
সীমান্তের এক পাশে পাহাড়। আরেক পাশে বাংলাদেশের জনপদ। মাঝখানে কাঁটাতার, কোথাও নদী-ছড়া, কোথাও ফসলের মাঠ। দিনের বেলায় এখানে মানুষের জীবন চলে সরল নিয়মে। কৃষক মাঠে যান, রাখাল গবাদিপশু চড়ান, বাজারে কেনাবেচা হয়। সীমান্ত যেন এই জনজীবনেরই আরেকটি অংশ।
কিন্তু রাত নামলেই বদলে যায় সেই চিত্র। নির্জন পথে শুরু হয় ছোট ছোট দলের আনাগোনা। কারও হাতে ছোট বস্তা, কারও সঙ্গে মোটরসাইকেল। কোথাও অন্ধকারে অপেক্ষা করে পিকআপ, সীমান্তের ওপার থেকে আসা অবৈধ পণ্য চলে যায় এক হাত থেকে আরেক হাতে। কয়েক মিনিটের এই লেনদেনের পর বদলে যায় বাহক, যানবাহন ও পথ। সীমান্ত পেরিয়ে আসা অবৈধ পণ্য তখন আর সীমান্তের বিষয় থাকে না, ছড়িয়ে পড়ে স্থানীয় বাজার থেকে শহর, কখনও দেশের অন্য প্রান্তে।
এই অবৈধ চালানগুলো সীমান্ত পার হওয়ার পর ভাগ হয়ে যায় কয়েকটি অংশে। কেউ বহন করে, কেউ পাহারা দেয়, কেউ গুদামে রাখে, কেউ আবার বাজারে পৌঁছে দেয়। ফলে কোনো এক অংশে অধিকাংশ সময় একটি চালান আটকা পড়লেও এর পেছনে থাকা পুরো নেটওয়ার্ক প্রায় অক্ষত থেকে যায়।
ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট ও ধোবাউড়া থেকে নেত্রকোণার দুর্গাপুর ও কলমাকান্দা হয়ে শেরপুরের নালিতাবাড়ী, ঝিনাইগাতী ও শ্রীবরদী পর্যন্ত ভারতের মেঘালয়ঘেঁষা সীমান্তে স্থানীয় বাসিন্দা, ব্যবসায়ী ও কয়েকজন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে মাদক চোরাচালানের এমন একটি বিস্তৃত চিত্র পাওয়া গেছে। এভাবে বিদেশি মদ ও নেশাজাতীয় ট্যাবলেটের পাশাপাশি চিনি, বিস্কুট, মসলা, পোশাক, কম্বল, প্রসাধনসামগ্রীসহ বিভিন্ন ভারতীয় পণ্যও অবৈধ পথে আসার অভিযোগ রয়েছে।
চোরাচালানের এই বাজারে সবচেয়ে বেশি উদ্বেগ মাদক নিয়ে। সীমান্তের বাসিন্দারা জানান, রাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে নির্জন পথগুলোতে অন্ধকারে মানুষের চলাচল বাড়ে। তবে তারা সবাই চোরাকারবারি কি না, তা নিশ্চিত করে বলা কঠিন। কারণ বৈধ প্রয়োজনে সীমান্ত এলাকায় মানুষের চলাচলও রয়েছে। এই সুযোগটিই চোরাকারবারিরা কাজে লাগায়।
তাদের ভাষ্য, ‘যে মানুষটি সন্ধ্যায় মাঠ থেকে বাড়ি ফিরছেন আর যে মানুষটি একই পথে মাদক বহন করছেন দূর থেকে দুজনকে আলাদা করা কঠিন। চোরাকারবারিরা এই বাস্তবতাটাই কাজে লাগায়।’
ময়মনসিংহ ৩৯ বিজিবির দায়িত্বাধীন প্রায় ৮০ কিলোমিটার সীমান্তে বিদেশি মদ ও ট্যাপেন্টাডল চোরাচালানের কথা জানিয়েছেন বাহিনীর কর্মকর্তারা। তাদের দাবি, ধারাবাহিক অভিযানে ট্যাপেন্টাডল পাচার কিছুটা কমেছে। তবে সীমান্তের বিস্তৃতি, ভূপ্রকৃতি ও জনবলের সীমাবদ্ধতার কারণে প্রতিটি অংশে একই মাত্রায় নজরদারি রাখা কঠিন।
সীমান্তের ভূগোল এখানে চোরাচালানের অন্যতম সহায়ক উপাদান। পাহাড়, বন, ছড়া ও উন্মুক্ত জমির পাশাপাশি সীমান্তের কাছাকাছি রয়েছে বসতি ও কৃষিজমি। ফলে শুধু সীমান্তরেখা পাহারা দিলেও পুরো সরবরাহব্যবস্থা নিয়ন্ত্রণ করা যায় না। সীমান্ত পার হওয়ার পর পণ্য কোথায় যাচ্ছে, কার কাছে যাচ্ছে এবং কোন সড়ক ব্যবহার করছে সেটিও নজরদারির আওতায় আনা প্রয়োজন বলে মনে করেছেন সংশ্লিষ্টরা।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারীদের মতে, চোরাচালানের অর্থনীতি টিকে আছে মূলত দামের ব্যবধান ও বাজারের চাহিদায়। বৈধ আমদানির ক্ষেত্রে শুল্ক, কর ও পরিবহন ব্যয় থাকে। অবৈধ পথে আনা পণ্যে এসব ব্যয় এড়িয়ে যাওয়া যায়। ফলে কম দামে পণ্য বিক্রি করেও লাভ করা সম্ভব হয়। ভারতীয় চিনির ক্ষেত্রে এর একটি সুস্পষ্ট উদাহরণ পাওয়া যায়। সীমান্ত দিয়ে বাইসাইকেল ও মোটরসাইকেলে চিনি আনার পর ভারতীয় বস্তা বদলে দেশীয় প্রতিষ্ঠানের বস্তায় ভরা হয় বলে স্থানীয় সূত্রের অভিযোগ জানা গেছে। এরপর কয়েক দফা হাতবদলের মাধ্যমে তা পৌঁছে যায় পাইকারি বাজারে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, সীমান্ত পারাপারের শ্রমিক বা বাহকরা সাধারণত নেটওয়ার্কের নিচের স্তরে থাকে। পণ্যের অর্থায়ন, পরিবহন, মজুত ও বাজারজাতকরণের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিরা তুলনামূলকভাবে আড়ালেই থাকেন।
জানা গেছে, সীমান্তের আরেকটি উদ্বেগের জায়গা গবাদিপশু ও অন্যান্য ভারতীয় পণ্য। অরক্ষিত অংশ দিয়ে ভারতীয় গরু এনে স্থানীয় হাটে নেওয়া এবং স্থানীয় বাজারের কাগজপত্র ব্যবহার করে বৈধতা দেখানোর অভিযোগ রয়েছে। একইভাবে ভারতীয় পণ্য স্থানীয় বাজারে ঢুকে বৈধ পণ্যের সঙ্গে মিশে যাওয়ার সুযোগ তৈরি করে।
ফলে সীমান্তে চোরাচালানের ক্ষতি শুধু মাদকাসক্তি বাড়ার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। এতে বৈধ ব্যবসা প্রতিযোগিতায় চাপে পড়ে এবং সরকার সম্ভাব্য রাজস্ব হারায়। আর চোরাচালানের অর্থনীতি যত বড় হয়, ততই এর সঙ্গে যুক্ত মানুষের সংখ্যা বাড়ার ঝুঁকি থাকে।
ময়মনসিংহ শহর ও জেলার বিভিন্ন এলাকায় মাদক সরবরাহে নারীদের একটি অংশ যুক্ত হয়েছে বলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী জানিয়েছে। অভিযানে পুরুষের পাশাপাশি নারী মাদক কারবারিদেরও গ্রেপ্তার করা হচ্ছে।
শহরে মাদকের বিস্তার নিয়েও উদ্বেগ বাড়ছে। স্থানীয় সূত্রগুলো বলছে, নগরীর পাটগুদাম, চরপাড়া, ব্রাহ্মপল্লী, সেহড়া চামড়াগুদাম, পুরোহিতপাড়া, নতুন বাজার, কৃষ্টপুর, আকুয়া, সানকিপাড়া, তিনকোনা পুকুরপাড়, সেনবাড়ি, কাঁচিঝুলি, কেওয়াটখালী, মাসকান্দা, চায়নামোড়, শম্ভুগঞ্জ মোড়, চর কালিবাড়ি, সদরের রাঘবপুর এলাকায় মাদক কেনাবেচা জমজমাট। এছাড়া বিভিন্ন এলাকায় চলছে মাদকের জমজমাট কারবার।
হালুয়াঘাটের মনির হোসেন নামের এক ব্যবসায়ী বলেন, ‘চোরাই পণ্য সীমান্তে থাকে না। কয়েক ঘণ্টার মধ্যে সেটি বাজারে চলে যায়। তাই শুধু সীমান্তে পাহারা দিয়ে লাভ কম। পণ্য যখন শহরের দিকে যায়, তখনও নজরদারি দরকার।’
ধোবাউড়া সীমান্ত এলাকার জিতেন হাজং নামের একজন বাসিন্দা বলেন, ‘একজনকে ধরলে হয়তো একটি চালান বন্ধ হয়, কিন্তু টাকা যার, পণ্য যার, বাজারে যার যোগাযোগ সে যদি বাইরে থাকে, তাহলে পরদিনই অন্য লোক দিয়ে নতুন চালান আসবে।’
মাদক পাচারের ক্ষেত্রেও একই কাঠামো কাজ করছে বলে স্থানীয়দের অভিযোগ। হালুয়াঘাট ও ধোবাউড়া সীমান্ত দিয়ে গাঁজা, ইয়াবা, ফেনসিডিল, ভারতীয় মদ ও নেশাজাতীয় সিরাপ ঢোকার কথা জানিয়েছে বিভিন্ন সূত্র। সীমান্তের পর এগুলো ছড়িয়ে পড়ছে স্থানীয় বাজারে। সড়কপথে চলে যাচ্ছে ময়মনসিংহ শহরসহ দেশের অন্য এলাকাতেও।
শুধু সীমান্ত নয়, ময়মনসিংহে মাদক আসার একাধিক পথের কথাও জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সূত্র। কক্সবাজার-চট্টগ্রাম ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া অঞ্চলের মাদক ময়মনসিংহের নান্দাইল হয়ে ময়মনসিংহ শহর ও জেলার বিভিন্ন এলাকায় আসার অভিযোগ রয়েছে। ঢাকা থেকে ভালুকা হয়েও মাদক ঢোকে। শেরপুর থেকেও ময়মনসিংহ অঞ্চলে হেরোইন ছড়িয়ে পড়ার তথ্য রয়েছে। অর্থাৎ ময়মনসিংহের মাদকবাজারকে শুধু সীমান্তনির্ভর একটি বাজার হিসেবে দেখলে পুরো চিত্রটি পাওয়া যাবে না। সীমান্তপথের পাশাপাশি দেশের ভেতরের বিভিন্ন আন্ত:জেলা রুটও এর সঙ্গে যুক্ত।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অভিযানে এই নেটওয়ার্কের বিভিন্ন স্তরের সদস্য মাঝেমধ্যে ধরা পড়ছেন, উদ্ধার হচ্ছে মাদকও। কিন্তু প্রশ্ন থেকেই যায়—এত অভিযানের পরও সরবরাহ বন্ধ হচ্ছে না কেন? এর উত্তর খুঁজতে গেলে সামনে আসে ‘বদলি রুট’ ও ‘বদলি মানুষ’-এর কৌশল। একটি এলাকায় অভিযান বাড়লে অন্য এলাকায় সরিয়ে নেওয়া হয় চালান। পরিচিত বাহকের বদলে নতুন কাউকে ব্যবহার করা হয়। মোটরসাইকেলের পরিবর্তে অন্য যান ব্যবহার করা হয়। সীমান্ত থেকে সরাসরি বাজারে না নিয়ে মাঝপথে পণ্য নামিয়ে দেওয়া হয়।
স্থানীয় নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিদের মতে, বহনকারী গ্রেপ্তার হলেই যদি অভিযান শেষ হয়, তাহলে নেটওয়ার্কের অর্থদাতা ও সমন্বয়কারীরা অক্ষত থেকে যেতে পারেন। তাদের শনাক্ত করতে আর্থিক লেনদেন, যোগাযোগ, পরিবহন ও বাজারজাতকরণের তথ্য বিশ্লেষণ করা দরকার।
ময়মনসিংহ মঞ্চের সমন্নয়কারী ইমতিয়াজ আহমেদ তানসেন বলেন, একটি মাদকের চালান আটক হলে আরেকটি চালান অন্য পথে আসে। একটি বাহক গ্রেপ্তার হলে অন্য কাউকে ব্যবহার করা হয়। একটি রুট নজরদারিতে এলে বিকল্প পথ খোঁজা হয়। সীমান্ত থেকে বাজারে পৌঁছানোর পর পণ্যের পরিচয়ও বদলে যেতে পারে। এই ব্যবস্থার বিপরীতে শুধু আরও বেশি অভিযান যথেষ্ট কি না, সেই প্রশ্ন এখন সামনে। কারণ সীমান্তের অপরাধকে সীমান্তে আটকে রাখা যাচ্ছে না। সীমান্ত পেরোনোর কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই তা সড়কপথে ছড়িয়ে পড়ছে শহর ও গ্রামে।
ময়মনসিংহ জেলা নাগরিক আন্দোলনের সভাপতি আইনজীবী খালেকুজ্জামান মনে করেন, শুধু খুচরা বিক্রেতা বা বহনকারীদের গ্রেপ্তার করে সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়। তার মতে, নেপথ্যের কারবারি ও অর্থের জোগানদাতাদের আইনের আওতায় আনা জরুরি।
ট্রাইবাল ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক বিপুল হাজংয়ের মতে, দিনের সীমান্ত আর রাতের সীমান্ত—দুটি যেন একই ভূখণ্ডের দুই আলাদা চেহারা। দিনের আলোয় যেখানে কৃষকের জমি, রাতের অন্ধকারে সেখানেই তৈরি হচ্ছে অবৈধ বাণিজ্যের পথ। আর সেই পথ ধরে সীমান্ত পেরিয়ে আসা একটি ছোট প্যাকেট মাদক, একটি বস্তা চিনি কিংবা একটি বোতল বিদেশি মদ শেষ পর্যন্ত পৌঁছে যাচ্ছে বহু দূরের বাজারে। চোরাচালানের এই নেটওয়ার্ক ভাঙতে হলে তাই শুধু সীমান্তের অন্ধকার পথ নয়, অনুসরণ করতে হবে পণ্যের গতিপথ। সীমান্ত থেকে বাহক, বাহক থেকে পরিবহন, পরিবহন থেকে গুদাম, গুদাম থেকে পাইকার, আর সেখান থেকে খুচরা বাজার পর্যন্ত।
জেলা গোয়েন্দা পুলিশ বলছে, জেলা শহর ও বিভিন্ন উপজেলায় নজরদারি রয়েছে। নিয়মিত অভিযান চালিয়ে মাদক কারবারিদের গ্রেপ্তার করা হচ্ছে। কিন্তু জামিনের পর আবার একই অপরাধে জড়িয়ে পড়ার অভিযোগ থাকায় দীর্ঘমেয়াদি প্রতিরোধ নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে।
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের ময়মনসিংহের উপ-পরিচালক আনোয়ার হোসেন বলেন, দেশে উৎপাদিত নয় এমন অধিকাংশ মাদক সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে প্রবেশ করছে। সীমান্তে নজরদারি আরও জোরদার করা প্রয়োজন। আমার দপ্তরের সদস্যরাও মাদক কারবারিদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তার করছেন।
স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি) ১৪- ময়মনসিংহের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. সামসুজ্জামান জানান, অভিযানে নারী মাদক কারবারিরাও গ্রেপ্তার হচ্ছেন। মাদকের বিস্তার কমাতে সামাজিক সচেতনতা বাড়ানো প্রয়োজন।
ময়মনসিংহের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ কামরুল হাসান বলেন, গ্রেপ্তার হওয়া মাদক কারবারিদের কেউ কেউ আদালত থেকে জামিনে এসে আবার একই কারবারে জড়িয়ে পড়ছে। পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
বর্ডার গার্ড বাংলাদেশও (বিজিবি) প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারির প্রয়োজনীয়তার কথা বলছে। এ বিষয়ে ময়মনসিংহ ৩৯ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল নুরুল আজিম বায়েজিদ বলেন, বিদেশি মদ ও ট্যাপেন্টাডল চোরাচালানের প্রবণতা রয়েছে। বর্তমানে ট্যাপেন্টাডল পাচার কিছুটা কমেছে। তবে জনবল ও আধুনিক নজরদারি বাড়ানো গেলে চোরাচালান নিয়ন্ত্রণ আরও কার্যকর হবে।
নেত্রকোণা-৩১ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল তৌহিদুল বারী বলেন, দুর্গম ও উন্মুক্ত সীমান্তের সব অংশে সীমিত জনবল দিয়ে সার্বক্ষণিক নজরদারি কঠিন। চোরাকারবারিরা এই সুযোগে বিকল্প রুট ব্যবহার করে। নিয়মিত টহল, অভিযান ও গোয়েন্দা তৎপরতার মাধ্যমে তাদের কার্যক্রম ঠেকানোর চেষ্টা চলছে।
