logo

মোংলা বন্দরে ৪০৬৮ কোটি টাকার উন্নয়ন প্রকল্পের উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী

মোংলা বন্দরে ৪০৬৮ কোটি টাকার উন্নয়ন প্রকল্পের উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ছবি: প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের ওয়েবসাইট থেকে নেওয়া

মাত্র দুই সপ্তাহের ব্যবধানে আবারো মোংলা বন্দরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। আগামীকাল বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) তিনি বন্দরের আধুনিকায়ন ও সম্প্রসারণের অংশ হিসেবে ৪ হাজার ৬৮ কোটি টাকা ব্যয়ে দুটি নতুন কন্টেইনার জেটি ও ইয়ার্ড নির্মাণকাজের উদ্বোধন করবেন। একইসঙ্গে মোংলা বন্দরকে রেলপথে যুক্ত করতে চীন রেলওয়ে কনস্ট্রাকশন করপোরেশনের সঙ্গে চুক্তি স্বাক্ষরিত হওয়ার কথা রয়েছে।

প্রধানমন্ত্রীর এই সফর ঘিরে বন্দর ব্যবহারকারীসহ স্থানীয় মানুষের মধ্যে নতুন আশার সঞ্চার হয়েছে।

এর আগে গত ২২ অক্টোবর মোংলা বন্দর পরিদর্শন করেন প্রধানমন্ত্রী। ওই সফরের দুই সপ্তাহের মাথায় আবারো তার বন্দরে আগমনকে কেন্দ্র করে বন্দরকেন্দ্রিক উন্নয়ন ও অর্থনৈতিক সম্ভাবনা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।

মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষ সূত্রে জানা গেছে, বন্দরের আধুনিকায়ন ও সম্প্রসারণ প্রকল্পের আওতায় দুটি নতুন কন্টেইনার জেটি ও ইয়ার্ড নির্মাণ করা হবে। পাশাপাশি পণ্য ওঠানো-নামানোর সক্ষমতা বাড়াতে যুক্ত করা হবে ৪৯টি আধুনিক যন্ত্রপাতি। এ প্রকল্পে মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ৪ হাজার ৬৮ কোটি টাকা। এর মধ্যে বাংলাদেশ সরকার বিনিয়োগ করবে ৪৭৫ কোটি টাকা। বাকি অর্থায়ন করবে চীনা পক্ষ।

সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রীর চীন সফরের সময় এ উন্নয়ন প্রকল্প নিয়ে চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। পরবর্তী সময়ে গত ১০ অক্টোবর বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে সমঝোতা স্মারক ও ঋণ চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে।

মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল আরিফ আহমেদ মোস্তফা বলেন, ৪ হাজার ৬৮ কোটি টাকার এ প্রকল্পের আওতায় দুটি নতুন কন্টেইনার জেটি ও ইয়ার্ড নির্মাণ করা হবে। পাশাপাশি পণ্য হ্যান্ডলিংয়ের জন্য ৪৯টি আধুনিক যন্ত্রপাতি সংযোজন করা হবে।

এদিকে বন্দরের সক্ষমতা বাড়াতে শুধু অবকাঠামো নির্মাণই নয়, বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ বাস্তবায়নের দাবি জানিয়েছেন বন্দর ব্যবহারকারীরা। তাদের মতে, বন্দর চ্যানেলের নাব্যতা ধরে রাখতে পরিকল্পিত ড্রেজিং ও নিয়মিত সংরক্ষণ, সড়ক ও রেল যোগাযোগের উন্নয়ন, ফয়লা বিমানবন্দর চালু এবং আকরাম পয়েন্টে দ্রুত এলএনজি স্টেশন নির্মাণ করা প্রয়োজন।

মোংলা বন্দর বার্থ ও শিপ অপারেটর অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক জুলফিকার আলী বলেন, বন্দরের পূর্ণ সক্ষমতা কাজে লাগাতে চ্যানেলের নাব্যতা রক্ষা, যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়ন এবং প্রয়োজনীয় অবকাঠামো নির্মাণ জরুরি। এসব উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে বন্দরের কার্যক্রম আরও গতিশীল হবে।

পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম বলেন, প্রধানমন্ত্রী মোংলা বন্দরে চীনা কোম্পানির মাধ্যমে নতুন দুটি কন্টেইনার জেটি নির্মাণকাজের উদ্বোধন করবেন। পাশাপাশি ইনভেস্ট বাংলাদেশ ও চায়না রেলওয়ে কনস্ট্রাকশন করপোরেশনের মধ্যে রেলওয়ে সংক্রান্ত চুক্তি স্বাক্ষরিত হবে। এর ফলে মোংলা বন্দর দিয়ে কন্টেইনার পরিবহনে রেল যোগাযোগ চালু হবে। এতে ব্যবসায়ীদের আগ্রহ ও বিনিয়োগ বাড়বে।

সংশ্লিষ্টদের মতে, নতুন জেটি ও ইয়ার্ড নির্মাণ, আধুনিক যন্ত্রপাতি সংযোজন এবং রেল যোগাযোগ চালু হলে মোংলা বন্দরের পণ্য পরিবহন ও হ্যান্ডলিং সক্ষমতা বাড়বে। পাশাপাশি দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ আকৃষ্ট হওয়ার সুযোগ তৈরি হবে। পরিকল্পিত উন্নয়ন বাস্তবায়িত হলে চট্টগ্রাম বন্দরের বিকল্প ও দেশের দ্বিতীয় সমুদ্রবন্দর হিসেবে মোংলা বন্দরের গুরুত্ব আরও বাড়বে। এতে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের অর্থনীতি, কর্মসংস্থান ও ব্যবসা-বাণিজ্যে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।