logo
Advertisement

১০ বছর ধরে বেহাল সড়ক, কাজ পেয়েও মাঠে নেই ঠিকাদার

এশিয়া পোস্ট নিউজ
এশিয়া পোস্ট নিউজ
নীলফামারী, রংপুর
১০ বছর ধরে বেহাল সড়ক, কাজ পেয়েও মাঠে নেই ঠিকাদার
এক দশক ধরে বেহাল নীলফামারীর ডোমার উপজেলার ডোমার-বসুনিয়া সড়কটি। ছবি: এশিয়া পোস্ট

এক দশক ধরে বেহাল অবস্থায় পড়ে আছে নীলফামারীর ডোমার উপজেলার ডোমার-বসুনিয়া সড়কটি। সংস্কারের জন্য বরাদ্দ পাওয়ার পর আগের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান সামান্য কাজ করেই সড়ক ফেলে চলে যায়। পরে তাদের চুক্তি বাতিল করে জরিমানাও করা হয়। এরপর নতুন করে দরপত্র দিয়ে ঠিকাদার নিয়োগ করা হলেও কার্যাদেশ অনুযায়ী আগস্টে কাজ শুরুর কথা থাকলেও এখনও মাঠে নামেনি নতুন ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। ফলে বছরের পর বছর ধরে ভোগান্তিতে থাকা হাজারো মানুষের দুর্ভোগ যেন কাটছেই না।

ডোমার উপজেলা শহর থেকে সোনারায় ইউনিয়নের বসুনিয়া হাট পর্যন্ত প্রায় ৭ কিলোমিটার সড়কজুড়ে এখন বেহাল চিত্র। দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়ায় পিচ-পাথরের কার্পেটিং উঠে গিয়ে সৃষ্টি হয়েছে অসংখ্য গর্ত। কোথাও কোথাও বড় বড় খানাখন্দে পরিণত হয়েছে সড়ক। এসব গর্ত এড়িয়ে ঝুঁকি নিয়ে যানবাহন চলাচল করছে। এতে প্রতিনিয়ত ঘটছে ছোট-বড় দুর্ঘটনা।

জনগুরুত্বপূর্ণ এই সড়ক দিয়ে মসজিদ, স্কুল, কলেজ, হাসপাতাল, বেসরকারি ক্লিনিক, বিদ্যুৎ অফিস, ব্যাংকসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে যাতায়াত করেন স্থানীয়রা। ফলে সড়কটির বেহাল দশার প্রভাব পড়ছে শিক্ষা, চিকিৎসা ও ব্যবসা-বাণিজ্যসহ দৈনন্দিন জীবনযাত্রায়।

ছবি: এশিয়া পোস্ট
ছবি: এশিয়া পোস্ট

এলজিইডি সূত্রে জানা যায়, ডোমার উপজেলা শহর থেকে বসুনিয়ার হাট ৬ দশমিক ৭০ কিলোমিটার, ডোমার-আমবাড়ি ১৩ দশমিক ৪০০ কিলোমিটার এবং বোড়াগাড়ি থেকে বাবুরহাট ৪ দশমিক ৪০০ কিলোমিটার সড়ক একটি প্যাকেজের আওতায় সংস্কারের জন্য নেওয়া হয়। এ কাজের প্রাক্কলিত ব্যয় ছিল ২২ কোটি ৭৩ লাখ টাকা।

কাজটি পায় মোজাহার এন্টারপ্রাইজ ও ইউনিক কনস্ট্রাকশন জেভি। কার্যাদেশ পাওয়ার পর প্রতিষ্ঠানটি কাজ শুরু করলেও ২০২২ সালের অক্টোবর থেকে কাজ বন্ধ করে দেয়। দীর্ঘদিন কাজ বন্ধ থাকার পর ২০২৪ সালের জুলাইয়ে তাদের চুক্তি বাতিল করা হয়। একই সঙ্গে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে প্রায় তিন কোটি টাকা জরিমানা করে স্থানীয় সরকার বিভাগ। কিন্তু ঠিকাদারের গাফিলতির কারণেই ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে। সংস্কার না হওয়ায় সড়কটির অবস্থা দিন দিন আরও নাজুক হয়েছে, ফলে প্রতিনিয়ত বাড়ছে ভোগান্তি।

পুরোনো কাজ বাতিলের পর ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ওই প্যাকেজের পুনঃদরপত্র আহ্বান করা হয়। এবার কাজটি পায় এসবি জেভি। ২০ কোটি ৯৮ লাখ ৯০ হাজার টাকা চুক্তিমূল্যে প্রতিষ্ঠানটিকে কার্যাদেশ দেওয়া হয়। কার্যাদেশ অনুযায়ী আগস্ট মাসেই কাজ শুরুর কথা ছিল। কিন্তু নির্ধারিত সময় পার হয়ে গেলেও সড়ক সংস্কারের দৃশ্যমান কোনো কাজ দেখা যায়নি।

স্থানীয় বাসিন্দা আবু হোসেন বলেন, রাস্তা দিয়ে যানবাহন নিয়ে চলাচল করার মতো অবস্থা নেই। দীর্ঘদিন ধরে পুরো রাস্তায় গর্ত হয়ে আছে। দ্রুত রাস্তাটি সংস্কার করা জরুরি।

আরেক বাসিন্দা কামরুল ইসলাম বলেন, তারা প্রতিদিন এই রাস্তা দিয়ে যাতায়াত করেন। দীর্ঘদিন পার হলেও রাস্তার সংস্কার হয়নি। বিষয়টি নিয়ে এলাকাবাসী একাধিকবার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে জানিয়েছেন।

অটোরিকশাচালক রহিদুল ইসলাম বলেন, প্রতিদিন এই রাস্তা দিয়ে যাত্রী নিয়ে চলাচল করতে হয়। রাস্তার গর্তের কারণে অনেক সময় দুর্ঘটনা ঘটে। কেউ অসুস্থ হলে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়াও সম্ভব হয় না। রাস্তাটির কারণে তারা চরম ভোগান্তিতে আছেন।

ছবি: এশিয়া পোস্ট
ছবি: এশিয়া পোস্ট

অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী তাসনিয়া ইসলাম বলেন, আমি প্রায় ২-৩ বছর ধরে এই রাস্তা দিয়ে স্কুলে যাচ্ছি, তখন থেকেই দেখছি রাস্তার এমন অবস্থা। বৃষ্টি হলে যাওয়ার সময় যদি সাবধানেও স্কুলে যাই, ফেরার পথে ড্রেসে কাদা মেখেই বাড়ি ফিরতে হয়। কবে যে এই রাস্তা ঠিক হবে, তার কোনো নিশ্চয়তা কেউ দিতে পারে না।

কাজ শুরু না হওয়ার বিষয়ে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি এ এইচ এম সাইফুল্লাহ রুবেল এশিয়া পোস্টকে বলেন, সেখানে এখনো মেজারমেন্ট এবং ভ্যারিয়েশনের কিছু সমস্যা আছে। সে সমস্যাগুলো নিয়ে ইঞ্জিনিয়ার কাজ করছেন; আশা করা যাচ্ছে শীঘ্রই কাজ শুরু হবে। একই প্যাকেজের আওতায় ৩টি রাস্তার কাজ আছে, আমরা একটি রাস্তার কাজ শুরু করেছি। ধারাবাহিকভাবে সেটির কাজও করা হবে।

জেলা এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী মো. শামিম আখতার এশিয়া পোস্টকে বলেন, আগে যাদের কাজ দেওয়া হয়েছিল, তারা সামান্য কাজ করেই চলে যায়। পরে কাজটি এসবি জেভিকে দেওয়া হয়েছে। একই প্যাকেজের আওতায় ৩টি রাস্তা রয়েছে। আমার জানামতে তারা একটি রাস্তার কাজ শুরু করেছে, ধারাবাহিকভাবে বাকিগুলোও করবে। তবে কতদিন পর করবে, তা নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না।