logo
Advertisement

পাখির আক্রমণে নষ্ট হচ্ছে আউশ ধান, ক্ষতির মুখে কৃষকরা

এশিয়া পোস্ট নিউজ, নরসিংদী
পাখির আক্রমণে নষ্ট হচ্ছে আউশ ধান, ক্ষতির মুখে কৃষকরা
লোকসানের আশঙ্কায় বাধ্য হয়ে কাঁচা ও আধাপাকা ধান কেটে ফেলছেন অনেক কৃষক। ছবি: এশিয়া পোস্ট

অনুকূল আবহাওয়া আর সময়মতো বৃষ্টির কারণে নরসিংদীর রায়পুরায় আউশ ধানের বাম্পার ফলনের আশা করেছিলেন কৃষকেরা। কিন্তু ধান পাকার মুখেই সেই আশায় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে হাজার হাজার বাবুই ও চড়ুই পাখির ঝাঁক। পাখির অব্যাহত আক্রমণে ধানের শীষ নষ্ট হওয়ায় লোকসানের আশঙ্কায় অনেক কৃষক বাধ্য হয়ে কাঁচা ও আধাপাকা ধান কেটে ফেলছেন।

Advertisement

উপজেলার মুছাপুর ইউনিয়নের পূর্বহরিপুর গ্রামের বিস্তীর্ণ মাঠে গিয়ে দেখা যায়, ধানক্ষেতে ঝাঁকে ঝাঁকে বাবুই ও চড়ুই পাখি নেমে ধানের শীষ খাচ্ছে। কৃষকেরা টিন-বাসন বাজিয়ে, ঢাক-ঢোল পিটিয়ে ও ফটকা ফাটিয়ে পাখি তাড়ানোর চেষ্টা করছেন। তা সত্ত্বেও ক্ষতি ঠেকানো যাচ্ছে না। অনেকে সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত খেত পাহারা দিচ্ছেন।

ভুক্তভোগী কৃষকরা বলছেন, এ বছর রোগবালাই তুলনামূলক কম ছিল। পর্যাপ্ত বৃষ্টিপাত হওয়ায় সেচের খরচও কমেছে। ফলে ভালো ফলনের আশা করেছিলেন তারা। কিন্তু ধানের শীষ বের হওয়ার পর থেকেই পাখির ঝাঁক মাঠে নেমে পড়েছে। পাখিগুলো শুধু ধান খেয়েই ক্ষান্ত হচ্ছে না, ঠোকর দিয়ে অসংখ্য শীষ মাটিতে ফেলে দিচ্ছে। এতে উৎপাদন কমে যাওয়ার পাশাপাশি বাড়তি শ্রমের খরচও গুণতে হচ্ছে।

মুছাপুর গ্রামের কৃষক আবদুস রহমান বলেন, দেড় একর জমিতে আউশের আবাদ করেছি। ফলনও ভালো হয়েছে। কিন্তু ধান বের হওয়ার পর থেকেই পাখির অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছি। স্ত্রী-সন্তান নিয়ে সকাল থেকে রাত পর্যন্ত খেতে বসে পাখি তাড়াতে হচ্ছে। তারপরও ফসল রক্ষা করা যাচ্ছে না।

একই এলাকার কৃষানি সুহেরা বেগম বলেন, চোখের সামনে কষ্টের ফসল নষ্ট হতে দেখে বসে থাকা যায় না। সংসারের কাজ ফেলে সারাদিন মাঠে থাকতে হয়। শুরুতে মনে হয়েছিল ভালো লাভ হবে, এখন মনে হচ্ছে খরচই উঠবে না। আগামীতে আর আউশ চাষ করব না।

কৃষক হারুনূর রশিদ বলেন, ফসল ভালো হলেও পাখির কারণে বড় ধরনের লোকসান হবে। শ্রমিকের মজুরিও উঠবে না। তাই বাধ্য হয়ে নিজেরাই কাঁচা ধান কেটে ফেলছি।

ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক মরম আলী ও তার স্ত্রী জানান, ধানের শীষ বের হওয়ার পর থেকে প্রতিদিন ভোর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত মাঠে পাখি তাড়াতে হচ্ছে। টিন-বাসন বাজিয়ে কিংবা ফটকা ফাটিয়েও খুব একটা সুফল মিলছে না। একই অভিযোগ করেছেন কৃষক আব্দুর রহিম, নান্নু মিয়া, শফিকুল ইসলাম ও সাইদা মিয়াসহ আরও অনেকে।

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে রায়পুরায় ৭৩২ হেক্টর জমিতে আউশ ধানের চাষ হয়েছে। সরকারিভাবে ১ হাজার ১৫০ জন কৃষককে উচ্চফলনশীল (উফশী) জাতের পাঁচ কেজি করে ধানবীজ এবং সার দেওয়া হয়েছে।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, এ মৌসুমে প্রাকৃতিক বৃষ্টিপাতের কারণে সেচের খরচ কম হয়েছে। এ ছাড়া কৃষি অফিস থেকে আউশ ধানের আবাদ ও উৎপাদন বৃদ্ধির জন্য প্রণোদনা সহায়তা হিসেবে ১ হাজার ১৫০ জন কৃষককে বীজ ও সার দেওয়া হয়েছে। ফলে উপজেলায় আউশ ধানের আবাদ বাড়ছে। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর কৃষকদের নিয়মিত পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছে। এ সময় মাঠে বিকল্প খাদ্য কম থাকায় বাবুই ও চড়ুই পাখি ধানক্ষেতে হানা দিচ্ছে। এতে কিছুটা ক্ষতি হলেও কৃষকদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

বিষয় :