logo

রামিসার কবর জিয়ারত করলেন দুই এমপি

এশিয়া পোস্ট নিউজ
এশিয়া পোস্ট নিউজ, মুন্সীগঞ্জ
রামিসার কবর জিয়ারত করলেন দুই এমপি
মুন্সীগঞ্জে রামিসার কবর জিয়ারত করেছেন দুইজন সংসদ সদস্য। ছবি: এশিয়া পোস্ট

ধর্ষণের শিকার হয়ে নিহত শিশু রামিসার কবর জিয়ারত করেছেন দুইজন সংসদ সদস্য। তাদের সঙ্গে ছিলেন জেলা পরিষদের প্রশাসক ও বিএনপির কেন্দ্রীয় এক নেতা।

শনিবার (২৩ মে) বেলা ১১টার দিকে মুন্সীগঞ্জের সিরাজদিখান উপজেলার শিয়ালদি মোল্লাবাড়ি কবরস্থানে গিয়ে তারা জিয়ারতে অংশ নেন।

কবর জিয়ারত করেন মুন্সীগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য কামরুজ্জামান রতন, সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য ফাহিমা নাসরিন মুন্নি, মুন্সীগঞ্জ জেলা পরিষদের প্রশাসক এ কে এম এরাদাদ মানু ও বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির স্বেচ্ছাসেবক বিষয়ক সম্পাদক মীর সরফত আলী সপু।

এ সময় সংসদ সদস্য কামরুজ্জামান রতন বলেন, প্রধানমন্ত্রী ভুক্তভোগী পরিবারের দায়িত্ব নিয়েছেন। সংশ্লিষ্টদের প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়ার নির্দেশনা দিয়েছেন। তিনি এ ঘটনা নিয়ে কোনো ধরনের রাজনৈতিক অপব্যবহার না করার আহ্বান জানান।

সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য ফাহিমা নাসরিন মুন্নি বলেন, দেশে শিশু নির্যাতনকারীদের কোনো স্থান নেই। এ ধরনের অপরাধের সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত বিচারের আওতায় এনে সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানান তিনি।

জেলা পরিষদের প্রশাসক এ কে এম এরাদাদ মানু বলেন, শিশু ধর্ষণের মতো জঘন্য অপরাধের বিরুদ্ধে দ্রুততম সময়ে সুষ্ঠু বিচার নিশ্চিত করা জরুরি।

বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা মীর সরফত আলী সপু বলেন, সরকার এ বিষয়ে আন্তরিক থাকলেও কেউ যেন এই ঘটনাকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করতে না পারে, সে বিষয়ে সবাইকে সজাগ থাকতে হবে।

জিয়ারত শেষে তারা নিহত শিশুর রুহের মাগফিরাত কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত করেন।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন, মুন্সীগঞ্জ জেলা বিএনপির সদস্য মোশারফ হোসেন কুস্তি, জেলা যুবদলের সদস্য সচিব মোজাম্মেল হক মুন্না, জেলা ছাত্রদলের সভাপতি জামাল হোসেনসহ বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীরা।

গত সপ্তাহ পল্লবীতে দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী রামিসা আক্তারকে (৭) ধর্ষণের পর নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়। ১৯ মে প্রতিবেশী সোহেল রানার ফ্ল্যাটের খাটের নিচ থেকে রামিসার মাথাবিহীন দেহ এবং বাথরুম থেকে খণ্ডিত মাথা উদ্ধার করে পুলিশ।

তদন্তের পর পুলিশ জানায়, স্কুলে যাওয়ার সময় রামিসাকে ফুসলিয়ে নিজের ঘরে নিয়ে ধর্ষণ করে সোহেল। পরে অপরাধ ঢাকতে তাকে গলা কেটে হত্যা ও লাশ গুমের চেষ্টা চালায়।

এ ঘটনায় মূল ঘাতক সোহেল রানা ও তার সহযোগী স্ত্রী স্বপ্না খাতুনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। সোহেল আদালতে নিজের অপরাধ স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছে। এই নির্মম হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে ও দ্রুত বিচারের দাবিতে দেশজুড়ে তীব্র ক্ষোভ ও বিক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।