কুমিল্লায় এক লাখ টাকা চাঁদা না পেয়ে হোটেলে হামলা-ভাঙচুর

কুমিল্লার সদর দক্ষিণ উপজেলায় প্রতি মাসে এক লাখ টাকা চাঁদা না দেওয়ায় একটি রেস্তোরাঁয় হামলা, ভাঙচুর ও দুই ব্যক্তিকে দেশীয় অস্ত্র দিয়ে মারধরের অভিযোগ উঠেছে।
রোববার (৩০ আগস্ট) রাত সাড়ে ১১টার দিকে উপজেলার লালমাই বাজারের ‘ওহাব হোটেল অ্যান্ড রেস্টুরেন্ট’-এ এ ঘটনা ঘটে।
এ ঘটনায় হোটেল মালিক মো. ইসমাইল সোমবার সকালে সদর দক্ষিণ মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। এতে নূরে আলম, আব্দুর রহিম, আলমগীর (প্রকাশ আলী), মামুন ও আরেক নূরে আলমসহ অজ্ঞাতনামা আরও ৭-৮ জনকে আসামি করা হয়।
হামলায় হোটেলের মালিক মো. ইসমাইল এবং তার আত্মীয় ফরহাদ হোসেন গুরুতর আহত হয়েছেন।
অভিযোগ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ঘটনার রাতে নূরে আলমের নেতৃত্বে ৫ জন এবং সঙ্গে আরও ৭-৮ জন হোটেলে ঢুকে চাঁদা দাবি করেন। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে আসামিরা রেস্তোরাঁর আসবাব ও মালামাল ভাঙচুর শুরু করেন। একপর্যায়ে নূরে আলম লোহার খন্তি দিয়ে ইসমাইলকে এলোপাতাড়ি মারধর করেন, এতে তার বুক ও পিঠসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে মারাত্মক আঘাত লাগে। পরবর্তীতে আব্দুর রহিম বটি দা দিয়ে ইসমাইলকে কোপ দিলে তা তার বাঁ হাতের কনুইয়ে লেগে রক্তাক্ত জখম হয়। এ সময় ইসমাইলকে বাঁচাতে আত্মীয় ফরহাদ হোসেন এগিয়ে এলে তাকেও মারধর করা হয়।
হট্টগোল শুনে স্থানীয়রা জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ ফোন দিলে অভিযুক্তরা সটকে পড়েন। পরে আহত ইসমাইলকে উদ্ধার করে সদর দক্ষিণ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়।
ভুক্তভোগী ইসমাইল জানান, বাবার সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে লালমাই বাজারে এ হোটেলটি পরিচালনা করে আসছি। কিছুদিন ধরে নূরে আলম প্রতি মাসে এক লাখ টাকা চাঁদা দাবি করছিলেন। চাঁদা না দিলে ব্যবসা করতে না দেওয়া এবং একা পেলে হত্যার হুমকিও দেওয়া হতো। চাঁদা না পেয়েই পরিকল্পিতভাবে এ হামলা চালানো হয়েছে। আমি আসামিদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক বিচার চাই।
ঘটনার বিষয়ে জানতে চাইলে প্রধান আসামি নূরে আলম বলেন, আমি এখন কিছু বলতে পারব না, সমস্যায় আছি।
সদর দক্ষিণ মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) রকিবুল ইসলাম জানান, লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিষয়টি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।



