Advertisement

সুগন্ধা পয়েন্টে ১০ একর সরকারি খাসজমি দখল

এশিয়া পোস্ট নিউজ, কক্সবাজার
সুগন্ধা পয়েন্টে ১০ একর সরকারি খাসজমি দখল
সুগন্ধা সৈকতে প্রবেশের ডান পাশে দখলকৃত জমির একাংশ। ছবি: এশিয়া পোস্ট

কক্সবাজার শহরের সমুদ্রসৈকতের সুগন্ধা পয়েন্টে মধ্যরাতে সরকারি খাসজমি দখলের অভিযোগ উঠেছে। সুগন্ধা সৈকতে প্রবেশের ডান পাশে ১০ একরের বেশি জমি টিন ও বাঁশের ঘেরাও দিয়ে দখল করে একটি চক্র। আশপাশের ব্যবসায়ীদের দাবি, ওই জমির বর্তমান বাজারমূল্য কয়েকশ কোটি টাকা।

Advertisement

সরেজমিন দেখা যায়, সুগন্ধা সৈকতের প্রবেশপথের ডান পাশে টিন ও বাঁশের বেড়া দিয়ে বড় একটি অংশ ঘেরাও করে রাখা হয়েছে। তবে কারা এই জমি ঘেরাও করেছে, সে বিষয়ে স্থানীয় ব্যবসায়ী ও সংশ্লিষ্ট কেউ প্রকাশ্যে কথা বলতে রাজি হননি।

গুঞ্জন উঠেছে, দখলকৃত ওই জমিটি এস আলম গ্রুপের বাতিলকৃত প্লট। আর দখলদার সবাই ক্ষমতাসীন দলের নেতা।

কয়েকজন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ও হকারের সঙ্গে কথা হলে তারা জানান, ঘেরাওয়ের সময় ওই জমিতে দুই শতাধিক ভাসমান দোকান ছিল। তবে শুক্রবার মধ্যরাতে দোকান সরিয়ে জায়গাটি ঘেরাও করার সময় কয়েকজন হকারের সঙ্গে শ্রমিকদের কথা-কাটাকাটি হয়। এ ঘটনায় শনিবার বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে বিষয়টি প্রকাশ্যে এলে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। একপর্যায়ে উত্তেজিত হকাররা লাঠিসোঁটা নিয়ে প্রায় ১০০ ফুট দীর্ঘ টিনের বেড়ার একটি অংশ ভাঙচুর করে।

ছবি: এশিয়া পোস্ট
ছবি: এশিয়া পোস্ট

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ব্যবসায়ী জানান, শুক্রবার মধ্যরাতে ৩০ থেকে ৪০ জন শ্রমিক টিন ও বাঁশ দিয়ে জমিটি ঘেরাও শুরু করে। প্রায় এক ঘণ্টার মধ্যে তড়িঘড়ি করে ঘেরাওয়ের কাজ শেষ করা হয়। তাদের সঙ্গে ১০ থেকে ১২ জনের একটি দলও সেখানে অবস্থান করছিল। এ বিষয়ে কেউ মুখ খুলতে চায় না।

এদিকে ঘটনাটি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও সমালোচনা শুরু হয়েছে। স্থানীয় যুবদল নেতা আজিজুল হক সোহেল তার ফেসবুক পোস্টে লিখেছেন, সুগন্ধা পয়েন্টের সরকারি জমি কি আবারও দখলবাজদের হাতে তুলে দেওয়া হচ্ছে? একই সঙ্গে তিনি রাজনৈতিক নেতার নাম ব্যবহারকারীদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন।

বিষয়টি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে কক্সবাজার নাগরিক আন্দোলনের সদস্য সচিব এইচএম নজরুল ইসলাম বলেন, প্রশাসনের নাকের ডগায় এই দখল হয়েছে। অথচ, সারাদিন প্রশাসনের ভূমিকা ছিল রহস্যময়। পর্যটন শিল্পের বিকাশে রাজনৈতিক দলগুলোর নেতাদের ‘রুচির দুর্ভিক্ষ’ বারবার ফুটে উঠছে। যে দলই ক্ষমতায় আসে, তাদের একটি অংশ সমুদ্রসৈকত সংলগ্ন এলাকায় জায়গা দখল করে ঝুপড়ি দোকান নির্মাণে আগ্রহী হয়ে ওঠে।

কক্সবাজার জেলা প্রশাসনের পর্যটন সেলের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট তানভীর হোসেন সায়েম বলেন, সরকারি জায়গা অবৈধভাবে দখলের ঘটনায় জড়িত একজনকে ইতিমধ্যে শনাক্ত করা হয়েছে। ওই স্থানের মালিকানা বা ইজারার পক্ষে কোনো বৈধ নথি থাকলে তা জেলা প্রশাসক অথবা অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব)-এর কাছে উপস্থাপনের জন্য বলা হয়েছে। তিনি বলেন, প্রশাসন কাউকে সরকারি জমি দখল বা ঘেরাও করার অনুমতি দেয়নি।

তিনি আরও বলেন, অবৈধ অবকাঠামো ও টিনের বেড়া অপসারণের জন্য শনিবার বিকেল ৩টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত চার ঘণ্টা সময় দেওয়া হয়েছিল। সরকারি নির্দেশ অমান্য করে অবৈধ দখল বজায় রাখার চেষ্টা করা হলে জেলা প্রশাসন কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেবে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে অবৈধ স্থাপনা ও ঘেরাও সরিয়ে না নিলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তবে, রোববার দুপুর পর্যন্ত এবিষয়ে এখনও কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে জানা গেছে।