স্কুলছাত্রীকে অপহরণের অভিযোগে ৩ জনের নামে মামলা

পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জ উপজেলায় দশম শ্রেণির এক স্কুলছাত্রীকে অপহরণের অভিযোগে তিনজনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। এ ঘটনায় আরও অজ্ঞাতনামা চার থেকে পাঁচজনকে আসামি করা হয়েছে।
শুক্রবার (১৫ মে) সকালে বিষয়টি নিশ্চিত করেন দেবীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সেলিম মালিক।
পরিবার ও মামলা সূত্রে জানা গেছে, গত ৬ মে স্কুলে যাওয়ার উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে বের হয় ওই শিক্ষার্থী। তবে স্কুল শেষে বাড়িতে না ফেরায় পরিবারের সদস্যরা খোঁজ নিতে শুরু করেন। পরে স্কুল কর্তৃপক্ষ জানায়, সেদিন ওই শিক্ষার্থী বিদ্যালয়ে উপস্থিত ছিল না। সন্ধ্যা পর্যন্ত তার কোনো খোঁজ না মেলায় শিক্ষার্থীর বাবা দেবীগঞ্জ থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন।
সেদিন সন্ধ্যায় শিক্ষার্থীর বাবার মুঠোফোনে একটি অজ্ঞাত নম্বর থেকে কল আসে। কলকারী নিজেকে মেয়েটির স্বামী দাবি করে বলেন, আপনার মেয়ে আমার কাছে এসেছে। আমি তাকে বিয়ে করেছি। এরপর নম্বরটি বন্ধ পাওয়া যায়।
লিখিত অভিযোগে বলা হয়, পুলিশের সহায়তায় নম্বরটি ট্রুকলারে শনাক্ত করা হলে আব্বাস আলী ওরফে আকাশ (৩৫) নাম পাওয়া যায়। তার বাড়ি নোয়াখালীর সদর উপজেলার ধর্মপুর হাজিরহাট এলাকায়। বর্তমানে তিনি ঢাকার বাড্ডা এলাকায় থাকতেন বলে জানা গেছে।
দেবীগঞ্জ থানা-পুলিশের সহযোগিতায় গত ৮ মে রাতে ঢাকার বাড্ডা থানার ডিআইটি প্রজেক্ট এলাকার একটি বাসা থেকে ওই শিক্ষার্থীকে উদ্ধার করা হয়। এ সময় তিনি সুলতানা রোজ নিপা নামে এক নারীর কাছে ছিলেন বলে জানিয়েছে পুলিশ। পরে শিক্ষার্থীকে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
শিক্ষার্থীর বক্তব্যের ভিত্তিতে গত ১৩ মে তার বাবা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করেন। মামলায় আব্বাস আলী ওরফে আকাশকে প্রধান আসামি করা হয়েছে। দ্বিতীয় আসামি করা হয়েছে অভিনেত্রী পরিচয়ে পরিচিত সুলতানা রোজ নিপাকে। এ ছাড়া দেবীগঞ্জ কলেজপাড়া এলাকার বাসিন্দা ফজিলা বেগমকে তৃতীয় আসামি করা হয়েছে।
এজাহারে বলা হয়, অভিযুক্ত আকাশ দেবীগঞ্জে একটি ভেকু মেশিন কোম্পানিতে ব্যবস্থাপক হিসেবে কাজ করতেন এবং কলেজপাড়া এলাকায় ভাড়া বাসায় থাকতেন। স্কুলে যাতায়াতের পথে তিনি ওই শিক্ষার্থীকে প্রেমের প্রস্তাব দেন। প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় পরিকল্পিতভাবে অপহরণের ঘটনা ঘটানো হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
ওসি সেলিম মালিক বলেন, মামলার আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।
