Advertisement

বিদ্যুৎকেন্দ্রে যুবদল নেতা পরিচয়ে চাঁদা দাবি, পুলিশের সামনেই ঠিকাদারের ওপর হামলা

এশিয়া পোস্ট নিউজ, চট্টগ্রাম
বিদ্যুৎকেন্দ্রে যুবদল নেতা পরিচয়ে চাঁদা দাবি, পুলিশের সামনেই ঠিকাদারের ওপর হামলা
বিদ্যুৎকেন্দ্রের ঠিকাদারের কাছে চাঁদা দাবি ও পরবর্তীতে বাগবিতণ্ডায় জড়ানোর একটি মুহূর্ত। ছবি : এশিয়া পোস্ট

চট্টগ্রামের কর্ণফুলী থানার গহিরা এলাকায় ৩০০ মেগাওয়াট ক্ষমতার একটি বেসরকারি বিদ্যুৎকেন্দ্রের ঠিকাদার ও প্রকৌশলীর ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে। নিজেকে যুবদল নেতা পরিচয় দিয়ে ব্যবসার ৫০ শতাংশ চাঁদা দাবি এবং ‘আওয়ামী লীগের দোসর’ আখ্যা দিয়ে এই হামলা চালানো হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

Advertisement

বুধবার (১২ আগস্ট) সকালে ইউনাইটেড চট্টগ্রাম পাওয়ার লিমিটেডের (ইউসিপিএল) নির্মাণাধীন বিদ্যুৎকেন্দ্র এলাকায় প্রথম দফায় এক প্রকৌশলীকে মারধর করা হয়। পরবর্তীতে পুলিশ নিয়ে ঠিকাদার ঘটনাস্থলে গেলে পুলিশের উপস্থিতিতেই তাদের ওপর পুনরায় হামলার ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ওই বিদ্যুৎকেন্দ্রটিতে শ্রমিক সরবরাহের কাজ করছে ‘মেসার্স এফ এম এন্টারপ্রাইজ’ নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। প্রতিষ্ঠানটির মালিক মোহাম্মদ দেলোয়ার হোসেন অভিযোগ করেন, আলী হোসেন নামের এক ব্যক্তি নিজেকে যুবদল নেতা ও স্থানীয় সাবেক সংসদ সদস্য সরওয়ার জামাল নিজামের অনুসারী পরিচয় দিয়ে দীর্ঘদিন ধরে তাঁদের কাছে চাঁদা দাবি করে আসছিলেন।

ঠিকাদার মোহাম্মদ দেলোয়ার হোসেন বলেন, আলী হোসেন ও তার লোকজন বেশ কিছুদিন ধরে আমাদের কার্যালয় ও প্রজেক্ট সাইটে এসে হুমকি দিচ্ছিল। ব্যবসা চালাতে হলে মোট আয়ের ৫০ শতাংশ চাঁদা দিতে হবে বলে দাবি জানায়। আমরা সেই চাঁদা দিতে রাজি না হওয়ায় তারা আমাদের ‘আওয়ামী লীগের দোসর’ আখ্যা দিয়ে চাপ সৃষ্টি করতে থাকে। বুধবার সকালে তারা সাইটে গিয়ে প্রকৌশলী শাহরিয়ার আমিরকে মারধর করে। পরে আমি থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়ে পুলিশসহ ঘটনাস্থলে গেলে তারা পুলিশের সামনেই আমাদের ওপর আবার হামলা চালায়।

সংবাদমাধ্যমে পাওয়া একটি অডিও রেকর্ডে অভিযুক্ত আলী হোসেনকে ঠিকাদারের উদ্দেশ্যে বলতে শোনা যায়, তারা ‘আওয়ামী লীগ’ করায় এলাকায় কোনো কাজ করতে দেওয়া হবে না।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে কর্ণফুলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ ইখতিয়ার উদ্দিন জানান, ঘটনার বেশ কিছু অডিও ও ভিডিও রেকর্ড উদ্ধার করা হয়েছে এবং পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে প্রাথমিক তদন্ত শেষ করেছে।

ওসি আরও বলেন, কাজে বাধা প্রদান ও হামলার ঘটনার প্রাথমিক তথ্যপ্রমাণ পাওয়া গেছে। তবে ৫০ শতাংশ চাঁদা দাবির বিষয়টি তদন্তাধীন। প্রাপ্ত অডিও রেকর্ডে অভিযুক্তকে অংশীদারত্বের (পার্টনারশিপ) ভিত্তিতে ব্যবসা করার কথা বলতে শোনা গেছে। হামলার ঘটনায় মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে এবং অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

তবে যুবদলে অভিযুক্ত আলী হোসেনের কোনো আনুষ্ঠানিক পদ-পদবি রয়েছে কি না, সে বিষয়ে পুলিশ নির্দিষ্ট করে কিছু জানাতে পারেনি।