শরীয়তপুরে দুপক্ষের সংঘর্ষে একজন নিহত

শরীয়তপুরের জাজিরা উপজেলায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুপক্ষের সংঘর্ষে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনায় মান্নান সরদার (৭০) নামের এক বৃদ্ধ নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।
সোমবার (১০ আগস্ট) সন্ধ্যায় উপজেলার মূলনা ইউনিয়নের লাউখোলা এলাকায় এ রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। দফায় দফায় ককটেল বিস্ফোরণের সময় পুরো এলাকায় তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং স্থানীয় বাসিন্দারা নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যান।
নিহত মান্নান সরদার পার্শ্ববর্তী সেনেরচর ইউনিয়নের চরধুপুর চরকান্দি গ্রামের মৃত আলিউদ্দিন সরদারের ছেলে।
স্থানীয় সূত্র ও পুলিশ জানায়, লাউখোলা এলাকার রেজাউল শিকদার ও তার সমর্থকদের সঙ্গে তমিজ খাঁ ও তার অনুসারীদের দীর্ঘদিন ধরে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে বিরোধ চলছিল। এই পুরোনো বিরোধের জের ধরে সোমবার সন্ধ্যায় দুই পক্ষের লোকজন দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। একপর্যায়ে উভয় পক্ষ একে অপরকে লক্ষ্য করে এলোপাতাড়ি ককটেল নিক্ষেপ শুরু করলে পুরো এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়।
এতে ঘটনাস্থলেই মান্নান সরদারসহ অন্তত ১০ জন আহত হন। গুরুতর আহত অবস্থায় মান্নান সরদারকে উদ্ধার করে জাজিরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
অন্যদিকে ককটেল বিস্ফোরণে তমিজ খাঁ গ্রুপের সমর্থক রিপন মোল্লা মারাত্মকভাবে আহত হয়েছেন। বিস্ফোরণের আঘাতে তার একটি হাত বিচ্ছিন্ন ও ক্ষতবিক্ষত হয়ে যায়। তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে আশঙ্কাজনক অবস্থায় উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।
জাজিরা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. রোমান বাদশাহ জানান, বোমা বিস্ফোরণে আহত দুইজনকে হাসপাতালে আনা হয়েছিল। তাদের মধ্যে একজনকে আনা মাত্রই মৃত ঘোষণা করা হয় এবং অপরজনকে গুরুতর অবস্থায় দ্রুত ঢাকায় রেফার্ড করা হয়েছে।
ঘটনার পর থেকে পুরো এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতে ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (নড়িয়া সার্কেল) মুহাম্মদ মহিউদ্দিন মিরাজ বলেন, জাজিরায় সংঘর্ষ ও ককটেল বিস্ফোরণে একজন নিহতের খবর পাওয়া গেছে। বর্তমানে এলাকা শান্ত রাখতে এবং অপরাধীদের চিহ্নিত করতে পুলিশ কাজ করছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
.png)


