logo

নেত্রকোনায় বিয়েবাড়িতে কলেজছাত্র খুন, ঘরে ঢুকে নারীকে কুপিয়ে হত্যা

এশিয়া পোস্ট নিউজ
এশিয়া পোস্ট নিউজ, নেত্রকোনা
নেত্রকোনায় বিয়েবাড়িতে কলেজছাত্র খুন, ঘরে ঢুকে নারীকে কুপিয়ে হত্যা
নারীকে কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় হামলাকারীকে আটক করে পুলিশে দেন স্থানীয়রা। ছবি: এশিয়া পোস্ট

নেত্রকোনায় বিয়ের অনুষ্ঠানে কথা-কাটাকাটিকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষে ফয়সাল মিয়া নামে এক যুবক নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আরও তিনজন আহত হয়েছেন।

সোমবার (১ জুন) দিবাগত রাত পৌনে ১২টার দিকে সদর উপজেলার চল্লিশা এলাকায় বামনিকোণা সংসদ বাজার মসজিদের সামনে এ ঘটনা ঘটে।

নিহত ফয়সাল মিয়া (১৯) উপজেলার বামনিকোণা গ্রামের নজরুল ইসলামের ছেলে। তিনি নিহত ফয়সাল আহমেদ ওই এলাকার নজরুল ইসলামের ছেলে। তিনি নেত্রকোনার আবু আব্বাছ ডিগ্রি কলেজের দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিলেন। আহতরা হলেন রবিন, সৌরভ ও সাদেকুল ইসলাম। তারা সবাই একই গ্রামের বাসিন্দা।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) সজল কুমার সরকার বলেন, বামনিকোণা গ্রামের একটি বিয়ের অনুষ্ঠানে গিয়ে ফয়সাল ও তার সঙ্গীদের সঙ্গে একই এলাকার কয়েকজনের কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে প্রতিপক্ষের লোকজন বাঁশ দিয়ে তাদের মারধর করে গুরুতর আহত করে।

স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে নেত্রকোনা সদর হাসপাতাল ও ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠান। সেখানে রাত ২টার দিকে ফয়সাল মারা যান। হত্যায় জড়িতদের ধরতে পুলিশ অভিযান চালানোর পাশাপাশি আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে বলে জানান তিনি।

এলাকার পরিস্থিতি বর্তমানে নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। ঘটনাস্থলে পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা কাজ করছেন। পিবিআই তদন্ত শুরু করেছে।

অপরদিকে নেত্রকোনা পৌর শহরের কাটলী এলাকায় নিজ বাসায় মনোয়ারা বেগম নামে এক নারীকে কুপিয়ে হত্যা করার অভিযোগ উঠেছে প্রতিবেশী যুবকের বিরুদ্ধে। এ সময় কুপিয়ে ওই নারীর স্বামী ও ছেলেকেও গুরুতর আহত করা হয়েছে। নিহতের মেয়ের চিৎকারে ওই বাসা থেকেই হামলাকারীকে আটক করে পুলিশে দেন স্থানীয়রা।

সোমবার রাত ৯টার দিকে পৌর শহরের কাটলী এলাকায় নিহতের বাসার দ্বিতীয় তলার ফ্ল্যাটে এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।

নিহত মনোয়ারা বেগম (৫৫) কাটলী এলাকার আবু চানের স্ত্রী। অভিযুক্ত আব্দুর রশিদ একই এলাকার বাসিন্দা। তিনি পেশায় রিকশাচালক।

নিহতের মেয়ে লিজা মণি বলেন, রাত ৯টার দিকে বাসায় ঢুকে দেখি বাবা ও ভাইকে রশিদ মিয়া কুপিয়ে আহত করেছেন। এ সময় আমি চিৎকার দিলে আশপাশের মানুষ এসে বাবা ও ভাইকে উদ্ধার করেন। পরে বাসার খাটের নিচ থেকে মায়ের লাশ উদ্ধার করা হয়। হামলাকারী রশিদ পূর্বপরিচিত। প্রায়ই টাকা ধার নিতেন রশিদ। তার চরিত্রও খারাপ।

এ বিষয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সজল কুমার সরকার বলেন, ঘটনার সময় এলাকায় বিদ্যুৎ ছিল না। হামলাকারী প্রথমে মনোয়ারা বেগমকে কুপিয়ে হত্যা করেন। এ সময় ছেলে মুন্না মিয়া এগিয়ে গেলে তাকেও কুপিয়ে গুরুতর আহত করেন। একপর্যায়ে তাদের বাঁচাতে মনোয়ারার স্বামী আবু চান এগিয়ে গেলে তাকেও কুপিয়ে গুরুতর আহত করেন।

স্থানীয়রা চিৎকার শুনে ওই বাসাতেই হামলাকারী আব্দুর রশিদকে আটক করেন। স্থানীয়রা আহত বাবা ও ছেলেকে উদ্ধার করে নেত্রকোনা সদর হাসপাতালে পাঠান। সেখানে ছেলে মুন্নার অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে রশিদকে আটক করে।