logo

অর্ধকোটি টাকা লুট, কারাগারে সেই বিএনপি নেতা

অর্ধকোটি টাকা লুট, কারাগারে সেই বিএনপি নেতা
অভিযুক্ত বিএনপি নেতা সোহেল রানা (লাল চিহ্নিত)। ছবি : এশিয়া পোস্ট

পাবনার ভাঙ্গুড়ায় সরকারি সুবিধা দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে অর্ধকোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগের মামলায় বিএনপি নেতা সোহেল রানাকে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত। এ ঘটনার সংবাদ প্রকাশ করায় এক সাংবাদিকের নামে মামলা দায়ের করেছে অভিযুক্ত বিএনপি নেতার স্ত্রী।

বুধবার (১০ জুন) বিকেলে ‎ভাঙ্গুড়া থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাকিউল আযম তথ্যটি এশিয়া পোস্টকে নিশ্চিত করেছেন।

‎এর আগে, মঙ্গলবার (৯ জুন) পাবনার আমলি আদালত ৪-এ হাজির হয়ে জামিন চাইলে বিচারক বেবী নাজনীন তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। গত শনিবার বিভিন্ন কার্ড প্রদান ও সরকারি সুবিধা দেওয়ার প্রলোভনে প্রতারণার শিকার ৩৫ জন ভুক্তভোগী ভাঙ্গুড়া থানায় প্রতারণার অভিযোগে মামলা দায়ের করেন।

অভিযুক্ত সোহেল রানা উপজেলার পার-ভাঙ্গুড়া ইউনিয়নের রাঙ্গালিয়া গ্রামের বাসিন্দা ও ওয়ার্ড বিএনপির সহ-সভাপতি।

জানা গেছে, গত শুক্রবার (৫ জুন) রাতে প্রতারণার অভিযোগে বিএনপি নেতা সোহেল রানাকে পিটিয়ে থানায় সোপর্দ করে ভুক্তভোগীরা। কিন্তু সোহেল কৌশলে চিকিৎসার কথা বলে থানা থেকে সে সময় পালিয়ে যায়।

স্থানীয়দের ভাষ্য, সোহেল আগে থেকে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। এ ছাড়া সোহেল বিভিন্ন অনৈতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত ছিল। বিগত ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এলে সোহেল রাজনীতিতে নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়ে। পরে ভাঙ্গুড়া ত্যাগ করে চলে যায়। পরে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পরে সোহেল ভাঙ্গুড়াতে ফিরে আসে। ভাঙ্গুড়া এসেই আবারও চাঁদাবাজিসহ বিভিন্ন অপকর্মে জড়িয়ে পড়ে। এর ধারাবাহিকতায় সোহেল ভাঙ্গুড়া বাজার, পারভাঙ্গুড়া ইউনিয়নের রাঙ্গালিয়া, পাটুলিপাড়া, ভেড়ামারা, পারভাঙ্গুড়া গ্রামের অর্ধশতাধিক মানুষকে ভিজিডি কার্ড, পানির পাম্প, সরকারি প্রকল্পের ঘরসহ বিভিন্ন সরকারি সুবিধা দেওয়ার কথা বলে প্রায় অর্ধকোটি টাকা হাতিয়ে নেয়। কিন্তু টাকা দেওয়ার পরে সাত-আট মাস পেরিয়ে গেলেও কোনো সুবিধা পায়নি অধিকাংশ ভুক্তভোগী। ফলে ভুক্তভোগীদের একাংশ সোহেলকে পিটুনি দিয়ে শুক্রবার রাতে থানা পুলিশের কাছে সোপর্দ করেন।

‎এদিকে এই ঘটনার সংবাদ প্রকাশ করায় দৈনিক কালের কণ্ঠের ভাঙ্গুড়া উপজেলা প্রতিনিধি মাসুদ রানার বিরুদ্ধে চাঁদাদাবির অভিযোগে একটি পিটিশন মামলা দায়ের করা হয়েছে। পাবনার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আমলি আদালতে মামলাটি দায়ের করেন অভিযুক্ত বিএনপি নেতা সোহেল রানার স্ত্রী শিখা খাতুন। ‎সাংবাদিক মাসুদ রানা উপজেলার পাথরঘাটা গ্রামের ময়দান আলীর ছেলে ও ভাঙ্গুড়া প্রেসক্লাবের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক।

ভুক্তভোগী সাংবাদিক মাসুদ রানা জানান, সকল তথ্য উপাত্ত যাচাই-বাছাই করেই সংবাদটি প্রকাশ করা হয়েছে। তাছাড়া সংবাদটি দেশের প্রথম সারির প্রায় সকল গণমাধ্যমেই প্রকাশিত হয়। অথচ স্বার্থান্বেষী মহল উসকানি দিয়ে তার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করে ফায়দা হাসিল করতে চাইছে।

এদিকে ‎সাংবাদিক মাসুদ রানার নামে মামলা দায়েরের ঘটনায় পাবনা সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি খাইরুল ইসলাম বাসিত ও সাধারণ সম্পাদক শামসুল আলম, ভাঙ্গুড়া প্রেসক্লাবের সভাপতি অধ্যাপক মাহবুব উল আলম বাবলু ও সাধারণ সম্পাদক মনিরুজ্জামান ফারুকসহ উপজেলার কর্মরত সংবাদকর্মীরা গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তারা এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে অবিলম্বে এই মিথ্যা মামলা থেকে তাকে অব্যাহতি দেওয়ার আহবান জানান।

‎

‎এ বিষয়ে ভাঙ্গুড়া থানার ওসি সাকিউল আযম বলেন, প্রতারণার মামলায় অভিযুক্ত বিএনপি নেতার জামির নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত। আর সাংবাদিকের বিরুদ্ধে মামলার জন্য আদালত থেকে তদন্তের জন্য বলা হয়েছে।