logo
Advertisement

রাঙামাটি/নিম্নমানের সামগ্রীতে চলছে ২৪ কোটি টাকার সড়ক নির্মাণ

এশিয়া পোস্ট নিউজ
এশিয়া পোস্ট নিউজ
রাঙামাটি, চট্টগ্রাম
নিম্নমানের সামগ্রীতে চলছে ২৪ কোটি টাকার সড়ক নির্মাণ
কাউখালী-সুগার মিল সড়ক সংস্কার কাজে অনিয়মের অভিযোগ তুলেছেন স্থানীয়রা। ছবি: এশিয়া পোস্ট

রাঙামাটির কাউখালী-সুগার মিল সংযোগ সড়কের সম্প্রসারণ ও সংস্কার কাজে শুরু থেকেই নিম্নমানের ইট ও পাথর (খোয়া) ব্যবহারের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে।

স্থানীয়দের বাধার মুখে প্রাথমিক তদন্তে অনিয়মের সত্যতা পেয়ে ঠিকাদারকে আগেই মৌখিক সতর্কতা দিয়েছিল স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি)। তবে সতর্কতার পরও অনিয়ম অব্যাহত থাকায় এবার ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

এলজিইডি সূত্রে জানা গেছে, চট্টগ্রাম জেলার সাথে কাউখালী উপজেলার সড়ক যোগাযোগ সহজ ও দ্রুত করার লক্ষ্যে কাউখালী-সুগার মিল সংযোগ সড়কের সংস্কারকাজ শুরু হয়। ১২ কিলোমিটার দীর্ঘ এই সড়কের প্রথম ধাপে দুই প্যাকেজে ৭ কিলোমিটার রাস্তা সম্প্রসারণ ও পুনঃনির্মাণে প্রাক্কলিত ব্যয় ধরা হয়েছে ২৪ কোটি টাকা।

তবে সরেজমিনে দেখা যায়, কাজের শুরুতেই নিম্নমানের ইট ও দুর্বল খোয়া ব্যবহার করা হচ্ছে। রাস্তার পাশে স্তূপ করে রাখা মানহীন ইট ভেঙেই খোয়া তৈরি করছেন শ্রমিকরা। অভিযোগের প্রেক্ষিতে কাউখালী উপজেলা প্রকৌশলী আব্দুল আলিমকে সড়কে ব্যবহৃত নিম্নমানের খোয়া সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দিতে দেখা গেছে।

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, অনেক স্থানে হালকা যানবাহনের চাকার চাপেই গুঁড়িয়ে যাচ্ছে সড়কে বিছানো খোয়া। কিছু জায়গায় ঝোপঝাড়ের আড়ালে নিম্নমানের ইটের স্তূপ লুকিয়ে রাখা হয়েছে, যা হাত দিয়েই সহজে ভেঙে ফেলা যাচ্ছে।

স্থানীয় বাসিন্দা মো. মিসকাত হাসান রবি বলেন, নিত্যদিন কাঠ, বাঁশ ও ইটবোঝাই ভারী যানবাহন চলাচল করা এই সড়কটিতে নিম্নমানের কাজ চলায় ভবিষ্যতে বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি হবে। এর আগে অসন্তোষের মুখে সড়ক থেকে কিছু পরিমাণ খোয়া সরিয়ে নেওয়া হলেও অধিকাংশ অংশেই অবাধে নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার করা হচ্ছে।

সুগার মিল আদর্শ গ্রাম এলাকার বাসিন্দা মো. সুমন মিয়া বলেন, এই সড়ক নিয়ে বহুবার স্থানীয়রা অভিযোগ জানালেও প্রশাসন কেন ব্যবস্থা নিচ্ছে না তা আমরা জানি না। দীর্ঘদিনের দাবির প্রেক্ষিতে সড়কের সম্প্রসারণ ও সংস্কার কাজ হচ্ছে। তবে এভাবে কাজ চললে এক-দুই বছরের বেশি সড়কটি টিকবে না।

জানা গেছে, মেসার্স ইউনুস অ্যান্ড ব্রাদার্স’ নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্স ব্যবহার করে কাজটি বাস্তবায়ন করছেন স্থানীয় কয়েকজন ঠিকাদার।

কাজের অনিয়ম প্রসঙ্গে জানতে চাইলে বিষয়টি নিয়ে সরাসরি মন্তব্য এড়িয়ে যান স্থানীয় ঠিকাদার মো. ইউনুস। তিনি বলেন, প্রকৌশলী ও কর্মকর্তারা সরেজমিনে তদন্ত করে সিদ্ধান্ত নেবেন। অভিযোগের কতটুকু সত্যতা আছে তা তারাই ভালো বলতে পারবেন, আমি ভালো বা খারাপ কোনোটাই বলব না।

কাউখালী উপজেলা প্রকৌশলী আব্দুল আলিম বলেন, অনেকে না বুঝে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে মন্তব্য করছেন। তবে যেখানে খারাপ সামগ্রী দেখা গেছে, সেখান থেকে খোয়া সরিয়ে নিতে বলা হয়েছে। আমরা মানসম্মত কাজ আদায় করে নেওয়ার চেষ্টা করছি।

রাঙামাটি এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী পারভেজ সারোয়ার হোসেন বলেন, অনিয়মের বিষয়ে জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করা হবে। অভিযোগের ভিত্তিতে পূর্বে দুটি প্যাকেজেই সরেজমিনে তদন্ত করে নিম্নমানের ইট ও খোয়ার প্রমাণ পাওয়া যায়। সে সময় মৌখিকভাবে সতর্ক করে খারাপ ইট অপসারণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল।

তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, যদি ঠিকাদার আবারও একই ধরনের অনিয়মের পুনরাবৃত্তি করেন, তবে মনিটরিং আরও জোরদার করা হবে। সংশোধন না হলে চিঠি দিয়ে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে সরাসরি আইনের আওতায় আনা হবে।

গুরুত্বপূর্ণ এই সংযোগ সড়কের কাজ টেকসই করতে কেবল মৌখিক সতর্কতা বা লোকদেখানো তদারকি নয়, বরং দায়ী ঠিকাদারের বিরুদ্ধে দৃশ্যমান আইনি পদক্ষেপ ও মানসম্মত নির্মাণসামগ্রী নিশ্চিতের জোর দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।