মৃত্যু ছাড়া নির্বাচন থেকে সরব না—ঘোষণার রাতেই বিএনপি নেতার মৃত্যু

‘মৃত্যু ছাড়া কেউ আমাকে নির্বাচন থেকে সরাতে পারবে না’—সহকর্মী ও ভোটারদের উদ্দেশে দেওয়া এই জোরালো ঘোষণার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়লেন কুমিল্লা চান্দিনা উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক সাইফুল ইসলাম খোকন।
সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) রাত ১টার দিকে হাসপাতালে নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়।
সাইফুল ইসলাম খোকন চান্দিনা উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক ছিলেন। এর আগে তিনি চান্দিনা উপজেলা যুবদলের ভারপ্রাপ্ত সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। তিনি শুহিলপুর গ্রামের আবদুর রাজ্জাক আরতদারের ছেলে।
সাইফুল ইসলাম খোকনের ভাগিনা সাদ্দাম হোসেন এশিয়া পোস্টকে তার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
পরিবারের সদস্যরা জানান, মঙ্গলবার রাতে বাড়িতে ফেরার পর রাত ১২টার দিকে শরীরে ব্যথা অনুভব করেন খোকন। পরে তাকে দ্রুত স্থানীয় একটি হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানকার চিকিৎসকের পরামর্শে তাকে চান্দিনা উপজেলার গৌরীপুর উপজেলা হাসপাতালে নেওয়া হচ্ছিল। পথে তার মৃত্যু হয়। পরে হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

জানা গেছে, মঙ্গলবার দিনভর শুহিলপুর ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় গণসংযোগ করেন সাইফুল ইসলাম খোকন। আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার ঘোষণা দিয়ে নেতাকর্মী ও সমর্থকদের নিয়ে শোডাউনও করেন তিনি। তার প্রার্থিতা নিয়ে স্থানীয়ভাবে নানা আলোচনা চলছিল। অনেকে ধারণা করছিলেন, শেষ পর্যন্ত তিনি নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়াতে পারেন। তবে গণসংযোগে খোকন বলেন, ‘আমার মৃত্যু ছাড়া কেউ আমাকে নির্বাচন থেকে সরাতে পারবে না।’
গণসংযোগ শেষে রাত ৯টার দিকে নিজ বাড়িতে ফেরেন খোকন। এরপর অসুস্থ হয়ে পড়লে পরিবারের সদস্যরা তাকে হাসপাতালে নেওয়ার চেষ্টা করেন।
খোকনের বাবা আবদুর রাজ্জাক আরতদার জানান, তার ছেলে সারাদিন গণসংযোগ ও শোডাউন করেছেন। রাতে বাড়িতে এসে ঘুমাতে যাওয়ার পর অসুস্থ হয়ে পড়েন। দ্রুত হাসপাতালে নেওয়ার চেষ্টা করা হলেও তার মৃত্যু হয়।
স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাকর্মীরা জানান, দীর্ঘদিন ধরে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন সাইফুল ইসলাম খোকন। তার আকস্মিক মৃত্যুতে বিএনপির স্থানীয় নেতাকর্মী, সমর্থক ও শুভাকাঙ্ক্ষীরা শোক জানিয়েছেন। মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১০টায় তার জানাজা ও দাফন সম্পন্ন হয়েছে।
চান্দিনার স্থানীয় সংসদ সদস্য আতিকুল ইসলাম শাওন এশিয়া পোস্টকে জানান, খোকন তার বাবার সঙ্গে রাজনীতি করতেন। তিনি নিজে রাজনীতিতে আসতে না চাইলেও কয়েকজন তাকে রাজনীতিতে আসতে অনুপ্রাণিত করেছিলেন, তাদের মধ্যে খোকনও ছিলেন। খোকনের সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল উল্লেখ করে তিনি বলেন, তার পরিবারের পাশে তিনি সব সময় থাকবেন।


