logo

খাগড়াছড়ির হাটগুলোতে পশুর তুলনায় ক্রেতা কম

খাগড়াছড়ির হাটগুলোতে পশুর তুলনায় ক্রেতা কম
ছবি: এশিয়া পোস্ট

কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে খাগড়াছড়িতে জমে ওঠার কথা থাকলেও গবাদিপশুর হাটে এবার তুলনামূলক কম ক্রেতা দেখা গেছে। সাধারণ ক্রেতা, ইজারাদার ও স্থানীয়দের অভিযোগ বিক্রেতা ও খামারিদের অতিরিক্ত দাম হাঁকানোর কারণেই ক্রেতা সমাগম কম হচ্ছে হাটগুলো।

খাগড়াছড়ি জেলার হাটগুলো ঘুরে দেখা যায়, গবাদিপশুর সংখ্যা পর্যাপ্ত থাকলেও ক্রেতাদের উপস্থিতি গত বছরের তুলনায় অনেক কম। অথচ গত বছর একই সময়ে পশুর হাট ক্রেতাদের ভিড়ে কোলাহলপূর্ণ ছিল।

ক্রেতা মো. জহুরুল আলম বলেন, আজকের বাজারে গরুর দাম অনেক বেশি। গত হাটে গরু নিতে পারিনি। আজকে এসে দেখি আগের তুলনায় আরও বেশি দাম চাচ্ছে। তাই ভাবছি উপজেলার হাটগুলোতে গিয়ে দেখি কম দামে পাওয়া যায় কি না।

আরেক ক্রেতা মো. মাইন উদ্দিন জানান, আজ আমি খাগড়াছড়ি পশুর হাট থেকে একটি গরু কিনেছি ১ লাখ ৬৫ হাজার টাকায়। অথচ গত হাটে একই গরুর দাম চাওয়া হয়েছিল ১ লাখ ৩০ হাজার টাকা। সময় না থাকায় বাধ্য হয়ে কিনে নিয়েছি।

তবে হাটে বিক্রেতাদের দাবি, গরুর দাম বাড়ার পেছনে রয়েছে খাদ্য ও লালনপালনের অতিরিক্ত ব্যয়।

বিক্রেতা শফিকুল ইসলাম বলেন, গো-খাদ্যসহ সবকিছুর বর্তমান বাজারে দাম বেড়েছে। গরু পালনে যে খরচ হয়েছে, সেই তুলনায় দাম না পেলে বিক্রি করা সম্ভব না।

হাটের ইজারাদার মো. জামাল জানান, গত বছরের তুলনায় এবারের হাটে মানুষ কম। তবে গত বৃহস্পতিবারে এ হাটে আজকের চেয়ে বেশি গরু বিক্রি হয়েছিল।

তিনি আরও জানান, খাগড়াছড়ি গবাদিপশুর হাটগুলোতে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা কোরবানিযোগ্য পশুর স্বাস্থ্য পরীক্ষা করছেন। পাশাপাশি ব্যাংক কর্মকর্তা ও পুলিশ সদস্যরাও বাজার মনিটরিংয়ের মাধ্যমে আমাদের সহযোগিতা করে যাচ্ছেন।

খাগড়াছড়ি সদর থানার অফিসার ইনচার্জ মো. কায় কিসলু বলেন, আজকে বাজার পরিদর্শনে গিয়ে তেমন লোকসমাগম দেখিনি। তবে কোরবানির ঈদে দীর্ঘ ছুটি থাকায় অনেক চাকরিজীবী পরিবার নিয়ে বাড়ি চলে গেছেন। এ ছাড়া বিভিন্ন উপজেলায় পশুর হাট রয়েছে।

তিনি আরও বলেন, জেলার পশুর হাটগুলোতে যাতে ক্রেতা-বিক্রেতারা মলম পার্টির খপ্পরে না পড়েন, সেজন্য পুলিশের তীক্ষ্ণ নজরদারি অব্যাহত রয়েছে।

এ বছর খাগড়াছড়িতে ২৫৮৭টি খামারে ১৮ হাজার ১৬৮টি গবাদিপশু প্রস্তুত করা হয়েছে। তারমধ্যে খাগড়াছড়িতে চাহিদা রয়েছে ১৩ হাজার ১১০টি। উদ্বৃত্ত থাকছে ৫ হাজার ০৫৮টি।