logo

সাভার ট্যানারিতে ট্রাক থেকে চাঁদা নেওয়ার অভিযোগ, দাম নিয়েও ক্ষোভ

সাভার ট্যানারিতে ট্রাক থেকে চাঁদা নেওয়ার অভিযোগ, দাম নিয়েও ক্ষোভ
ছবি: এশিয়া পোস্ট

পবিত্র ঈদুল আজহার পর সাভারের চামড়া শিল্প নগরে রাজধানী ও আশপাশের এলাকার কোরবানির পশুর চামড়া আসতে শুরু করেছে। তবে সরকার নির্ধারিত দাম না পাওয়ার অভিযোগ করেছেন বিক্রেতারা। একই সঙ্গে ট্যানারিতে প্রবেশমুখে চামড়াবাহী ট্রাক থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগও উঠেছে।

বৃহস্পতিবার (২৮ মে) রাত ১০টা পর্যন্ত শিল্পনগরে ৬১৫টি ছোট-বড় ট্রাকে করে এক লাখ ৩২ হাজার ৮২৫ পিস কাঁচা চামড়া প্রবেশ করেছে। এর মধ্যে গরু ও মহিষের চামড়া এক লাখ ৩০ হাজার ২৭৫টি এবং ছাগল-ভেড়ার চামড়া রয়েছে দুই হাজার ৫৫০টি।

মুন্সিগঞ্জ থেকে চামড়া নিয়ে আসা মাওলানা মোহাম্মদ ফিরোজ অভিযোগ করেন, ট্যানারির প্রবেশমুখে কিছু যুবক তার কাছে এক হাজার টাকা দাবি করেন। সাংবাদিক উপস্থিত হওয়ায় তারা সরে যায় বলে জানান তিনি। এতিমখানা ও মাদ্রাসার চামড়ার অর্থের ওপর এ ধরনের ‘জুলুম’ বন্ধে সরকারের হস্তক্ষেপও দাবি করেন তিনি।

চামড়ার দাম নিয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বিক্রেতারা। নয়ারহাটের একটি মাদ্রাসা থেকে ১৩২ পিস চামড়া নিয়ে আসা মাওলানা মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম বলেন, প্রতি পিস চামড়ার দাম ৪৫০ থেকে ৫০০ টাকা বলা হচ্ছে, যা গত বছরের তুলনায় প্রায় অর্ধেক। তার অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে চামড়া শিল্পে একটি সিন্ডিকেট কাজ করছে।

ধামরাই থেকে আসা মুফতি মোহাম্মদ আবুল হাসান শাহ্‌জলি জানান, গত বছর যে চামড়া ৮০০ থেকে ৯০০ টাকায় বিক্রি হয়েছিল, এবার সেটির দাম ৩০০ থেকে ৪০০ টাকা বলা হচ্ছে।

অন্যদিকে আগারগাঁও থেকে ৭৫ পিস চামড়া নিয়ে আসা হাফেজ মোহাম্মদ ইয়াসিন জানান, অনেক দর-কষাকষির পর তিনি প্রতি পিস ৬৬০ টাকা করে দাম পেয়েছেন।

মিরপুর-১২ মুসলিম বাজার মাদ্রাসার মাওলানা সোলায়মান বলেন, সরকার নির্ধারিত মূল্য বাস্তবায়নে প্রশাসনের কার্যকর তদারকি থাকলে এতিমখানা ও মাদ্রাসাগুলো উপকৃত হতো। তিনি অভিযোগ করেন, ট্যানারি মালিকরা এখনো নির্দিষ্ট দাম জানাননি, অথচ সংরক্ষণের জায়গা না থাকায় বাধ্য হয়ে চামড়া নামাতে হচ্ছে।

এদিকে ঈদের দিন বিকেলে সাভারের আমিনবাজার এলাকায় চামড়া ক্রয়-বিক্রয় কার্যক্রম পরিদর্শন শেষে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, এবার ট্যানারিতে আগের বছরের তুলনায় বেশি চামড়া সংরক্ষণ করা হবে এবং চামড়া পাচারের কোনো আশঙ্কা নেই।

তিনি আরও বলেন, ওয়েট ব্লু চামড়া রপ্তানির মাধ্যমে বৈদেশিক মুদ্রা আয় বাড়ানোর পাশাপাশি চামড়াজাত পণ্য উৎপাদন ও রপ্তানির ওপর সরকার গুরুত্ব দিচ্ছে।

এর আগে ১৩ মে সরকার ঢাকায় লবণযুক্ত গরুর চামড়ার দাম প্রতি বর্গফুট ৬২ থেকে ৬৭ টাকা নির্ধারণ করে। সেই হিসাবে ছোট আকারের চামড়ার দাম ৯৯০ থেকে ১ হাজার ২০০ টাকা, মাঝারি চামড়ার দাম ১ হাজার ৩০০ থেকে ১ হাজার ৮৫০ টাকা এবং বড় চামড়ার দাম ১ হাজার ৯০০ থেকে ২ হাজার ৬০০ টাকা পর্যন্ত হওয়ার কথা।

বাংলাদেশ ট্যানার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিটিএ) সাধারণ সম্পাদক মো. মিজানুর রহমান জানান, কাঁচা চামড়া কেনার পর লবণ, পরিবহন, শ্রমিক ও স্থান ভাড়াসহ প্রতি পিসে ২৫০ থেকে ৩০০ টাকা খরচ হয়। তবে ঢাকা ও আশপাশে ৫০০ থেকে ৭০০ টাকার নিচে চামড়া কেনাবেচা হোক, তা তারা চান না।