logo
Advertisement

ব্রাহ্মণবাড়িয়া/বিয়ের অনুষ্ঠানে নাচের কথা বলে ডেকে নিয়ে ২ নারীকে দলবদ্ধ ধর্ষণ

এশিয়া পোস্ট নিউজ
এশিয়া পোস্ট নিউজ
সরাইল, ব্রাহ্মণবাড়িয়া
বিয়ের অনুষ্ঠানে নাচের কথা বলে ডেকে নিয়ে ২ নারীকে দলবদ্ধ ধর্ষণ
নাসিরনগর থানা। ছবি: এশিয়া পোস্ট

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইলে একটি বিয়ের অনুষ্ঠানে নাচ পরিবেশন করতে এসে দলবদ্ধ ধর্ষণের শিকার হয়েছেন এক কিশোরীসহ দুই নারী নৃত্যশিল্পী। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে সরাইল থানা-পুলিশ এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে।

শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে সরাইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনজুর কাদের ভূঁইয়া বলেন, একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বাকিদের দ্রুততম সময়ের মধ্যে গ্রেপ্তারে পুলিশ কাজ করছে।

এর আগে গত ১০ সেপ্টেম্বর বিকেল চারটা থেকে সন্ধ্যার মধ্যে সরাইল উপজেলার শাহাবাজপুর এলাকার তিতাস নদীতে এ ঘটনা ঘটে।

এ ঘটনায় ভুক্তভোগীদের পক্ষ থেকে ১১ সেপ্টেম্বর রাতে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে সরাইল থানায় একটি মামলা করা হয়। মামলায় মো. রাকিব মিয়া নামের এক যুবককে প্রধান আসামি করে অজ্ঞাতনামা আরও ৪–৫ জনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে।

পুলিশ ও ভুক্তভোগী সূত্রে জানা যায়, ধর্ষণের শিকার দুই নারী কুমিল্লার চান্দিনা এলাকার বাসিন্দা। তারা পেশাগত চুক্তিতে দেশের বিভিন্ন স্থানে নৃত্য পরিবেশন করে থাকেন। তাদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুক পেজ থেকে যোগাযোগের নম্বর নিয়ে সরাইলের শাহাবাজপুর এলাকায় একটি বিয়ের অনুষ্ঠানের কথা বলে রাকিব নামের এক যুবক তাদের চুক্তিভুক্ত করেন।

চুক্তি অনুযায়ী, ১০ সেপ্টেম্বর বিকেলে ৯ হাজার টাকা পারিশ্রমিকে ওই দুই নৃত্যশিল্পী সরাইল বিশ্বরোড এলাকায় পৌঁছান। সেখান থেকে রাকিব ও তার সঙ্গীরা তাদের একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশায় করে শাহাবাজপুরের একটি সেতুর নিচে নিয়ে যায়। পরে বিয়ের অনুষ্ঠানে দ্রুত নিয়ে যাওয়ার কথা বলে তাদের একটি ইঞ্জিনচালিত নৌকায় তোলা হয়।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, নৌকাটি তিতাস নদীর মাঝপথে পৌঁছালে চালক ইঞ্জিন বন্ধ করে দেয়। এরপর নৌকার ছাউনির ভেতরে নিয়ে আসামিরা ওই দুই নারীকে পর্যায়ক্রমে একাধিকবার ধর্ষণ করে। এ সময় তাদের সঙ্গে থাকা এক পুরুষ সদস্য বাধা দিলে আসামিরা ধারালো অস্ত্র উঁচিয়ে তাকে প্রাণনাশের হুমকি দেয়। বিকেল সাড়ে চারটা থেকে সন্ধ্যা সাতটা পর্যন্ত তিতাস নদীর মাঝখানে নৌকার ভেতরে এই পাশবিক নির্যাতন চালানো হয় বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।

পরে রাত আনুমানিক আটটার দিকে আসামিরা ভুক্তভোগীদের নাসিরনগর উপজেলার কুণ্ডা তিতাস নদীসংলগ্ন ভূঁইয়া ঘাট এলাকায় নামিয়ে দিয়ে পালিয়ে যায়। ভুক্তভোগীরা প্রথমে নাসিরনগর থানায় আইনি সহযোগিতার জন্য যান। তবে ঘটনাস্থল সরাইল থানা এলাকায় হওয়ায় পুলিশ তাদের সরাইল থানায় মামলা করার পরামর্শ দেয়।

নাসিরনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহিনুল ইসলাম জানান, অপরাধের ঘটনাস্থল সরাইল থানাধীন হওয়ায় ভুক্তভোগীদের সরাইল থানায় গিয়ে আইনি পদক্ষেপ নিতে বলা হয়েছে।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) মো. জাহাঙ্গীর আলম জানান, দলবদ্ধ ধর্ষণের ঘটনায় সরাইল থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলার ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে এক আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তদন্ত ও বাকি অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারের স্বার্থে আপাতত গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তির পরিচয় প্রকাশ করা হচ্ছে না।