logo

ঝড়ে উপড়ে গিয়েও ‘উঠে দাঁড়ানো’ সেই গাছ কেটে ফেলল প্রশাসন

এশিয়া পোস্ট নিউজ
এশিয়া পোস্ট নিউজ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া
ঝড়ে উপড়ে গিয়েও ‘উঠে দাঁড়ানো’ সেই গাছ কেটে ফেলল প্রশাসন
ঝড়ে পড়ে যাওয়ার পর ‌‌‘উঠে দাঁড়ানো’ গাছ কেটে ফেললো প্রশাসন। ছবি: এশিয়া পোস্ট কোলাজ

ঝড়ে উপড়ে পড়েছিল গাছ। পরে ডালপালা কেটে ফেলার কয়েক দিন পর আবার সোজা হয়ে দাঁড়িয়ে যায়। ঘটনাটি ছড়িয়ে পড়তেই ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়ায় একটি গাছকে ঘিরে শুরু হয় নানা আলোচনা, কৌতূহল ও কুসংস্কার। কেউ দেখতে ছুটে আসেন, কেউ আবার সেখানে মোমবাতি জ্বালিয়ে মানত করতে শুরু করেন। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছায় যে, কুসংস্কার ও অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা এড়াতে প্রশাসনকে শেষ পর্যন্ত গাছটিই কেটে ফেলতে হয়েছে।

শুক্রবার (৫ জুন) দুপুরে আখাউড়া উপজেলার মোগড়া ইউনিয়নের বচিয়ারা গ্রামের মুন্সীবাড়ি এলাকায় পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সহযোগিতায় আলোচিত গাছটি অপসারণ করে উপজেলা প্রশাসন।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় এক মাস আগে কালবৈশাখী ঝড়ে পুকুরপাড়ের গাছটি উপড়ে পড়ে যায়। পরে এর ডালপালা ও ওপরের অংশ কেটে ফেলা হয়। কিন্তু কয়েক দিন আগে প্রায় ১৫ ফুট উচ্চতার অবশিষ্ট কাণ্ডটি হঠাৎ করেই সোজা হয়ে দাঁড়িয়ে যায়। ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় মানুষের ভিড় বাড়তে থাকে। একপর্যায়ে কিছু মানুষ গাছটিকে অলৌকিক ঘটনা হিসেবে প্রচার শুরু করে। গাছের গোড়ায় লাল কাপড় বাঁধা হয়, আগরবাতি ও মোমবাতি জ্বালানো হয়। কেউ কেউ মানত করতেও শুরু করেন। এমনকি স্থানটিকে মাজারের আদলে সাজানোর চেষ্টার অভিযোগও ওঠে।

গাছ কাটা ঘিরে উৎসুক মানুষের ভিড়। ছবি : এশিয়া পোস্ট
গাছ কাটা ঘিরে উৎসুক মানুষের ভিড়। ছবি : এশিয়া পোস্ট

তবে স্থানীয় সচেতন নাগরিক, সমাজকর্মী ও শিক্ষিত সমাজ শুরু থেকেই এ ধরনের প্রচারণার বিরোধিতা করেন। তাদের মতে, এটি কোনো অলৌকিক ঘটনা নয়; বরং বিজ্ঞানের সাধারণ ব্যাখ্যায় ঘটনাটি বোঝা সম্ভব। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, গাছটির ডালপালা ও ওপরের ভারী অংশ কেটে ফেলার ফলে এর ভরকেন্দ্র (Center of Mass) পরিবর্তিত হয়। একই সঙ্গে শিকড়ের স্থিতিস্থাপকতা, মাটির চাপ এবং গাছের অভ্যন্তরীণ রসের স্বাভাবিক প্রবাহের কারণে কাণ্ডটি ধীরে ধীরে পুনরায় সোজা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কুসংস্কারবিরোধী প্রচারণা জোরালো হওয়ার পর বিষয়টি প্রশাসনের নজরে আসে। পরে সম্ভাব্য অপপ্রচার ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি এড়াতে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হয়।

এ বিষয়ে আখাউড়া উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট কফিল উদ্দিন মাহমুদ জানান, গাছটি ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় ছিল। গাছের মালিকের সঙ্গে আলোচনা করে এবং তার সম্মতি নিয়েই পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সহযোগিতায় এটি কেটে ফেলা হয়েছে। গাছের মালিক সিদ্ধান্ত নিয়েছেন কাঠ বিক্রি করে যে অর্থ পাওয়া যাবে, তা স্থানীয় একটি মসজিদ বা মাদ্রাসায় অনুদান হিসেবে দেওয়া হবে।