চাঁদা চাইলেও দেননি, ৪ দিন পর দুই হাত বিচ্ছিন্ন মরদেহ উদ্ধার

চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলার সরফভাটা ইউনিয়নে নৃশংস হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছেন মো. নেজাম উদ্দিন (৪৫) নামের এক কৃষক। বন্য হাতির আক্রমণ থেকে ফসল রক্ষায় ধানখেত পাহারা দিতে গিয়ে তিনি এই হত্যাকাণ্ডের শিকার হন। এর চার দিন আগে তার কাছে চাঁদা চেয়েছিল স্থানীয় একদল সন্ত্রাসী। তবে তিনি চাঁদা দেননি। এর মধ্যে আজ তার মরদেহ উদ্ধার করলো পুলিশ।
সোমবার (২৭ অক্টোবর) রাতে বাড়ি থেকে জমি পাহারা দেওয়ার উদ্দেশ্যে বের হওয়ার পরদিন সকালে তার মরদেহ উদ্ধার করে পরিবার। নিহতের মরদেহের দুই হাত বিচ্ছিন্ন এবং গলায় রশি প্যাঁচানো ছিল বলে জানিয়েছে পরিবার ও স্থানীয়রা।
নিহত নেজাম উদ্দিন সরফভাটা ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের সুইসগেট এলাকার মৃত রফিকুল ইসলামের ছেলে। তার স্ত্রী পারভিন আক্তার (৩৬) এবং তাদের এক ছেলে ও দুই মেয়ে রয়েছে।
পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য, নেজাম দীর্ঘদিন ধরে কৃষিকাজ ও পশু পালন করে জীবিকা নির্বাহ করতেন। বাড়ি থেকে বেশ দূরের পাহাড়ি এলাকায় তিনি ধান চাষ করতেন। বন্য হাতির উপদ্রব থেকে ফসল রক্ষা করতে প্রায়ই রাতে জমি পাহারা দিতে যেতেন তিনি।
গত সোমবার রাত ৮টার দিকে নিয়মিত কাজের অংশ হিসেবে ধানখেত পাহারা দিতে বাড়ি থেকে বের হন নেজাম। তবে সারারাত পেরিয়ে গেলেও সকালে তিনি বাড়ি না ফেরায় পরিবারের সদস্যরা উদ্বিগ্ন হয়ে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। এক পর্যায়ে চাষাবাদের জমি থেকে প্রায় ২০০ মিটার দূরে তার ক্ষতবিক্ষত মরদেহ পড়ে থাকতে দেখেন তারা।
নিহতের স্ত্রী পারভিন আক্তার জানান, তার স্বামীর সঙ্গে স্থানীয় কারও কোনো ব্যক্তিগত বিরোধ ছিল না। এ ঘটনায় ঠিক কার দিকে সন্দেহের আঙুল তুলবেন, সে বিষয়েও তারা নিশ্চিত নন।
ওই কৃষকের প্রতিবেশী ও স্বজন নুরুল আলম জানান, চার দিন আগে ঘর নির্মাণকে কেন্দ্র করে নেজামের কাছে চাঁদা চেয়েছিল সন্ত্রাসীরা। চাঁদা না দেওয়ায় তাকে হত্যা করা হতে পারে।
তবে স্থানীয় কয়েকটি সূত্রের দাবি, কৃষিজমি নিয়ে বিরোধ কিংবা বাড়ি নির্মাণসংক্রান্ত কোনো বিষয়কে কেন্দ্র করে এই হত্যাকাণ্ড ঘটে থাকতে পারে। যদিও এসব দাবির সত্যতা এখনো নিশ্চিত করা যায়নি। হত্যাকাণ্ডের নেপথ্য প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনে নিরপেক্ষ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নিবিড় তদন্ত প্রয়োজন বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।
দক্ষিণ রাঙ্গুনিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে এশিয়া পোস্টকে জানান, নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে পুলিশের সর্বোচ্চ চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।
প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত এ ঘটনায় কোনো মামলা দায়ের হয়নি এবং কাউকে গ্রেপ্তার করা যায়নি। নৃশংস এই হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটন এবং জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
