখা দেয়। একই সঙ্গে বিলের পাড়ে জড়ো হওয়া দর্শকদের মধ্যেও চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে। সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে আয়োজক কমিটির সদস্যরা নৌকা বাইচ স্থগিত ঘোষণা করেন। পরবর্তীতে সুবিধাজনক সময়ে প্রতিযোগিতাটি পুনরায় অনুষ্ঠিত হবে বলে জানিয়েছেন আয়োজকরা।
এদিকে দুই দিনব্যাপী এ আয়োজনে প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থান অর্জনকারী দলগুলোর জন্য পুরস্কার হিসেবে একটি করে খাসি ছাগল নির্ধারণ করা হয়েছিল।
নৌকা বাইচকে ঘিরে বহলবাড়িয়া বিলের পাড়ে বসেছিল গ্রামীণ মেলাও। মেলায় দেশীয় খাবার, খেলনা ও বিভিন্ন পণ্যের পসরা সাজিয়ে বসেন ব্যবসায়ীরা। ফলে নৌকা বাইচ দেখতে আসা মানুষের পাশাপাশি মেলাতেও ছিল উপচে পড়া ভিড়।
অনুষ্ঠানে প্রধান ও বিশেষ অতিথিরা পৌঁছানোর আগেই প্রতিযোগিতা স্থগিত হয়ে যায়।
আয়োজক ইতালি প্রবাসী দেলোয়ার হোসেন বলেন, যুবসমাজকে মাদক থেকে দূরে রাখা এবং গ্রামের মানুষের বিনোদনের ব্যবস্থা করতেই এই নৌকা বাইচের আয়োজন করা হয়েছিল। কিন্তু অনিবার্য কারণে এটি স্থগিত ঘোষণা করতে হয়েছে। পরবর্তীতে আবার প্রতিযোগিতাটি অনুষ্ঠিত হবে।
আরেক আয়োজক ইতালি প্রবাসী সাইফুল মালিথা বলেন, অনাকাঙ্ক্ষিত কারণে নৌকা বাইচ প্রতিযোগিতা বন্ধ করতে হচ্ছে। নৌকা বাইচ ও গ্রামীণ মেলা আমাদের আবহমান সংস্কৃতির অংশ হলেও বর্তমান প্রজন্মের কাছে এসব ঐতিহ্য অনেকটাই অচেনা হয়ে যাচ্ছে। সেই পুরোনো ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনতেই আমাদের এই ক্ষুদ্র প্রচেষ্টা।
কুমারখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জামাল উদ্দিন বলেন, বিষয়টি সম্পর্কে আমার জানা নেই। খোঁজ নিয়ে পরে জানাতে পারব।


