বাগেরহাটে পোকা দমনে কৃষকপ্রিয় হচ্ছে ‘আলোক ফাঁদ’

রাত নামলেই আমনক্ষেতের পাশে জ্বলে ওঠে আলো। সেই আলোয় আকৃষ্ট হয়ে আসা পোকা সংগ্রহ করে শনাক্ত করছেন কৃষি কর্মকর্তারা। আর দিনের বেলায় ধানক্ষেতে পুঁতে রাখা ডালপালায় বসে পাখি খেয়ে ফেলছে ক্ষতিকর পোকামাকড়। এভাবেই আলোক ফাঁদ ও পার্চিং পদ্ধতিতে আমন ধান রক্ষার চেষ্টা চলছে বাগেরহাটের ফকিরহাট উপজেলায়।
উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের মাঠ ঘুরে দেখা গেছে, আমন ধানের ক্ষেতের পাশে রাতে আলোক ফাঁদ স্থাপন করা হয়েছে। আলো দেখে বিভিন্ন ধরনের পোকা এসব ফাঁদে এসে জমায়েত হলে সেগুলো সংগ্রহ করে শনাক্ত করছেন কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারা। এতে ক্ষেতে পোকার উপস্থিতি ও আক্রমণের মাত্রা সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যাচ্ছে। সেই অনুযায়ী কৃষকদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, বৈরী আবহাওয়ার কারণে এ বছর আমন ক্ষেতে মাজরা পোকাসহ বিভিন্ন ধরনের ক্ষতিকর পোকার আক্রমণের আশঙ্কা রয়েছে। তবে নিয়মিত পর্যবেক্ষণ ও কৃষকদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেওয়ার মাধ্যমে তা নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা চলছে।
আলোক ফাঁদের পাশাপাশি বিভিন্ন মাঠে ব্যবহার করা হচ্ছে পরিবেশবান্ধব ‘পার্চিং’ পদ্ধতি। এ পদ্ধতিতে ধানক্ষেতে গাছের ডাল, বাঁশের আগা, কঞ্চি ও অন্যান্য ডালপালা পুঁতে দেওয়া হয়। এসব ডালে পাখি বসে ধানক্ষেতের ক্ষতিকর পোকামাকড় খেয়ে ফেলায় প্রাকৃতিকভাবেই পোকার সংখ্যা কমছে।
বাহিরদিয়া ইউনিয়নের কৃষক নাজমুল হাসান জানান, তিনি এক একর জমিতে আমন ধান চাষ করেছেন। অতিরিক্ত বৃষ্টির কারণে এবার বীজতলা নষ্ট হওয়ায় ধান রোপণে কিছুটা দেরি হয়েছে। তবে আলোক ফাঁদ ও পার্চিং পদ্ধতি ব্যবহারের কারণে ক্ষতিকর পোকামাকড়ের প্রাদুর্ভাব কম দেখা যাচ্ছে। এতে বালাইনাশকের ব্যবহারও কমেছে। ফলে চাষের খরচ কিছুটা সাশ্রয় হচ্ছে।
নলধা ইউনিয়নের কৃষক মহিদুল বলেন, কৃষি অফিসের পরামর্শে তিনি জমিতে গাছের ডাল ও বাঁশের কঞ্চি পুঁতে দিয়েছেন। এতে ক্ষতিকর পোকামাকড় অনেকটাই কমেছে। রাতে কৃষি কর্মকর্তারা আলোক ফাঁদ পাতার পরও মাঠে তেমন ক্ষতিকর পোকা দেখা যাচ্ছে না।
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে ফকিরহাটে উফশী, হাইব্রিড ও স্থানীয় জাতের আমন ধানের আবাদ হয়েছে। এর মধ্যে ব্রি-১০৩, ব্রি-৯৫, ব্রি-৯৩ ও ব্রি-৮৭ জাত রয়েছে। এ বছর প্রায় ৪ হাজার ৬০০ হেক্টর জমিতে আমন ধানের আবাদ হয়েছে, যা নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি। অনুকূল পরিবেশ থাকলে প্রতি বিঘায় ১৫ থেকে ২০ মণ পর্যন্ত ধান উৎপাদনের সম্ভাবনা রয়েছে।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ শেখ সাখাওয়াত হোসেন বলেন, উপজেলার সব ইউনিয়নের সব ব্লকে একযোগে আলোক ফাঁদ স্থাপন করা হয়েছে। আলোক ফাঁদ স্থাপনের মাধ্যমে ক্ষেতে থাকা পোকা শনাক্ত করা হচ্ছে। বর্তমানে পোকার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। তাই আপাতত আতঙ্কিত হওয়ার কোনো কারণ নেই।


