logo

সিঁড়ি নির্মাণ নিয়ে কথা-কাটাকাটি, সংঘর্ষে চাচার মৃত্যু

সিঁড়ি নির্মাণ নিয়ে কথা-কাটাকাটি, সংঘর্ষে চাচার মৃত্যু
মধুখালী থানা। ছবি: এশিয়া পোস্ট

একই পরিবারের মানুষ। সম্পর্ক চাচা-ভাতিজার। একই বাড়ির উঠানেই ছিল তাদের চলাফেরা, পারিবারিক সম্পর্ক ও আপনজনের বন্ধন। সেই আপন সম্পর্কেই হঠাৎ ফাটল ধরেছিল বাড়ির সিঁড়ি নির্মাণকে কেন্দ্র করে। কথা-কাটাকাটি থেকে শুরু হওয়া বিরোধ একপর্যায়ে রূপ নেয় সংঘর্ষে। আর সেই সংঘর্ষেই মাথায় আঘাত পেয়ে প্রাণ গেল চাচা মোহাম্মদ জাহিদুল বিশ্বাসের (৪৭)।

শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টার দিকে ফরিদপুরের মধুখালী উপজেলার ডুমাইন ইউনিয়নের ডুমাইন গ্রামের বিশ্বাসপাড়ায় এ ঘটনা ঘটে।

নিহত জাহিদুল বিশ্বাস ওই গ্রামের মৃত বদিউল আলম বিশ্বাসের ছেলে। এ ঘটনায় তার দুই ভাতিজা শাকিল বিশ্বাস (২৫) ও সাইমুন বিশ্বাস (১৯)-এর বিরুদ্ধে জড়িত থাকার অভিযোগ উঠেছে। তারা আমোদ আলী বিশ্বাসের ছেলে।

স্থানীয়রা জানান, বাড়িতে সিঁড়ি নির্মাণকে কেন্দ্র করে কিছুদিন ধরেই চাচা-ভাতিজার মধ্যে বিরোধ চলছিল। জাহিদুল বিশ্বাসের দাবি ছিল, তার জায়গার ওপর সিঁড়ি নির্মাণ করা হচ্ছে। এতে তার চলাচলে অসুবিধা হবে। এ বিষয়টি নিয়ে শুক্রবার সকালে তাদের মধ্যে কথা-কাটাকাটি শুরু হয়।

একপর্যায়ে পারিবারিক সেই বিরোধ উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। স্থানীয় সূত্রের দাবি, জাহিদুল বিশ্বাস কোদাল দিয়ে তার ভাতিজা শাকিল বিশ্বাসের মাথায় আঘাত করেন।

এরপর শাকিল ও তার ভাই সাইমুন ক্ষুব্ধ হয়ে জাহিদুলের ওপর পাল্টা হামলা চালান বলে অভিযোগ রয়েছে। এ সময় তার মাথায় আঘাত লাগে। গুরুতর আহত হয়ে জাহিদুল বিশ্বাস মাটিতে লুটিয়ে পড়েন।

পরে স্থানীয়রা তাকে দ্রুত মধুখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. মোহাম্মদ সোহেল রানা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

সিঁড়ি নির্মাণকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া বিরোধে চাচা-ভাতিজার এমন পরিণতিতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্বজনদের মধ্যে চলছে আহাজারি। এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যেও হতাশা ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

এ ঘটনায় সংঘর্ষে শাকিল বিশ্বাসও আহত হয়েছেন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।

মধুখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শুকদেব রায় এশিয়া পোস্টকে বলেন, মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।

পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার প্রকৃত কারণ, সংঘর্ষের সময় কী ঘটেছিল এবং কার কী ভূমিকা ছিল, এসব বিষয় তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।