logo

প্রতিদিনই চিয়া সিড খাওয়া নিরাপদ, সঠিক পরিমাণ জানা জরুরি

প্রতিদিনই চিয়া সিড খাওয়া নিরাপদ, সঠিক পরিমাণ জানা জরুরি

চিয়া সিড আজকাল ফিটনেস ও স্বাস্থ্য সচেতন মানুষের মধ্যে একেবারে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। ছোট এই বীজ কিন্তু পুষ্টির দিক থেকে অত্যন্ত সমৃদ্ধ। এতে রয়েছে উচ্চমাত্রার ফাইবার, প্রোটিন, ওমেগা ৩ ফ্যাটি অ্যাসিড, অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট এবং হাড় ও দেহের জন্য গুরুত্বপূর্ণ খনিজ উপাদান। এই কারণে শুধু ওজন নিয়ন্ত্রণ বা শক্তি বাড়ানোর জন্য নয়, সার্বিক স্বাস্থ্যের জন্যও চিয়া সিডকে একটি ‘সুপারফুড’ হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

প্রাচীন অ্যাজটেক ও মায়া সভ্যতা থেকেই চিয়া সিডকে শক্তির উৎস হিসেবে ব্যবহার করা হতো। আর আজকের দিনে এই বীজ বিশ্বজুড়ে জনপ্রিয়, বিশেষ করে যারা স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস মেনে চলেন তাদের মধ্যে। তবে পুষ্টিগুণ থাকলেও, সঠিক পরিমাণে না খেলে চিয়া সিডের কিছু পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হতে পারে। তাই প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় এটি কতটুকু খাওয়া নিরাপদ এবং কীভাবে খেলে সর্বোচ্চ উপকার পাওয়া যায়, এগুলো জানা গুরুত্বপূর্ণ।

চলুন জেনে নিই চিয়া সিড কী, এর উপকারিতা, প্রতিদিনের নিরাপদ পরিমাণ, খাওয়ার সঠিক উপায় এবং কোন কোন পরিস্থিতিতে সাবধান থাকা উচিত- এসব বিষয়ে। সঠিক জ্ঞান থাকলে আপনি স্বাস্থ্যকরভাবে চিয়া সিড উপভোগ করতে পারবেন এবং এটি আপনার স্বাস্থ্যের জন্য কার্যকর হবে।

চিয়া সিড কী

চিয়া সিড আসে সালভিয়া হিস্পানিকা নামের একটি উদ্ভিদ থেকে, যা মূলত মধ্য ও দক্ষিণ আমেরিকায় জন্মায়। প্রাচীন অ্যাজটেক ও মায়া সভ্যতায় এটি শক্তির উৎস হিসেবে ব্যবহৃত হতো। বর্তমানে এটি বিশ্বজুড়ে জনপ্রিয় পুষ্টিকর খাদ্য।

প্রায় দুই টেবিল চামচ বা এক আউন্স চিয়া সিডে সাধারণত থাকে

- ফাইবার প্রায় ১০ গ্রাম

- প্রোটিন প্রায় ৪ গ্রাম

- ফ্যাট প্রায় ৯ গ্রাম, যার মধ্যে ওমেগা ৩ প্রায় ৫ গ্রাম

- ক্যালসিয়াম দৈনিক চাহিদার প্রায় ১৮ শতাংশ

- ম্যাগনেসিয়াম প্রায় ৩০ শতাংশ

- ফসফরাস প্রায় ২৭ শতাংশ

এই পুষ্টিগুণের কারণেই অনেকেই একে সুপারফুড হিসেবে বিবেচনা করেন।

প্রতিদিন কতটুকু খাওয়া উচিত

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, অধিকাংশ প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের জন্য প্রতিদিন এক থেকে দুই টেবিল চামচ বা প্রায় ১৫ থেকে ৩০ গ্রাম চিয়া সিড যথেষ্ট। এর বেশি খেলে উপকারের বদলে অস্বস্তি দেখা দিতে পারে।

তবে সবার শরীর এক রকম নয়। বয়স, খাদ্যাভ্যাস, শারীরিক অবস্থা এবং আগে থেকে থাকা রোগের ওপর ভিত্তি করে পরিমাণ কমবেশি হতে পারে। যারা প্রথমবার চিয়া সিড খাওয়া শুরু করছেন, তারা অল্প পরিমাণ দিয়ে শুরু করাই ভালো।

চিয়া সিড খাওয়ার আগে অন্তত ২০ মিনিট পানিতে বা অন্য তরলে ভিজিয়ে রাখা উচিত। এতে বীজ ফুলে নরম হয় এবং সহজে হজম হয়। অনেকেই সারারাত ভিজিয়ে রেখে সকালে খেয়ে থাকেন।

চিয়া সিডের উপকারিতা

হৃদ্‌স্বাস্থ্যে সহায়ক: চিয়া সিডে থাকা ওমেগা ৩ ফ্যাটি অ্যাসিড রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে এবং কোলেস্টেরল কমাতে সহায়ক হতে পারে।

হজমে উপকারী: উচ্চমাত্রার ফাইবার অন্ত্রের কার্যকারিতা বাড়ায় এবং কোষ্ঠকাঠিন্য কমাতে সাহায্য করে।

ওজন নিয়ন্ত্রণে সহায়ক: পানিতে ভিজলে চিয়া সিড ফুলে যায় এবং দীর্ঘ সময় পেট ভরা অনুভূতি দেয়। এতে অতিরিক্ত খাওয়ার প্রবণতা কমতে পারে।

প্রোটিনের উৎস: চিয়া সিড উদ্ভিজ্জ প্রোটিনের ভালো উৎস। যারা নিরামিষভোজী বা উদ্ভিজ্জ খাদ্য বেশি খান, তাদের জন্য এটি উপকারী হতে পারে।

হাড়ের স্বাস্থ্যে সহায়ক: ক্যালসিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম ও ফসফরাস হাড় মজবুত রাখতে সাহায্য করে।

অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট সমৃদ্ধ: এতে থাকা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট শরীরকে ক্ষতিকর উপাদানের প্রভাব থেকে সুরক্ষা দিতে সহায়তা করে।

বেশি খেলে কী সমস্যা হতে পারে

চিয়া সিডে ফাইবারের পরিমাণ বেশি। অতিরিক্ত খেলে পেট ফাঁপা, গ্যাস, ডায়রিয়া বা পেট ব্যথা হতে পারে। পর্যাপ্ত পানি না খেলে অস্বস্তি বাড়তে পারে।

যাদের রক্ত পাতলা করার ওষুধ চলছে বা রক্তক্ষরণের ঝুঁকি আছে, তাদের ক্ষেত্রে বেশি পরিমাণ ওমেগা ৩ গ্রহণ ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। এ ধরনের সমস্যা থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

খাদ্যতালিকায় কীভাবে যোগ করবেন

চিয়া সিড সহজেই বিভিন্ন খাবারের সঙ্গে মেশানো যায়। যেমন

- সকালের স্মুদিতে এক চামচ যোগ করা

- দুধ বা ওটসের সঙ্গে ভিজিয়ে রাখা

- দই ও ফলের সঙ্গে মিশিয়ে খাওয়া

- পাউরুটি বা কেক তৈরির সময় ব্যবহার করা

- চিয়া পুডিং তৈরি করা

চিয়া সিড পুষ্টিকর এবং উপকারী একটি খাবার। তবে পরিমিত পরিমাণে খাওয়াই সবচেয়ে নিরাপদ। প্রতিদিন এক থেকে দুই টেবিল চামচ অধিকাংশ মানুষের জন্য যথেষ্ট।

সুষম খাদ্যাভ্যাস, পর্যাপ্ত পানি পান এবং নিয়মিত শারীরিক পরিশ্রমের সঙ্গে চিয়া সিড যুক্ত করলে ভালো ফল পাওয়া যায়। তবে যে কোনো খাবারের মতো এটিও সচেতনভাবে এবং সীমিত পরিমাণে খাওয়াই সুস্থ থাকার সঠিক উপায়।

সূত্র: টাইমর অব ইন্ডিয়া