logo

‘১০ বছরের জন্য জেলে পাঠান, তাও পরীক্ষাটা দিতে দেন’

এশিয়া পোস্ট নিউজ
এশিয়া পোস্ট নিউজ, চট্টগ্রাম
‘১০ বছরের জন্য জেলে পাঠান, তাও পরীক্ষাটা দিতে দেন’
মারামারির মামলায় আটক হওয়া এসএসসি পরীক্ষার্থী আইদুল আলম।

চট্টগ্রামে জমিসংক্রান্ত বিরোধের জেরে আটক হয়েছে আইদুল আলম। সে চট্টগ্রামের সিএন্ডবি কলোনি আদর্শ উচ্চবিদ্যালয়ের এসএসসি পরীক্ষার্থী। গত রোববার (৭ জুন) থেকে শুরু হয়েছে তার ব্যবহারিক পরীক্ষা। দুই দিন পর মঙ্গলবার পুলিশ তাকে আটক করে। পরদিন বুধবার তার পরীক্ষা থাকলেও অংশ নেওয়া সম্ভব হয়নি।

গত মঙ্গলবার দুপুরে চট্টগ্রামের বাকলিয়া থানার ১৭ নম্বর ওয়ার্ডের বৌ বাজার মজিদ সওদাগরের মসজিদ এলাকায় জমিসংক্রান্ত বিষয় নিয়ে দুপক্ষের মধ্যে মারামারি হয়। ওই ঘটনায় আইদুল আলমকে আটক করে বাকলিয়া থানা-পুলিশ।

বাকলিয়া থানা সূত্র জানায়, একটি ভিডিও ফুটেজে আইদুলকে হাতুড়ি হাতে ঘর ভাঙতে দেখা গেছে। এ ঘটনায় মঙ্গলবার দুপুর তিনটার দিকে আইদুলসহ ছয়জনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় নেওয়া হয়। যাচাই-বাছাই শেষে তিনজনকে ছেড়ে দেওয়া হলেও আইদুলসহ তিনজনের বিরুদ্ধে মামলা হয়। মো. আক্কাস নামের এক ব্যক্তি মামলাটি করেন। তিনি জমিটির মালিকানা দাবি করা দুই পক্ষের মধ্যে একটির সদস্য।

আইদুলের পরিবার জানায়, বুধবার আইদুলের একটি ব্যবহারিক পরীক্ষা থাকলেও পুলিশি হেফাজতে থাকায় সে তাতে অংশ নিতে পারেনি। পরীক্ষা চলাকালীন তাকে থানায় আটকে রাখা হয়। আইনি নিয়ম তোয়াক্কা না করে বৃহস্পতিবার (১১ জুন) দুপুর দুইটা পর্যন্ত (প্রায় ৪৮ ঘণ্টা) তাকে আদালতে তোলা হয়নি বলে অভিযোগ উঠেছে।

আইদুলের মা ববি আক্তার বলেন, ‘আমি কয়েকবার ওসি স্যারকে ছেলের পরীক্ষার বিষয়টি জানিয়েছি। ওসির পায়ে পর্যন্ত পড়েছি। তাকে বলেছিলাম—দরকার হলে পরীক্ষার পর আমার ছেলেকে ১০ বছরের জন্য জেলে ঢুকিয়ে দিন, তাও পরীক্ষাটা দিতে দিন। ওর ১০ বছরের সাধনা নষ্ট করবেন না। আপনারা পুলিশ পাহারায় ওকে পরীক্ষা কেন্দ্রে নিয়ে যান। কিন্তু ওসি আমার কোনো কথাই শোনেননি। উল্টো বলেছেন, ‘এরকম ছেলের পরীক্ষা দিতে হবে না।’

মামলা ও আসামি আটকের বিষয়টি নিয়েও ধুম্রজাল সৃষ্টি হয়েছে। এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত (বৃহস্পতিবার দুপুর) মামলার কোনো কপি বাদী বা বিবাদী পক্ষকে দেওয়া হয়নি।

মামলার বাদী মো. আক্কাস বলেন, ‘পুলিশ প্রথমে মামলাই নিচ্ছিল না। পরে মামলা নিলেও আমাদের কোনো কপি দেয়নি। কতজন গ্রেপ্তার আছে বা কোথায় আছে, তাও আমি নিশ্চিত জানি না।’

এ বিষয়ে বাকলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ সোলাইমান বলেন, ‘বৌ বাজারের ঘটনায় একটি মামলা হয়েছে। তিনজন গ্রেপ্তার আছে। অন্য আসামিদের ধরতে অভিযান চলছে।’

আইদুলের পরীক্ষার সুযোগ না পাওয়ার বিষয়ে তিনি উল্টো প্রশ্ন ছুড়ে দিয়ে বলেন, ‘ওর যদি পরীক্ষা দেওয়ার ইচ্ছা থাকত, তাহলে সে মারামারি করতে গেল কেন? আর সে হাতুড়ি দিয়ে আরেকজনের গেট ভাঙছিল। এমন ভিডিও আছে। তার বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। তাকে কীভাবে ছেড়ে দেব।’

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক চট্টগ্রাম মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের এক সাবেক পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক জানান, আইন অনুযায়ী যে কোনো আসামিকে (এমনকি খুনের মামলার আসামি হলেও) বিশেষ ব্যবস্থায় বা পুলিশি পাহারায় পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার সুযোগ দেওয়ার বিধান রয়েছে। কোনো ওসির এই অধিকার বা ক্ষমতা নেই যে তিনি কোনো পরীক্ষার্থীকে পরীক্ষা দেওয়া থেকে বিরত রাখবেন। যদি তিনি তা করে থাকেন, তবে সেটি সম্পূর্ণ বেআইনি।

চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের সচিব অধ্যাপক মোহাম্মদ জহিরুল হক স্বপন বলেন, মানবিক দিক বিবেচনা করে হলেও ওই শিক্ষার্থীকে পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার সুযোগ দেওয়া উচিত ছিল। যেহেতু এটি ব্যবহারিক পরীক্ষা, তাই আগামী ১৪ জুনের মধ্যে যদি সে আইনি প্রক্রিয়ায় এসে পরীক্ষা দিতে পারে, তবে আমরা তাকে অনুমতি (অ্যালাউ) দেব। কিন্তু এরপর হলে শিক্ষা বোর্ডের কিছুই করার থাকবে না।

সার্বিক বিষয়ে জানতে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) দক্ষিণ বিভাগের উপপুলিশ কমিশনার হোসাইন মোহাম্মদ কবির ভূঁইয়াকে ফোনে একাধিকবার কল দেওয়া হয়। তিনি কল রিসিভ না করায় বক্তব্য পাওয়া যায়নি।