পশু কোরবানি না করে ঈদুল আজহা উদযাপন

সৌদি আরবসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সঙ্গে মিল রেখে বাংলাদেশের অনেক এলাকায় ঈদুল আজহা উদযাপন হয়ে থাকে। আগাম ঈদ উদযাপনের পাশাপাশি ব্যতিক্রমী ঘটনা ঘটেছে শরীয়তপুরের এক দরবার শরীফে।
বুধবার (২৭ মে) সুরেশ্বর দরবার শরীফে পশু কোরবানি না করেই ঈদুল আজহা উদযাপন করা হয়েছে।
জেলার নড়িয়া উপজেলার সুরেশ্বর দরবার শরীফ প্রাঙ্গণে বুধবার সকাল সাড়ে ১০টায় ঈদের প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হয়। একই সময়ে দরবার সংলগ্ন পৃথক মাঠে আরও একটি জামাতের আয়োজন করা হয়। এতে ইমামতি করেন শাহ সুফি সৈয়দ বেলাল নূরী আল সুরেশ্বরী এবং মাওলানা মো. জুলহাস উদ্দিন।
ঈদের জামাতে জেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা কয়েক হাজার অনুসারী অংশ নেন। জামাত শেষে দেশ, জাতি ও মুসলিম উম্মাহর শান্তি, অগ্রগতি ও কল্যাণ কামনা করে বিশেষ মোনাজাত করা হয়। পরে মুসল্লিদের ভুনা খিচুড়ি, সেমাইসহ বিভিন্ন মিষ্টান্ন পরিবেশন করা হয়।
১৯২৮ সাল থেকে মধ্যপ্রাচ্যের সঙ্গে মিল রেখে শরীয়তপুরের অন্তত ৩০ গ্রামের শাহ সুরেশ্বরীর অনুসারীরা একদিন আগে ঈদুল আজহা উদযাপন করে আসছেন। একই সঙ্গে তারা পশু কোরবানির পরিবর্তে আত্মশুদ্ধি ও আধ্যাত্মিক সাধনার ওপর গুরুত্ব দিয়ে থাকেন।
পশু কোরবানি না করার বিষয়ে দরবার শরীফের গদীনশীন পীর সৈয়দ কামাল নূরী বলেন, ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহাসহ সব ধর্মীয় উৎসব আমরা সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে পালন করি। নিজের ভেতরের পশুত্বকে কোরবানি করাটাই আমরা প্রকৃত কোরবানি মনে করি। বায়াতের মাধ্যমে আমরা পীরের নির্দেশনা মেনে চলি। আমরা রোজা রাখি, নামাজ আদায় করি।
