
মাদকাসক্তি, পারিবারিক বিশৃঙ্খলা আর অনৈতিক কর্মকাণ্ডের মধ্য দিয়ে জীবন কাটিয়েছেন কুমিল্লার লালমাইয়ের স্কুলছাত্রী জান্নাতুল তাজমিন হত্যা ও ধর্ষণ মামলার আসামি সুমন মিয়া। পারিবারিক কলহের জেরে তার স্ত্রী অনেক আগেই সন্তানসহ তাকে ছেড়ে চলে গেছেন। রোববার প্রেস ব্রিফিংয়ে পুলিশ নিশ্চিত করে সুমনই এই নৃশংস হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে।
সুমন চাঁদপুরের কচুয়া উপজেলার এলাকার মৃত দেলোয়ার হোসেনের ছেলে। তিনি বিয়ের পর ঘরজামাই হিসেবে লালমাইয়ের বাগমারা ইউনিয়নের জয়নগর গ্রামে শ্বশুরবাড়িতে বসবাস করেছেন। তবে পারিবারিক বিরোধের জেরে প্রায় এক মাস আগে শ্বশুরবাড়ি ছেড়ে চলে যান সুমন।
জানা গেছে, স্ত্রীর সঙ্গে বিরোধ ও পারিবারিক অশান্তির কারণে দীর্ঘদিন ধরেই সুমনের থেকে আলাদা হয়ে সন্তানদের নিয়ে বসবাস করছেন তার স্ত্রী জেসমিন। এছাড়া শ্বশুরবাড়িতে থাকাকালে ঘরের আসবাবপত্রসহ বিভিন্ন জিনিস বিক্রি করে দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে সুমনের বিরুদ্ধে।
সুমনের স্ত্রী জেসমিন এশিয়া পোস্টকে বলেন, সে বিয়ের পর থেকে অত্যাচার করত। ঠিকমতো সংসার করত না। নেশা করে আমার বাবাকে মেরে একবার পা ভেঙে দিয়েছিল। পরে সে বিষয়ে আমরা থানায় মামলা করি। এখন আমি আমার সন্তানদের নিয়ে কাজ করে আরেক জায়গায় থাকি। ও আমাদের বাড়িতেই থাকত। যে ঘরে ছিল সে ঘরের টিন-চালা সব বিক্রি করে চলে যায়। যে সিএনজি অটোটা চালাত ওটাও ভাড়ায় নিয়েছিল। তাও এলাকার একজন আমাদের কষ্ট দেখে দিয়েছিল।
সুমনের ভায়রা (স্ত্রী জেসমিনের বোন শিরিনার স্বামী) জুবায়ের বলেন, সুমনের ১৬ বছর বয়সী একটি ছেলে ও ১৪ বছর বয়সী একটি মেয়ে রয়েছে। মাদকাসক্তি ও নির্যাতনে অতিষ্ঠ হয়ে তার সন্তানদের নিয়ে আলাদা থাকেন। সুমন শ্বশুরবাড়িতে থাকত। সেখানে বসতঘরের আসবাবপত্রসহ একে একে বিভিন্ন জিনিস বিক্রি করে দেন তিনি।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, প্রায় ছয় বছর ধরে সিএনজিচালিত অটোরিকশা চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করেছেন সুমন। দীর্ঘদিন ধরে মাদক সেবনের সঙ্গে জড়িত থাকার পাশাপাশি পারিবারিক বিরোধের জেরে লালমাই থানায় তার বিরুদ্ধে একটি মামলাও রয়েছে।
লালমাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান এশিয়া পোস্টকে বলেন, আসামির পারিবারিক বিরোধ, মাদকাসক্তি কিংবা ব্যক্তিগত জীবনের সংকট এসবের অজুহাত দেখে লাভ নেই। সে হত্যা মামলার আসামি এটাই মূল কথা। তাজমিন হত্যা মামলায় তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের বিচারিক নিষ্পত্তি আদালতের মাধ্যমেই হবে।
গত বৃহস্পতিবার সকালে কুমিল্লার লালমাই উপজেলার পেরুল উত্তর ইউনিয়নের জগৎপুর গ্রামের একটি ফসলিজমি থেকে তাজমিনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তাজমিন কুমিল্লা নগরীর ফরিদা বিদ্যায়তন উচ্চবিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেণির অনিয়মিত ছাত্রী ছিল। তার পরিবারের বাড়ি যশোরে। বাবার কর্মসূত্রে পরিবারের সঙ্গে কুমিল্লা নগরীর রেসকোর্স এলাকায় থাকত সে।
