logo

কুবি শিক্ষার্থীর মৃত্যু: পাঁচ দিনেও গ্রেপ্তার হয়নি বাকি ৬ আসামি

কুবি শিক্ষার্থীর মৃত্যু: পাঁচ দিনেও গ্রেপ্তার হয়নি বাকি ৬ আসামি
ফারজানা ইসলাম ও তার স্বামী নাজমুল ইসলাম। ছবি: এশিয়া পোস্ট কোলাজ

নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) ফার্মেসি বিভাগের শিক্ষার্থী ফারজানা ইসলামের (২৫) মৃত্যুর ঘটনায় করা মামলার পাঁচ দিন পেরিয়ে গেলেও গ্রেপ্তার হননি বাকি ছয় আসামি। ঘটনার পর তার স্বামী নাজমুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করা হলেও অন্য আসামিদের গ্রেপ্তার না করায় তদন্তের অগ্রগতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন নিহতের পরিবারের সদস্যরা। তাদের অভিযোগ, আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের দৃশ্যমান তৎপরতা নেই। তদন্ত কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তারা সাড়া পাচ্ছেন না।

ফারজানার মৃত্যুকে আত্মহত্যা হিসেবে মেনে নিতে পারছেন না তার বাবা-মা ও স্বজনেরা। তাদের দাবি, যৌতুকের জন্য শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের শিকার হয়েছিলেন ফারজানা। পারিবারিক বিরোধের জেরে তাকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে বলে সন্দেহ করছেন তারা। ঘটনার বিভিন্ন দিক তুলে ধরে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন পরিবারের সদস্যরা।

রোববার (২৫ অক্টোবর) দিবাগত রাতে ফারজানার বাবা রফিকুল ইসলাম বাদী হয়ে ফতুল্লা মডেল থানায় মেয়ের জামাতাসহ সাতজনের বিরুদ্ধে আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে মামলা করেন। মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেন ফতুল্লা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মাহবুব আলম।

শনিবার (২৪ অক্টোবর) রাত ১১টার দিকে ফতুল্লার সাইনবোর্ড এলাকার একটি ভাড়া বাসা থেকে ফারজানার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ফারজানা কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্মেসি বিভাগের স্নাতকোত্তর শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিলেন। তার স্বামী নাজমুলও একই বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী। ফারজানার গ্রামের বাড়ি ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুর উপজেলায় এবং তার স্বামীর বাড়ি চাঁদপুরের কচুয়া উপজেলায়। তারা ফতুল্লার সাইনবোর্ড এলাকায় একটি ভাড়া বাসায় বসবাস করতেন।

নিহত ফারজানার বাবা ও মামলার বাদী রফিকুল ইসলাম কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অধীন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুর কৃষি প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটের প্রশাসনিক কর্মকর্তা (চলতি দায়িত্ব) হিসেবে কর্মরত। তার অভিযোগ, তারা প্রথমে মেয়ের মৃত্যুর ঘটনায় হত্যা মামলা করতে চেয়েছিলেন। কিন্তু থানায় গিয়ে হত্যা মামলা করতে চাইলে পুলিশ তা নেয়নি বলে দাবি করেন তিনি। পরে পুলিশ সুপারের সঙ্গে যোগাযোগ করলে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানানো হয়। এরপর আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে মামলা করেন তাঁরা।

রফিকুল ইসলাম এশিয়া পোস্টকে বলেন, আমার মেয়ে ফারজানাকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে বলে আমরা মনে করি। এ ঘটনায় আমরা হত্যা মামলা করতে চাইলেও পুলিশ আমাদের সেই মামলা নেয়নি, পরে হত্যা প্ররোচনার মামলা করা হয়েছে। আমাদের অভিযোগ, পুলিশ আমাদের পক্ষে সহযোগিতা করছে না এবং নিরপেক্ষভাবে তদন্তের অগ্রগতিও দেখতে পাচ্ছি না। ঘটনার বিভিন্ন অসংগতি, ঘরের দরজা খোলা থাকা এবং চিরকুট উদ্ধারের বিষয়টি নিয়ে আমাদের সন্দেহ রয়েছে। এসব বিষয় সঠিকভাবে তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা উদ্‌ঘাটন করা প্রয়োজন।

তিনি আরও বলেন, সবচেয়ে দুঃখের বিষয় হলো, এখন পর্যন্ত বাকি আসামিদের গ্রেপ্তার করা হয়নি। তারা বাইরে থাকলেও পুলিশ কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নিচ্ছে বলে আমরা দেখতে পাচ্ছি না। তদন্ত কর্মকর্তার সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও সাড়া পাচ্ছি না। আমরা চাই, দ্রুত আসামিদের গ্রেপ্তার করে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হোক, যাতে ঘটনার পেছনের সব তথ্য বেরিয়ে আসে। আমার মেয়ের মৃত্যুর জন্য যারা দায়ী, তাদের আইনের আওতায় এনে সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। আমরা প্রশাসনের সহযোগিতা, সুষ্ঠু তদন্ত ও ন্যায়বিচার চাই।

ফারজানার মা শরিফা আক্তার একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক। ঘটনার দিন দুপুরেও মেয়ের সঙ্গে স্বাভাবিকভাবে কথা হয়েছিল বলে জানান তিনি। মেয়ের মৃত্যুর খবর পাওয়ার আগের কথোপকথন এবং ঘটনার দিন বিকেলে তাদের পরিবারের কাছে ফোন আসার বিষয়টি নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন তিনি।

শরিফা আক্তার এশিয়া পোস্টকে বলেন, আমার মেয়ে কখনো আত্মহত্যা করতে পারে না। আমার বিশ্বাস, পরিকল্পিতভাবে তাকে হত্যা করা হয়েছে। ঘটনার দিন দুপুরেও মেয়ের সঙ্গে আমার স্বাভাবিকভাবে কথা হয়েছে। সে আমাকে বাড়িতে যেতে বলেছিল। কিন্তু অসুস্থ স্বামীকে নিয়ে ঢাকায় থাকায় সেদিন যেতে পারিনি। ওই কথাই ছিল মেয়ের সঙ্গে আমার শেষ কথা।

তিনি আরও বলেন, ঘটনার দিন বিকেলে হঠাৎ মেয়ের ভগ্নিপতি আমার ছেলের কাছে ফোন করে আগের মামলার বিষয়ে জানতে চান। গত তিন বছরের মধ্যে তিনি কখনো আমাদের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করেননি। তাহলে হঠাৎ সেদিন কেন মামলার বিষয়ে জানতে ফোন করলেন? বিষয়টি আমাদের সন্দেহ আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।

পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, আমরা যাদের নামে মামলা করেছি, তাদের মধ্যে এখনো ছয়জনকে গ্রেপ্তার করা হয়নি। ঘটনার পাঁচ দিন পার হলেও আসামিরা গ্রেপ্তার না হওয়ায় আমরা হতাশ। পুলিশের ভূমিকা নিয়েও আমাদের মনে প্রশ্ন রয়েছে। আমি একজন মা হিসেবে মেয়ের মৃত্যুর সুষ্ঠু তদন্ত ও ন্যায়বিচার চাই। যারা এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত, তাদের শনাক্ত করে সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করা হোক। আমার দাবি, দোষীদের মধ্যে দুই থেকে তিনজনের ফাঁসি হোক।

ফারজানার মৃত্যুর ঘটনায় পরিবারের পক্ষ থেকে পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে। বিশেষ করে আসামিদের গ্রেপ্তার না হওয়া, তদন্ত কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা এবং তদন্তের অগ্রগতি সম্পর্কে স্পষ্ট তথ্য না পাওয়ার বিষয়গুলো নিয়ে উদ্বিগ্ন স্বজনেরা।

নিহতের বড় ভাই আরিফুল ইসলাম এশিয়া পোস্টকে বলেন, আমরা শুরু থেকেই হত্যা মামলা করতে চেয়েছিলাম। কিন্তু পুলিশ আমাদের আত্মহত্যায় প্ররোচনার মামলা করতে বলে। তাদের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনে হত্যার প্রমাণ পাওয়া গেলে মামলাটি হত্যা মামলায় রূপান্তর করা হবে। তবে মামলা করার সময়ও আমাদের নানা ধরনের অসহযোগিতার মুখে পড়তে হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, মামলায় সাতজনকে আসামি করা হলেও এখন পর্যন্ত একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বাকি ছয় আসামিকে গ্রেপ্তারের বিষয়ে তদন্ত কর্মকর্তার সঙ্গে বারবার যোগাযোগ করেও সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য পাচ্ছি না। এমনকি ঘটনাস্থলের সুরতহাল প্রতিবেদনের কপিও কয়েক দিন ধরে চেয়েও পাওয়া যাচ্ছে না। এতে তদন্তের অগ্রগতি নিয়ে আমরা হতাশ।

যৌতুক ও নির্যাতনের অভিযোগ এজাহারে

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ২০২৩ সালের নভেম্বরে পারিবারিক সম্মতিতে সাত লাখ টাকা দেনমোহরে নাজমুল আলমের সঙ্গে ফারজানার বিয়ে হয়। বিয়ের পর তারা কুমিল্লা শহরে একটি ভাড়া বাসায় থাকতেন। প্রায় দেড় বছর আগে নাজমুল মুন্সিগঞ্জের একটি প্রতিষ্ঠানে চাকরি পেয়ে সেখানে বাসা ভাড়া নেন। অন্যদিকে ফারজানা কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের হলে থেকে পড়াশোনা চালিয়ে যাচ্ছিলেন। বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ থাকলে তিনি তার স্বামীর কাছে যেতেন।

এজাহারে বাবা রফিকুল ইসলাম অভিযোগ করেন, মেয়ের স্বামীকে বিভিন্ন সময়ে আর্থিক সহায়তা ও প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র দিয়ে সহযোগিতা করেছেন তিনি। এরপরও তার পরিবার (আসামিরা) ফারজানার কাছে যৌতুক দাবি করে তাকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করতেন। এসব বিষয়ে ফারজানা তার পরিবারের সদস্যদের জানিয়েছিলেন বলেও এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।

এর আগে বিরোধের জেরে ফারজানা ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আদালতে একটি সিআর মামলা করেছিলেন। পরে দুই পক্ষের পরিবারের সমঝোতার মাধ্যমে বিরোধ মিটিয়ে তারা আবার পুনরায় সংসার শুরু করেন।

এজাহার অনুযায়ী, প্রায় দুই মাস আগে নাজমুল এসিআই ফার্মাসিউটিক্যালসে এক্সিকিউটিভ পদে চাকরি পেয়ে ফতুল্লার ভূইগড় এলাকায় বাসা ভাড়া নেন। পরে গত ২০ অক্টোবর ফারজানা তার স্বামীর ওই নতুন বাসায় যান।

বাদীর অভিযোগ, ঘটনার দিন বিকেলে ফারজানার স্বামীর বোনজামাই তার ছেলেকে ফোন করে আগের মামলা সম্পর্কে জানতে চান। পরে রাত ৯টার দিকে তিনি রফিকুল ইসলামকে ফোন করে জানান, ফারজানা শয়নকক্ষে সিলিং ফ্যানের সঙ্গে শাড়ি পেঁচিয়ে গলায় ফাঁস দিয়েছেন। খবর পেয়ে পরিবারের সদস্যরা সেখানে গিয়ে আশপাশের লোকজনের সঙ্গে কথা বলেন। এ সময় আগের মামলা নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে কথা-কাটাকাটি এবং ফারজানাকে মরে যেতে বলার বিষয়টি জানতে পারেন বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।

পুলিশের বক্তব্য

মামলার তদন্ত ও আসামিদের গ্রেপ্তার না হওয়া নিয়ে পরিবারের অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে নারায়ণগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ ও অপারেশন) তারেক আল মেহেদী এশিয়া পোস্টকে বলেন, শিক্ষার্থীর মৃত্যুর ঘটনায় করা মামলার তদন্ত চলছে। এ ঘটনায় মূল আসামি স্বামী নাজমুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বাকি আসামিদের মধ্যে কারও সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেলে তাদেরও গ্রেপ্তার করা হবে। তবে মামলা নাম থাকলেই সবাই ঘটনার সঙ্গে জড়িত এমনটি নয়। প্রাথমিক তদন্তে যাঁদের সম্পৃক্ততা পাওয়া যাবে, তাঁদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

পুলিশ সুপার আরও বলেন, মামলার তদন্তের ক্ষেত্রে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন গুরুত্বপূর্ণ। প্রতিবেদন পাওয়ার পর তদন্তের ফলাফলের ভিত্তিতে পরবর্তী আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হবে। এটি হত্যা মামলা হবে কি না, তা-ও ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনসহ তদন্তের ফলাফলের ওপর নির্ভর করছে।

আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের নিষ্ক্রিয়তার অভিযোগ প্রসঙ্গে তারেক আল মেহেদী বলেন, পুলিশ আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা করছে। তবে অনেক সময় আসামিরা এলাকায় থাকেন না। তাদের অবস্থান সম্পর্কে সুনির্দিষ্ট তথ্য পাওয়া গেলে অভিযান চালানো হয়। ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে এমন কোনো অভিযোগ থাকলে পুলিশকে জানাতে পারেন। রিমান্ডের বিষয়ে তিনি বলেন, রিমান্ড মঞ্জুর করা সম্পূর্ণ আদালতের এখতিয়ার। পুলিশ আবেদন করলেই আদালত রিমান্ড মঞ্জুর করেন না।

তবে এসব বিষয়ে বক্তব্য জানতে ফতুল্লা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মাহবুব আলমের সরকারি মোবাইল নম্বরে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। ফলে প্রতিবেদনটি লেখা পর্যন্ত তার বক্তব্য পাওয়া সম্ভব হয়নি।

এর ২৪ অক্টোবর রাত ১১টার দিকে ফতুল্লার ভূইগড় কবরস্থান রোডে দেলোয়ারের বাড়ির দ্বিতীয় তলার একটি ভাড়া বাসা থেকে ফারজানার ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এ সময় শয়নকক্ষের বিছানার ওপর একটি চিরকুট পাওয়া যায়। সেখানে স্বামীর নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে আত্মহত্যা করার কথা লেখা ছিল বলে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে।

পরে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য রোববার (২৫ অক্টোবর) সকালে নারায়ণগঞ্জ ১০০ শয্যা বিশিষ্ট ভিক্টোরিয়া জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়। একই ঘটনায় ফারজানার স্বামী নাজমুল আলমকে রাতেই ঘটনাস্থল থেকে আটক করে থানায় নিয়ে যায় পুলিশ।

মামলায় নাজমুল আলম ছাড়াও আব্দুর রহিম (৫০), আফরোজা বেগম (৪৫), সায়মা আক্তার (২৫), রাসেল (৪২), সাইফুল আলম (৩৬) ও রোকেয়া বেগমকে (৬৮) আসামি করা হয়েছে। তাদের মধ্যে আফরোজা নিহতের স্বামীর বোন, সায়মা স্বামীর ভাইয়ের স্ত্রী, রাসেল স্বামীর ভাই এবং রোকেয়া তার শাশুড়ি।

ঘটনার পাঁচ দিন পেরিয়ে গেলেও বাকি ছয় আসামি গ্রেপ্তার না হওয়ায় পরিবার হতাশ ও উদ্বিগ্ন। তাদের দাবি, মামলার তদন্তে গাফিলতি না করে সব আসামিকে দ্রুত আইনের আওতায় আনতে হবে। ফারজানার মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদ্‌ঘাটনে চিরকুট, ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনসহ ঘটনার প্রতিটি দিক নিরপেক্ষভাবে তদন্তের দাবি জানিয়েছেন তারা। পরিবারের প্রত্যাশা, সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা বেরিয়ে আসবে এবং মৃত্যুর জন্য দায়ী ব্যক্তিদের শনাক্ত করে সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করা হবে।

আসিফ আল আজাদ

সম্পাদনা

আসিফ আল আজাদ

সহ-সম্পাদক | এশিয়া পোস্ট