logo

নওগাঁয় ছিনতাই চক্রের দুই সদস্য গ্রেপ্তার

নওগাঁয় ছিনতাই চক্রের দুই সদস্য গ্রেপ্তার
গ্রেপ্তার দুজন। ছবি : এশিয়া পোস্ট

নওগাঁর রানীনগর-আত্রাই-নাটোর আঞ্চলিক সড়কে চলাচলকারী পথচারী ও ব্যবসায়ীদের গতিরোধ করে ডাকাতি ও ছিনতাইয়ের ঘটনায় জড়িত চক্রের দুই মূলহোতাকে গ্রেপ্তার করেছে জেলা পুলিশ। টানা ৪৮ ঘণ্টার বিশেষ অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তারের পাশাপাশি ছিনতাই করা মোবাইল ফোন ও অপরাধে ব্যবহৃত দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে।

সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ১৭ সেপ্টেম্বর রাত আনুমানিক সাড়ে ৯টার দিকে রানীনগর-আবাদপুকুর সড়কের বেলঘড়িয়া বাজারসংলগ্ন নবীর খানের সেডের সামনের নির্জন রাস্তায় একদল অজ্ঞাতনামা দুর্বৃত্ত তাণ্ডব চালায়। চক্রটি প্রথমে এক হাঁস ব্যবসায়ী, পরে এক ভ্যানচালক এবং সর্বশেষ দুটি মোটরসাইকেলে থাকা চার আরোহীর গতিরোধ করে। দুর্বৃত্তরা ধারালো হাসুয়া ও দেশীয় অস্ত্রের মুখে তাদের জিম্মি করে এবং প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে ভুক্তভোগীদের কাছ থেকে কয়েক হাজার টাকা ও ৬-৭টি মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেয়।

এ সময় দুর্বৃত্তদের হামলায় হাবিবুর বাশার, সুজন, এরশাদ সোহেল ও ফয়সালসহ একাধিক ব্যক্তি গুরুতর আহত হন। পরে অপরাধীরা ভুক্তভোগীদের পরনের কাপড় কেটে গাছের সঙ্গে বেঁধে রেখে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়।

ঘটনার পর নওগাঁর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলামের নির্দেশে রানীনগর থানা পুলিশ, জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) ও স্পেশাল ফোর্সের সমন্বয়ে একটি তদন্ত দল গঠন করা হয়। ১৭ ও ১৮ সেপ্টেম্বর পুলিশ তথ্যপ্রযুক্তি ও উপাত্ত বিশ্লেষণের মাধ্যমে অপরাধীদের শনাক্ত করতে সক্ষম হয়।

পরবর্তীতে রানীনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নেতৃত্বে ১৯ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যা থেকে নাটোর, বগুড়া, জয়পুরহাট ও নওগাঁর বিভিন্ন সম্ভাব্য আস্তানায় টানা ৪৮ ঘণ্টা অভিযান চালানো হয়। অভিযানের ধারাবাহিকতায় ২০ সেপ্টেম্বর ছিনতাই চক্রের দুই সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তাররা হলেন—বগুড়ার আদমদীঘি থানার চা বাগান কলোনি এলাকার মো. আফসার আলীর ছেলে মো. মনিরুল ইসলাম ওরফে বাইরুল ওরফে বেলাল (৩৮) এবং নওগাঁর রানীনগর থানার রাজাপুর (ভূত রাজাপুর) গ্রামের মো. শহিদুল মন্ডলের ছেলে মো. নাহিদ হোসেন (২২)।

পুলিশের ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদে তারা স্বীকার করেন, ১৭ সেপ্টেম্বর রাতে ও ভোরে চারজনের একটি দল গঠন করে দুই দফায় ওই সড়কে ছিনতাই করেছিলেন। এর আগেও তারা নওগাঁ-নাটোর সড়কের বিভিন্ন পয়েন্টে ছিনতাইয়ের চেষ্টা চালিয়েছেন। গ্রেপ্তারের পর আসামি নাহিদ অপরাধের বিষয়টি স্বীকার করে আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।

গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ ভুক্তভোগীর একটি মোবাইল ফোনসহ একাধিক মোবাইল ফোন এবং একটি ধারালো হাসুয়া আলামত হিসেবে জব্দ করেছে।

পুলিশ জানায়, আসামি বাইরুল একজন পেশাদার ও কুখ্যাত ডাকাত। তার বিরুদ্ধে পূর্বে ডাকাতি ও ছিনতাইয়ের ছয়টি মামলা রয়েছে। দীর্ঘ ১৭ মাস কারাভোগের পর সম্প্রতি জামিনে মুক্ত হয়ে সে পুনরায় এই অপরাধচক্র গড়ে তোলে।

নওগাঁর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম সতর্ক করে জানান, নওগাঁ-রানীনগর-আত্রাই-নাটোর আঞ্চলিক সড়কে যেকোনো ধরনের ছিনতাই ও দস্যুতা দমনে জেলা পুলিশ জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করবে। সড়কগুলোতে জনসাধারণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আইন অনুযায়ী কঠোর শক্তি প্রয়োগ এবং অপরাধীদের বিরুদ্ধে দমন অভিযান অব্যাহত থাকবে।