সুন্দরবনে অপহৃত বনকর্মীকে চোখ বেঁধে রেখে গেল বনদস্যুরা

সুন্দরবনে বনদস্যুদের হাতে অপহৃত হওয়ার তিন দিন পর বন বিভাগের বেতার চালক মো. ফরিদুল ইসলামসহ তিনজন মুক্তি পেয়েছেন।
শুক্রবার (১২ জুন) ভোরে বনদস্যুরা সুন্দরবনের আমবাড়িয়া এলাকায় চোখ বেঁধে তাদের ছেড়ে দেয়। পরে বনরক্ষীরা তাদের উদ্ধার করেন।
জানা গেছে, গত মঙ্গলবার (৯ জুন) বিকেলে বনদস্যু জাহাঙ্গীর বাহিনীর সদস্যরা সুন্দরবনের শরণখোলা রেঞ্জের কালামিয়া এলাকা থেকে বন বিভাগের দুবলা ফরেস্ট টহল ফাঁড়ির বেতার চালক মো. ফরিদুল ইসলাম, ট্রলারের মাঝি তোফাজ্জেল সরদার এবং তার সহকারী মো. আলকাসকে অস্ত্রের মুখে অপহরণ করে নিয়ে যায়।
সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) মো. রেজাউল করিম চৌধুরী এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, ফরিদুল ইসলাম নিজ বাড়ি জামালপুর থেকে ছুটি কাটিয়ে মঙ্গলবার দুপুরে পাথরঘাটা উপজেলার পদ্মা স্লুইসগেট থেকে তোফাজ্জেল সরদারের ট্রলারে করে দুবলা ফরেস্ট অফিসের উদ্দেশ্যে রওনা হন। ট্রলারটিতে মাঝি তোফাজ্জেল ও তার সহকারী আলকাসও ছিলেন।
পথে ট্রলারটি সুন্দরবনের শরণখোলা রেঞ্জের কটকা বন অফিসে যাত্রাবিরতি দেয়। পরে দুবলায় যাওয়ার পথে বিকেল ৫টার দিকে কালামিয়া এলাকায় পৌঁছালে বনদস্যু জাহাঙ্গীর বাহিনীর সদস্যরা ট্রলারটিতে হামলা চালিয়ে তিনজনকে অপহরণ করে নিয়ে যায়। এরপর তাদের সুন্দরবনের অজ্ঞাত স্থানে আটকে রাখা হয়।
নির্ধারিত সময়ে ফরিদুল ইসলাম দুবলা ফরেস্ট অফিসে না পৌঁছানোয় বন বিভাগে উদ্বেগ দেখা দেয়। এ ঘটনায় শরণখোলা ফরেস্ট স্টেশনের কর্মকর্তা (ফরেস্ট রেঞ্জার) মো. খলিলুর রহমান বাদী হয়ে শরণখোলা থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেন।
অপহৃতদের উদ্ধারে বন বিভাগ, কোস্টগার্ড এবং অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা যৌথ অভিযান শুরু করেন। নিখোঁজ বনকর্মীর সন্ধানে সুন্দরবনের বিভিন্ন এলাকায় ড্রোন ব্যবহার করে তিন দিনব্যাপী ব্যাপক তল্লাশি চালানো হয়।
সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) মো. রেজাউল করীম চৌধুরী বলেন, বনদস্যুরা শুক্রবার ভোররাতে আমবাড়িয়া এলাকায় চোখ বেঁধে অপহৃত তিনজনকে ছেড়ে দেয়। পরে বনরক্ষীরা তাদের উদ্ধার করে নিরাপদে নিয়ে আসে।
তিনি বলেন, ফরিদুল ইসলাম বন বিভাগের কর্মী বলে নিশ্চিত হওয়ার পর বনদস্যুরা অপহৃতদের কাছে কোনো মুক্তিপণ দাবি করেনি।
