logo

ফটিকছড়িতে খণ্ডিত দেহের পর খুলি উদ্ধার ঘিরে রহস্য

এশিয়া পোস্ট নিউজ
এশিয়া পোস্ট নিউজ, চট্টগ্রাম
ফটিকছড়িতে খণ্ডিত দেহের পর খুলি উদ্ধার ঘিরে রহস্য
তদন্তে ঘটনাস্থলে পুলিশ। ছবি: এশিয়া পোস্ট

চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলার পাইন্দং ইউনিয়নে এক সপ্তাহের ব্যবধানে একটি খণ্ডিত মরদেহ ও দেহবিহীন মানুষের খুলি উদ্ধার করেছে পুলিশ। এক কিলোমিটারের ব্যবধানে দুটি ভিন্ন টিলায় দুটি ঘটনা ঘিরে রহস্য সৃষ্টি হয়েছে।

শুক্রবার (১৫ মে) দুপুরে পাইন্দং ডলু আশ্রয়ণ প্রকল্পের পাশের একটি টিলার খাদ থেকে মানুষের খুলিটি উদ্ধার করা হয়। এর আগে গত শনিবার (৯ মে) একই ইউনিয়নের নতুন আশ্রয়ণ এলাকার আরেকটি টিলা থেকে অজ্ঞাতপরিচয় নারীর মাথাবিহীন গলিত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

স্থানীয়দের ধারণা, শুক্রবার উদ্ধার হওয়া খুলিটি গত সপ্তাহে উদ্ধার করা সেই নারীর মরদেহেরই অংশ হতে পারে। তবে পুলিশ জানিয়েছে, নিশ্চিত হওয়ার জন্য ডিএনএ পরীক্ষা করা প্রয়োজন।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, পাইন্দং ডলু আশ্রয়ণ প্রকল্পের বাসিন্দা শিরু আক্তার শুক্রবার দুপুরে টিলার ঢালে একটি সাদা বস্তু দেখতে পান। কাছে গিয়ে সেটি মানুষের খুলি বলে নিশ্চিত হওয়ার পর তিনি আতঙ্কিত হয়ে পড়েন এবং স্থানীয় এক দোকানদারকে বিষয়টি জানান। পরে খবর পেয়ে ফটিকছড়ি থানা-পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়।

এ বিষয়ে প্রত্যক্ষদর্শী শিরু আক্তার বলেন, ছাগল খুঁজতে গিয়ে সাদা রঙের মাথার মতো কিছু একটা দেখতে পাই। কাছে গিয়ে যখন বুঝতে পারি এটি মানুষের খুলি, তখন ভীষণ ভয় পেয়ে দ্রুত সেখান থেকে চলে আসি এবং লোকজনকে জানাই।

ফটিকছড়ি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি, তদন্ত) মো. রফিকুল ইসলাম এশিয়া পোস্টকে বলেন, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, এটি কয়েক দিন আগে একই এলাকায় উদ্ধার হওয়া মাথাবিহীন নারীর মরদেহের অংশ। তবে ফরেনসিক ও ডিএনএ পরীক্ষার আগে নিশ্চিত করে কিছু বলা যাচ্ছে না। ঘটনার রহস্য উদ্‌ঘাটনে আমাদের তদন্ত দল সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে।

এর আগে গত শনিবার বিকেলে পাইন্দং ইউনিয়নের নতুন আশ্রয়ণ এলাকার একটি টিলায় স্থানীয় কয়েকজন শিশু বনমোরগ শিকারে গিয়ে এক নারীর মাথাবিহীন মরদেহটি দেখতে পায়। পুলিশ তখন মরদেহটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠালেও কয়েক দিন অভিযান চালিয়েও বিচ্ছিন্ন মাথার সন্ধান মেলাতে পারেনি। সপ্তাহ পার হতেই মরদেহের কাছাকাছি এলাকা থেকে খুলি উদ্ধারের পর পুলিশ এখন হত্যাকাণ্ডের মোটিভ ও ভুক্তভোগীর পরিচয় নিশ্চিত করার ওপর জোর দিচ্ছে।