বগুড়ায় দুই রাউন্ড ফাঁকা গুলির পর যুবককে ছুরিকাঘাত

প্রথমে দুই রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছোড়া হয়। গুলির শব্দে আশপাশের মানুষ সরে যান। তখন ঘিরে ধরা হয়ে এক যুবককে। তাকে এলোপাতাড়াড়ি ছুরিকাঘাত করে পালিয়ে যান হামলাকারীরা। শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) রাতে বগুড়া সদর উপজেলার মাটিডালী এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
হামলার শিকার যুবকের নাম মো. মোকসেদ আলী। তিনি মাটিডালী উত্তরপাড়া এলাকার মো. হায়দার আলীর ছেলে। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ (শজিমেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তার অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে।
পুলিশ বলছে, বারোপুর-নামুজা সড়ক এলাকায় প্রায় ৩২ বিঘার একটি আমবাগানের মালিকানা ও ব্যবসা নিয়ে পুরোনো বিরোধ রয়েছে। বিরোধের জেরে মোকসেদ আলীকে বিভিন্ন সময় হুমকি দেওয়া হচ্ছিল বলে প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে।
মোকসেদ আলীর প্রতিবেশী মো. সাব্বির ইসলাম বলেন, মোকসেদ পঞ্চগড়ে স্বর্ণের কাজ করেন। মাঝে-মধ্যে এলাকায় এসে দু-একদিন থেকে আবার চলে যান। এলাকায় মোকসেদের সঙ্গে কারও বিরোধ রয়েছে, এমনটা তাদের জানা ছিল না।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, শুক্রবার রাত পৌনে ১০টার দিকে ছয় থেকে সাত জনের একটি দল মাটিডালী এলাকায় আসে। সেখানে তারা দুই রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছোড়ে। গুলির শব্দে আতঙ্কিত হয়ে আশপাশের লোকজন সরে যান। মোকসেদ আলীকে ছুরিকাঘাত করে পালিয়ে যান হামলাকারীরা।
হামলার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যায় পুলিশ ও র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র্যাব) সদস্যরা। পরে সেখানে যান বগুড়ার পুলিশ সুপার মির্জা সায়েম মাহমুদ, সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইব্রাহিম আলী, জেলা গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) ওসি ইকবাল বাহার এবং র্যাব-১২ বগুড়ার কোম্পানি কমান্ডার ফিরোজ আহমেদ। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে দুটি গুলির খোসা, দুই জোড়া জুতা ও কয়েকটি লাঠিসোঁটা জব্দ করেছে।
জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (বগুড়া সদর সার্কেল) মো. রায়হান উদ্দিন মোরাদ বলেন, সাধারণ মানুষকে সরিয়ে দেওয়ার উদ্দেশ্যে প্রথমে ফাঁকা গুলি ছোড়া হয়েছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে। এরপর মোকসেদকে একা পেয়ে ছুরিকাঘাত করা হয়।
তিনি বলেন, ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার করা দুটি গুলির খোসা প্রাথমিকভাবে সাত দশমিক ৬৫ এমএম বোরের বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে ওই অস্ত্র থানা থেকে লুণ্ঠিত কোনো অস্ত্র নয়।
পুলিশের এই কর্মকর্তা আরও বলেন, আমবাগানকেন্দ্রিক পূর্বশত্রুতার জের ধরে হামলা হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। ঘটনায় শুধু মোকসেদ আলী আহত হয়েছেন। তার কোনো রাজনৈতিক পরিচয় আছে কি না, তা এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি। হামলায় জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।



