‘তোদের অস্তিত্ব উল্টে ফেলব’, ভিডিওতে ৮ পিস্তল নিয়ে হুমকি

চট্টগ্রামের রাউজানে টেবিলের ওপর পিস্তল সাজিয়ে ভিডিও ধারণ করে প্রতিপক্ষকে হুমকি দেওয়ার একটি ঘটনা সামনে এসেছে। ২১ সেকেন্ডের এই ভিডিওটি সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় নতুন করে আতঙ্ক সৃষ্টি হয়।
ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে দেখা যায়, একটি টেবিলের ওপর আটটি বিদেশি পিস্তল সাজিয়ে রাখা হয়েছে। এ সময় এক ব্যক্তিকে বলতে শোনা যায়, খেলা দেখছ কোথায়? প্রস্তুত থাক। নোয়াপাড়ায় তোদের অস্তিত্ব উল্টে ফেলব। তোদের জন্য টাকা দিয়ে এনেছি মরণের টিকিট। ভিডিওতে ওই ব্যক্তিকে পিস্তলগুলোর ওপর আঙুল নাড়তেও দেখা যায়।
ভিডিওতে আরও বলতে শোনা যায়, মনে রেখ সময় থাকতে ভালো হয়ে যাও। সময় থাকতে তোরা ভালো হয়ে যা। চাঁদাবাজি বন্ধ কর। তোদের অবস্থা খুব খারাপ করে ফেলব বলে দিলাম। আমি তুফান।
ভিডিওতে অস্ত্র প্রদর্শনকারী যুবকের নাম হৃদয় হোসেন শাওন ওরফে হৃদয় বুলেট। তিনি রাউজানের নোয়াপাড়া এলাকার বাসিন্দা এবং তার বিরুদ্ধে রাউজান থানায় একাধিক মামলা রয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, আলোচিত ভিডিওটি সাম্প্রতিক সময়ের নয়, বরং ২০২৩ সালের শেষ দিকের। দুই পক্ষের অভ্যন্তরীণ বিরোধের জেরে পুরোনো এই ভিডিওটি নতুন করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।
ভিডিওটিতে সাত থেকে আটটি পিস্তল দেখা গেলেও পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, এর মধ্যে কয়েকটি খেলনা পিস্তল এবং বাকিগুলো বিভিন্ন সন্ত্রাসীর কাছ থেকে সংগ্রহ করা হয়েছিল। তবে এসব অস্ত্র আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছ থেকে লুট করা নয়।
মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) দিবাগত রাতে ‘মামুন চেয়ারম্যানের সমর্থক গোষ্ঠী’ নামের একটি ফেসবুক আইডি থেকে ভিডিওটি আপলোড করা হয়। কাপড়ের ওপর সারি করে রাখা পিস্তলের ওই ভিডিওটির সঙ্গে যুক্ত পোস্টে অস্ত্রগুলোকে অবৈধ ও থানা থেকে লুট করা বলে দাবি করা হয়। পাশাপাশি হৃদয়ের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ছিনতাই এবং অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে মানুষকে জিম্মি করার অভিযোগ তুলে তাকে দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানানো হয়।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, হৃদয় ও একই এলাকার আরাফাত মামুন একসময় বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে যৌথভাবে জড়িত ছিলেন। বিভিন্ন সময় গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে থাকা অবস্থায় তাদের মধ্যে ঘনিষ্ঠতা গড়ে ওঠে। পরবর্তীতে জামিনে বেরিয়ে এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে তাদের মধ্যে বিরোধ সৃষ্টি হয়। সম্প্রতি হৃদয়ের বাবাকে মামুন মারধর করেন বলে পুলিশ জানতে পেরেছে। এই ঘটনার জেরে দুই পক্ষের দ্বন্দ্ব চরম আকার ধারণ করে এবং মামুনের অনুসারীরা পুরোনো ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেন।
ঘটনার বিষয়ে রাউজান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম বলেন, ভিডিওটি আমাদের নজরে এসেছে এবং বিষয়টি যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। হৃদয় বুলেটকে আগেও গ্রেপ্তার করা হয়েছিল, পরবর্তীতে তিনি জামিনে মুক্তি পান। হৃদয় ও মামুনের মধ্যে বিরোধ রয়েছে। উভয় পক্ষই বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত এবং তাদের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে।
চট্টগ্রামের রাউজান-রাঙ্গুনিয়া সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোহাম্মদ বেলায়েত হোসেন জানান, ভিডিওটি মূলত ২০২৩ সালের শেষ দিকের। বিভিন্ন সন্ত্রাসীর কাছ থেকে অস্ত্র সংগ্রহ করে ভয়ভীতি প্রদর্শন ও চাঁদাবাজির উদ্দেশ্যে হৃদয় এটি নিজের মুঠোফোনে ধারণ করেছিলেন। সাম্প্রতিক বিরোধের সুযোগ নিয়ে মামুন সেটি ছড়িয়ে দিয়েছেন। ভিডিওতে প্রদর্শিত অস্ত্রের মধ্যে লুণ্ঠিত কোনো অস্ত্র নেই। এর আগে অভিযান চালিয়ে এই চক্রের দুটি পিস্তল উদ্ধার করা হয়েছিল। অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার ও জড়িত ব্যক্তিদের পুনরায় গ্রেপ্তারে রাউজান থানা-পুলিশের বিশেষ অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের পুলিশ সুপার (এসপি) মাসুদ আলম বলেন, ভিডিওটি যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। খোঁজখবর নিয়ে এ ঘটনায় আইনগত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
