logo
Advertisement

ব্রহ্মপুত্রের তীরে জয়নুলের স্মৃতি, শিল্পের ভান্ডার ও সংরক্ষণের লড়াই

কামরুজ্জামান মিন্টু,ময়মনসিংহ
ব্রহ্মপুত্রের তীরে জয়নুলের স্মৃতি, শিল্পের ভান্ডার ও সংরক্ষণের লড়াই
শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিন সংগ্রহশালা। ছবি: এশিয়া পোস্ট

ময়মনসিংহ শহরের ব্যস্ততা পেরিয়ে ব্রহ্মপুত্রের পাড় ধরে কিছুটা এগোলেই বদলে যায় দৃশ্যপট। শহররক্ষা বাঁধের পাশে কাঁচিঝুলি সাহেব কোয়ার্টার এলাকায় বড় বড় গাছের ছায়া, পাখির ডাক আর নদের শান্ত প্রবাহের মধ্যে দাঁড়িয়ে আছে একটি পুরোনো দ্বিতল ভবন। বাইরে থেকে খুব সাধারণ মনে হলেও ভবনটির ভেতরে সংরক্ষিত আছে বাংলাদেশের আধুনিক শিল্পকলার ইতিহাসের অমূল্য এক অধ্যায়। এটি শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিন সংগ্রহশালা।

Advertisement

এখানে শুধু ছবি নেই; আছে একজন শিল্পীর জীবন, সংগ্রাম, ভ্রমণ, শিল্পচর্চা ও ব্যক্তিগত স্মৃতির নানা চিহ্ন। তার আঁকা চিত্রকর্মের পাশাপাশি ব্যবহৃত পোশাক, জুতা, ঘড়ি, চশমা, আঁকার সরঞ্জাম, সনদ ও খাটসহ নানা সামগ্রীও সংরক্ষিত রয়েছে। ফলে সংগ্রহশালাটি একদিকে যেমন শিল্পকর্মের প্রদর্শনকেন্দ্র, অন্যদিকে তেমনি জয়নুল আবেদিনের জীবন ও সময়কে বোঝার গুরুত্বপূর্ণ দলিল।

তবে এই ঐতিহ্যের ভেতরেই আছে উদ্বেগের চিত্র। নিচতলার পুরোনো ভবনের কোথাও রং উঠে গেছে, কোথাও পলেস্তারা খসে পড়েছে। অতীতে এখান থেকে চুরি হয়েছিল ১৭টি মূল্যবান চিত্রকর্ম। ১২ বছর পর তার মধ্যে ১০টি উদ্ধার করা সম্ভব হলেও বাকি সাতটির কোনো হদিস মেলেনি। নদের তীরে অবস্থিত হওয়ায় আর্দ্রতা, তাপমাত্রা ও পরিবেশগত ঝুঁকিও এখানে শিল্পকর্ম সংরক্ষণের ক্ষেত্রে বড় চ্যালেঞ্জ। অর্থাৎ জয়নুলের স্মৃতি ধরে রাখার এই প্রতিষ্ঠানকে ঘিরে যেমন গর্ব আছে, তেমনি আছে সংরক্ষণের ব্যবস্থা নিয়ে নতুন করে ভাবার প্রয়োজনীয়তাও।

শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিন ১৯১৪ সালের ২৯ ডিসেম্বর বৃহত্তর ময়মনসিংহের কিশোরগঞ্জ জেলার একটি মধ্যবিত্ত পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। ১৯৭৬ সালের ২৮ মে ৬২ বছর বয়সে ঢাকার তৎকালীন পোস্ট গ্র্যাজুয়েট হাসপাতালে (বর্তমান বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়) তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। তারই প্রতিষ্ঠিত চারুকলা ইনস্টিটিউটের পাশে এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদ প্রাঙ্গণে তাকে সমাধিস্থ করা হয়।

জয়নুল আবেদিনের শৈশব-কৈশোরের সঙ্গে গভীরভাবে জড়িয়ে ছিল ব্রহ্মপুত্র নদ। এই নদ, প্রকৃতি, গ্রামীণ মানুষের জীবন ও দারিদ্র্য তার শিল্পীসত্তাকে দারুণভাবে প্রভাবিত করে। ১৯৩৮ সালে ব্রহ্মপুত্রকে কেন্দ্র করে আঁকা তার একগুচ্ছ চিত্র তাকে ‘নিখিল ভারত চিত্র প্রদর্শনী’তে সর্বোচ্চ পুরস্কার এনে দেয়। পরে দুর্ভিক্ষ, কৃষক, শ্রমজীবী মানুষ, গ্রামীণ জীবন ও প্রকৃতি তাঁর শিল্পের প্রধান উপজীব্য হয়ে ওঠে। বিশেষ করে ১৯৪৩ সালের বাংলার দুর্ভিক্ষ নিয়ে আঁকা চিত্রমালা তাকে আন্তর্জাতিক পরিচিতি এনে দেয়। ‘সংগ্রাম’, ‘সাঁওতাল রমণী’, ‘ঝড়’, ‘বিদ্রোহী’, ‘কাক’, ‘সাধারণ নারী’সহ তার অসংখ্য কাজ বাংলাদেশের শিল্প-ইতিহাসে স্থায়ী জায়গা করে নিয়েছে।

এই শিল্পীর স্মৃতি ও শিল্পকর্ম ময়মনসিংহে সংরক্ষণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল তার জীবদ্দশাতেই। স্থানীয় প্রশাসন, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সহযোগিতায় ১৯৭৫ সালের ১৫ এপ্রিল সংগ্রহশালাটির উদ্বোধন করা হয়। তৎকালীন উপরাষ্ট্রপতি সৈয়দ নজরুল ইসলাম এটি উদ্বোধন করেন। শুরুতে ভবনটি ছিল একতলা, পরে পুনর্নির্মাণের মাধ্যমে একে দ্বিতল ভবনে রূপ দেওয়া হয়।

সংগ্রহশালার ভবনটিরও রয়েছে আলাদা ইতিহাস। ব্রিটিশ আমলে এটি ভাইসরয়ের এক্সিকিউটিভ কাউন্সিলের কাজ পরিচালনা বা আবাসনে ব্যবহৃত হতো বলে জানা যায়। পরে নলিনী রঞ্জন সরকার নামের এক প্রভাবশালী ব্যক্তির মালিকানায় ছিল ভবনটি। দেশভাগের পর সেটি সরকারি ব্যবহারে আসে এবং স্বাধীনতার পর জয়নুল আবেদিনের উদ্যোগেই ভবনটি শিল্পকর্ম সংরক্ষণের নতুন পরিচয় পায়।

প্রায় ৩.৬৯ একর জায়গাজুড়ে গড়ে ওঠা এই সংগ্রহশালার প্রাকৃতিক পরিবেশও দর্শনার্থীদের আকর্ষণ করে। প্রবেশপথের দুই পাশে পাম, পিটালি, ছাতিম, কড়ই, আম, জাম, কামরাঙা, বকুল, সেগুন ও বটগাছের সবুজ ছায়া পেরিয়ে মূল ভবনের দিকে এগোতে হয়। ভবনের পাশে রয়েছে জয়নুল আবেদিনের একটি ভাস্কর্য, যা নির্মাণ করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের সাবেক অধ্যাপক হামিদুজ্জামান খান।

দ্বিতল এই ভবনের দ্বিতীয় তলায় রয়েছে দুটি গ্যালারি। সেখানে বর্তমানে ছোট-বড় মিলিয়ে ১৮৯টি নিদর্শন সংরক্ষিত রয়েছে। এর মধ্যে ৬২টি শিল্পকর্ম এবং ১২৭টি ব্যক্তিগত ব্যবহার্য সামগ্রী ও স্মৃতিনিদর্শন।

প্রথম গ্যালারিতে রয়েছে ‘মনপুরা-৭০’, ‘জীবনসংগ্রাম’, ‘দুটি মুখ’সহ উল্লেখযোগ্য কয়েকটি কাজ। দ্বিতীয় গ্যালারিতে রয়েছে দুর্ভিক্ষ সিরিজের চিত্রসহ আরও অনেক শিল্পকর্ম। ‘মুখ’, ‘দুর্ভিক্ষ’, ‘আলফাত্তাহ’, ‘প্রতিকৃতি’, ‘মেষ বালিকা’, ‘দুটি গরু’, ‘বাস্তুহারা মা ও শিশু’, ‘প্রতীক্ষা’, ‘স্নান শেষে’ কিংবা ‘কঙ্কালসার’—প্রতিটি কাজই জয়নুলের শিল্পভাবনার ভিন্ন ভিন্ন দিক ফুটিয়ে তোলে।

চিত্রকর্মগুলোর পাশে শিল্পীর স্বাক্ষর, ব্যবহৃত মাধ্যম এবং সংশ্লিষ্ট তথ্য দেওয়া রয়েছে। কোথাও জলরং, কোথাও তেলরং, কোথাও কালি ও কলম, আবার কোথাও লিথোগ্রাফ, টেম্পেরা বা ওয়াশের ব্যবহার দেখা যায়। বিদেশ ভ্রমণের সময় আঁকা কিছু কাজও এখানে স্থান পেয়েছে। জার্মানি, ভিয়েনা, মেক্সিকো, লন্ডন, জাপান, রাশিয়া ও ইরান ভ্রমণের অভিজ্ঞতা তাঁর শিল্পে কীভাবে প্রতিফলিত হয়েছিল, এসব কাজ থেকে তা স্পষ্ট বোঝা যায়।

জয়নুল আবেদিন সংগ্রহশালার গ্যালারিতে সংরক্ষিত চিত্রকর্ম। ছবি: এশিয়া পোস্ট
জয়নুল আবেদিন সংগ্রহশালার গ্যালারিতে সংরক্ষিত চিত্রকর্ম। ছবি: এশিয়া পোস্ট

তবে গ্যালারির সবচেয়ে আকর্ষণীয় বিষয় শুধু ছবি নয়; এখানে সংরক্ষিত রয়েছে শিল্পীর ব্যক্তিগত জীবনের নানা চিহ্ন। চামড়ার ব্যাগ, জুতা, ওয়েস্টকোট, শার্ট, সোয়েটার, হাতঘড়ি, চশমা, কাঠের খাট, বিভিন্ন সনদ ও স্মারক রয়েছে প্রদর্শনীতে। ছবি আঁকার কাজে ব্যবহৃত দোয়াত, খাগের কলম, কাঠকয়লা, ব্রাশ হোল্ডার, রঙের টিউব, কালার প্যালেট, তারপিনের বোতল ও ইজেলসহ নানা সরঞ্জামও রাখা হয়েছে। যে শিল্পী দুর্ভিক্ষপীড়িত মানুষের হাড়জিরজিরে শরীর কিংবা গ্রামবাংলার জীবনের প্রাণময়তা কাগজে তুলে ধরেছিলেন, তার ব্যবহৃত এসব বস্তুর সামনে দাঁড়ালে মানুষটিকে যেন আরও গভীরভাবে অনুভব করা যায়।

এই সংগ্রহশালার ইতিহাসে সবচেয়ে আলোচিত ও দুঃখজনক ঘটনা ১৯৮২ সালের চুরি। সে সময় এখান থেকে ১৭টি মূল্যবান চিত্রকর্ম চুরি হয়ে যায়। দীর্ঘ অনুসন্ধানের পর ১৯৯৪ সালে ১০টি চিত্রকর্ম উদ্ধার করা সম্ভব হলেও বাকি সাতটি আর ফেরত পাওয়া যায়নি। জাতীয় শিল্পঐতিহ্যের এমন গুরুত্বপূর্ণ নিদর্শন হারিয়ে যাওয়ার ঘটনা এখনো এই সংগ্রহশালার সুরক্ষার ক্ষেত্রে একটি বড় সতর্কবার্তা। দীর্ঘদিন স্থানীয় প্রশাসনের মাধ্যমে পরিচালিত হওয়ার পর ১৯৯৯ সাল থেকে এটি বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘরের অধীন পরিচালিত হয়ে আসছে।

বর্তমানে এখানকার নিরাপত্তাব্যবস্থা আগের তুলনায় জোরদার। গ্যালারিতে ছবি তোলার অনুমতি নেই এবং দর্শনার্থীদের চলাচল নজরদারিতে রাখা হয়। আনসার সদস্যসহ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা সার্বক্ষণিক দায়িত্ব পালন করেন। পাশাপাশি ময়মনসিংহ ট্যুরিস্ট পুলিশও দর্শনার্থীদের নিরাপত্তায় সহযোগিতা করে থাকে।

তবে সচেতন মহল মনে করেন, শুধু নিরাপত্তাকর্মী দিয়ে শিল্পকর্মের দীর্ঘমেয়াদি সংরক্ষণ নিশ্চিত করা সম্ভব নয়। ব্রহ্মপুত্রের তীরবর্তী অবস্থানের কারণে এখানে আর্দ্রতা ও তাপমাত্রার ওঠানামা নিয়ন্ত্রণ করা অত্যন্ত জরুরি। গ্যালারিতে বর্তমানে শীতাতপনিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা থাকলেও আন্তর্জাতিক মানের সংরক্ষণের জন্য বৈজ্ঞানিক পরিবেশ নিয়ন্ত্রণ, নিয়মিত পর্যবেক্ষণ ও আধুনিক প্রযুক্তির প্রয়োগ প্রয়োজন।

জয়নুল আবেদিনের নিজস্ব ইচ্ছায় ১৯৮০ সালের দিকে এখানে শিশু-কিশোরদের জন্য আর্ট স্কুল চালু হয়। এখনো সপ্তাহে দুই দিন ছবি আঁকার ক্লাস চলে। প্রথম থেকে দশম শ্রেণির শিক্ষার্থীরা এখানে দীর্ঘমেয়াদি কোর্সে অংশ নেওয়ার সুযোগ পায়। বর্তমানে দুই শতাধিক শিক্ষার্থী এই কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত বলে সংগ্রহশালা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। অর্থাৎ, যে মানুষটি শিল্পকে রাজধানীর গণ্ডি পেরিয়ে আমজনতার কাছে পৌঁছে দিতে চেয়েছিলেন, তার স্মৃতিবাহী প্রতিষ্ঠানটি এখনো সেই কাজের ধারাবাহিকতা ধরে রেখেছে। গ্যালারিতে তার ছবি দেখে শিশুরা যেমন শিল্পের ইতিহাস জানতে পারছে, তেমনি সংগ্রহশালার আর্ট স্কুলে নিজেরাই তুলির আঁচড় দিতে শিখছে।

দর্শনার্থীর সংখ্যাও এই প্রতিষ্ঠানের প্রতি সর্বসাধারণের আগ্রহের প্রমাণ দেয়। গত অর্থবছরে মোট ৩৪ হাজার ৮৮৫ জন দর্শনার্থী সংগ্রহশালাটি পরিদর্শন করেছেন। এর মধ্যে দেশি দর্শনার্থী ২৮ হাজার ৯৩৬ জন, শিশু ৪ হাজার ৩৭০ জন, সার্কভুক্ত দেশের চারজন এবং অন্যান্য দেশের ১ হাজার ৪৫৯ জন বিদেশি পর্যটক ছিলেন। এ ছাড়া সৌজন্য দর্শনার্থী হিসেবে বিনামূল্যে প্রবেশ করেছেন ১ হাজার ৫৬১ জন।

সংগ্রহশালার বাইরে রয়েছে এক ভিন্ন আবহ। ব্রহ্মপুত্রের তীর ঘেঁষে গড়ে ওঠা ‘জয়নুল উদ্যান’ সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত দর্শনার্থীদের পদচারণায় মুখর থাকে। শিশুদের বিনোদনের ব্যবস্থা, উন্মুক্ত মঞ্চ, পাঠাগার ও সবুজ পরিবেশ মিলিয়ে এটি ময়মনসিংহ শহরের অন্যতম প্রধান অবকাশকেন্দ্র। ফলে সংগ্রহশালা ও উদ্যান মিলে পুরো এলাকাটি শুধু শিল্পপ্রেমীদের জন্যই নয়, সাধারণ মানুষের কাছেও একটি গুরুত্বপূর্ণ নগর-পরিসর হিসেবে গড়ে উঠেছে।

রাজশাহী থেকে আসা দর্শনার্থী আমিনুল ইসলাম সংগ্রহশালা ঘুরে দেখে বলেন, জয়নুল আবেদিনের শিল্পকর্মের কথা অনেক শুনেছি। কিন্তু সামনে দাঁড়িয়ে তার আঁকা দুর্ভিক্ষের ছবি দেখে অন্যরকম এক অনুভূতি হলো। ছবিগুলো যেন আমাদের ইতিহাসের না বলা গল্পগুলো চোখের সামনে তুলে ধরে। রাজশাহী থেকে ময়মনসিংহে এসে এমন একটি সংগ্রহশালা দেখতে পেরে সত্যিই ভালো লাগছে।

ময়মনসিংহের নান্দাইল থেকে আসা দর্শনার্থী জাহিদ-মনোয়ারা দম্পতি জানান, ময়মনসিংহের মানুষ হয়েও এতদিন সংগ্রহশালাটি ভালোভাবে দেখা হয়নি। এখানে এসে তারা অনুভব করেছেন শহরের বুকেই কত অসাধারণ এক শিল্প-ঐতিহ্য রয়েছে। জয়নুল আবেদিনের কাজ দেখে তারা একই সঙ্গে গর্বিত ও আবেগাপ্লুত।

ময়মনসিংহের আনন্দ মোহন কলেজের শিক্ষার্থী ফাহিম আহমেদ বলেন, বন্ধুদের সঙ্গে কয়েকবার এই সংগ্রহশালায় এসে সময়টা দারুণ কেটেছে। তবে সংগ্রহশালাটি আরও আধুনিকায়ন করা হলে দর্শনার্থীর সংখ্যা আরও বাড়বে বলে মনে করেন তিনি।

সংগ্রহশালার উপ-কীপার মুকুল দত্ত জানান, দর্শনার্থীদের স্বাচ্ছন্দ্যের কথা মাথায় রেখে এখানে নামাজের স্থান, বিশুদ্ধ পানির ব্যবস্থা ও মাতৃদুগ্ধপানের সুবিধা রাখা হয়েছে। শিক্ষা কার্যক্রমের অংশ হিসেবে স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা নির্দিষ্ট প্যাডে আবেদন করে বিনামূল্যে সংগ্রহশালা পরিদর্শন করতে পারেন।

তিনি আরও জানান, আনসার সদস্যসহ ২৫ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী নিরাপত্তা, গ্যালারির শৃঙ্খলা ও শিল্পকর্মের পরিচর্যায় নিয়োজিত রয়েছেন। সংগ্রহশালাটিকে সময়ের সঙ্গে আরও দর্শকবান্ধব করে তুলতে কাজ চলছে। বর্তমানে গ্যালারিতে টেলিভিশনের মাধ্যমে জয়নুল আবেদিনের জীবন ও কর্মের ওপর তথ্যচিত্র দেখানো হচ্ছে। ভবিষ্যতে প্রতিটি শিল্পকর্মের পাশে অডিও গাইড ব্যবস্থা চালুর পরিকল্পনা রয়েছে, যেন দর্শনার্থীরা হেডফোনের মাধ্যমে চিত্রকর্মের ইতিহাস ও শিল্পীর ভাবনা সরাসরি শুনতে পারেন।

ময়মনসিংহ ট্যুরিস্ট পুলিশের এসআই জামিল জানান, দর্শনার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং যেকোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঠেকাতে তারা সার্বক্ষণিক নজরদারি রাখেন ও প্রয়োজন অনুযায়ী তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করেন।

রাজধানী ঢাকা থেকে ময়মনসিংহের জয়নুল সংগ্রহশালার দূরত্ব ১২৪ কিলোমিটার। এ ছাড়া ময়মনসিংহ শহরের জিরো পয়েন্ট থেকে কিশোরগঞ্জের দূরত্ব ৬৮ কিলোমিটার, টাঙ্গাইল ৯৪, নেত্রকোনা ৩৯, জামালপুর ৫৭ এবং শেরপুরের দূরত্ব ৬৯ কিলোমিটার। ময়মনসিংহ জিরো পয়েন্ট থেকে ব্রহ্মপুত্র নদের পাড় লাগোয়া সড়ক ধরে দেড় কিলোমিটার এগোলেই দেখা মেলে শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিন সংগ্রহশালার।

বিষয় :