শিবচরে মা-ছেলে হত্যা, গ্রেপ্তার ১

মাদারীপুরের শিবচরে এক্সপ্রেসওয়েসংলগ্ন বাখরেরকান্দি এলাকা থেকে উদ্ধার হওয়া অজ্ঞাত নারীর মরদেহের পরিচয় শনাক্ত করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় মো. ফারুক মোল্লা নামের এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
পুলিশের দাবি, জিজ্ঞাসাবাদে ফারুক ওই নারীকে হত্যার কথা স্বীকার করেছেন। একই সঙ্গে তার এক বছর বয়সি শিশুসন্তানকে আড়িয়াল খাঁ নদে ফেলে হত্যার কথাও প্রাথমিকভাবে স্বীকার করেছেন তিনি।
শুক্রবার (২১ আগস্ট) দুপুরে অভিযান শেষে সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান সহকারী পুলিশ সুপার (শিবচর সার্কেল) মো. সালাহউদ্দীন কাদের।
পুলিশ জানায়, গত বুধবার মাদবরচর ইউনিয়নের বাখরেরকান্দি গ্রামের খানবাড়ির দারুস সুন্নাহ ইসলামিয়া মাদরাসার পাশে একটি পরিত্যক্ত স্থানের ঝোপ থেকে অজ্ঞাত নারীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরে তার পরিচয় শনাক্ত করে পুলিশ।
নিহত নারীর নাম শাম্পা খাতুন (২৫)। তিনি নাটোরের লালপুর উপজেলার আট্রিকা গ্রামের ছামরুল ইসলামের মেয়ে। এ ঘটনায় তার বাবা বাদী হয়ে শিবচর থানায় হত্যা মামলা করেন।
নিহতের বাবার বরাত দিয়ে সহকারী পুলিশ সুপার সালাহউদ্দীন কাদের বলেন, প্রায় তিন বছর আগে মাদারীপুর সদর উপজেলার বড় মেহের এলাকার ছিদ্দিক হাওলাদারের ছেলে শাহাবুদ্দিন হাওলাদানের সঙ্গে শাম্পার বিয়ে হয়। তাদের এক বছর বয়সি একটি ছেলেসন্তান ছিল। বুধবার শাম্পার মরদেহ উদ্ধারের খবর পাওয়ার পর পরিবারের সদস্যরা জানতে পারেন, তার সন্তান আবিরও নিখোঁজ।
মামলার পর তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় হত্যাকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তিকে শনাক্তে অভিযান শুরু করে শিবচর থানা-পুলিশ ও মাদারীপুর র্যাব। পরে শিবচরের বাখরেরকান্দি এলাকায় ভাড়া বাসা থেকে সন্দেহভাজন হিসেবে ফারুক মোল্লাকে আটক করা হয়।
পুলিশ জানায়, ফারুকের বাসা তল্লাশি করে নিহত শাম্পার ব্যবহৃত পোড়ানো ওড়না, নাকফুল, গলার চেইন ও এক জোড়া জুতা উদ্ধার করা হয়েছে। ফারুক খুলনার তেরখাদা উপজেলার জয়সোমা এলাকার রতন মোল্লার ছেলে। তিনি দীর্ঘদিন ধরে বাখরেরকান্দি এলাকায় ভাড়া বাসায় থাকতেন। এর আগে চোরাই গাড়িসহ তাকে আটক করা হয়েছিল বলে জানিয়েছে পুলিশ।
পুলিশের ভাষ্য, মাদারীপুর আদালতে যাওয়া-আসার সূত্রে শাম্পার সঙ্গে ফারুকের পরিচয় হয়। শাম্পার স্বামী কারাগারে থাকায় তিনি আদালতে যাতায়াত করতেন।
সহকারী পুলিশ সুপার মো. সালাহউদ্দীন কাদের বলেন, জিজ্ঞাসাবাদে ফারুক হত্যার কথা স্বীকার করেছেন। তিনি আরও দাবি করেন, শাম্পার এক বছর বয়সি সন্তান আবিরকে আড়িয়াল খাঁ নদে ফেলে হত্যার কথাও ফারুক প্রাথমিকভাবে স্বীকার করেছেন। শিশুটির মরদেহ উদ্ধারে চেষ্টা চলছে।
পুলিশের ধারণা, শাম্পাকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে। পরে মরদেহ গুমের চেষ্টা করা হয়। তবে মরদেহ ভারী হওয়ায় সেটি বাড়ির পাশের ঝোপে ফেলে রাখা হয় বলে জানান সহকারী পুলিশ সুপার।



