মেয়ের নিখোঁজের শোকে মায়ের মৃত্যু, ১৫ দিনেও সন্ধান মেলেনি সাবরিনার

শরীয়তপুরের জাজিরায় বাড়ি থেকে বাজারে যাওয়ার কথা বলে বের হওয়ার পর ১৫ দিনেও সন্ধান মেলেনি ১৫ বছর বয়সি সাবরিনা আক্তার শিমুর। মেয়ের নিখোঁজের পর থেকে দুশ্চিন্তা ও শোকে ভেঙে পড়েছিলেন তার মা। এরই মধ্যে স্ট্রোক করে মারা গেছেন তিনি। মেয়েকে ফিরে পাওয়ার অপেক্ষায় থাকা পরিবারটিতে এখন নেমে এসেছে শোকের ছায়া।
নিখোঁজ সাবরিনা আক্তার শিমু জাজিরা উপজেলার কাজীরহাট এলাকার ডুবিসায়বর গ্রামের বাহাদুর দেওয়ানের মেয়ে।
পরিবার সূত্রে জানা যায়, গত ২০ সেপ্টেম্বর সকাল ১০টার দিকে বাজারে যাওয়ার কথা বলে বাড়ি থেকে বের হয় সাবরিনা। এরপর আর বাড়িতে ফেরেনি সে। পরিবারের সদস্যরা আত্মীয়স্বজনসহ বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তার সন্ধান না পেয়ে জাজিরা থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন।
সাবরিনার পরিবার জানায়, মেয়ে নিখোঁজ হওয়ার পর থেকেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন তার মা। মেয়ের কোনো খোঁজ না পাওয়ায় সারাক্ষণ দুশ্চিন্তায় থাকতেন তিনি। এর মধ্যে গত ২৮ সেপ্টেম্বর দুপুর সাড়ে ২টার দিকে স্ট্রোক করে তার মৃত্যু হয়।
সাবরিনার বাবা বাহাদুর দেওয়ান বলেন, মেয়ে বাড়ি থেকে বের হওয়ার পর আর ফিরে আসেনি। কোথায় আছে, কেমন আছে, কিছুই জানি না। মেয়ের চিন্তায় আমার স্ত্রীও মারা গেলেন। আমরা শুধু মেয়েকে ফিরে পেতে চাই। প্রশাসনের কাছে অনুরোধ, আমার মেয়েকে খুঁজে বের করে আমাদের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া হোক।
সাবরিনার বোন সারাহ সাবরিন বলেন, একদিন ফোন করে শুধু বলেছিল, ‘রংপুর’। এরপর থেকে তার সঙ্গে আর কোনো যোগাযোগ হয়নি। আমার মা মেয়ের চিন্তায় দুনিয়া ছেড়ে চলে গেছেন। আমরা অনেকবার ফোন করেছি, মেসেজ ও ভয়েস মেসেজ দিয়েছি। কিন্তু কোনো সাড়া পাইনি। আমরা চাই, আমার বোনকে দ্রুত খুঁজে বের করে আমাদের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া হোক।
পুলিশ বলছে, সাবরিনার নিখোঁজ হওয়ার বিষয়টি তদন্ত করতে গিয়ে প্রাথমিকভাবে একটি ছেলের সঙ্গে তার রংপুরে যাওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে। তার মোবাইল ফোনের লোকেশনও শনাক্ত করা হয়েছিল। পরে ব্যবহৃত সিমটি বন্ধ করে দেওয়া হয় বলে জানিয়েছে পুলিশ।
জাজিরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সালেহ্ আহাম্মদ বলেন, প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, প্রেমঘটিত কারণে একটি ছেলের সঙ্গে সাবরিনা রংপুরে গেছে। আমরা তার মোবাইলের লোকেশন শনাক্ত করেছিলাম। পরে সিমটি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। নিখোঁজ হওয়ার পর তার মায়ের সঙ্গেও কথা হয়েছিল। তখন সে জানিয়েছিল, সে বাড়িতে ফিরবে না। তবে মেয়েটির বিষয়ে এখনো কোনো তথ্য পাওয়া গেলে আমরা বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখব এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
