logo
Advertisement

মাদারীপুরে সেকান্দার হত্যা মামলায় তিন ভাইয়ের যাবজ্জীবন

মাদারীপুরে সেকান্দার হত্যা মামলায় তিন ভাইয়ের যাবজ্জীবন
মাদারীপুরের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালতের ফটক। ছবি : এশিয়া পোস্ট

মাদারীপুরের রাজৈর উপজেলার সেকান্দার আলী হাওলাদার হত্যা মামলায় দীর্ঘ এক যুগ পর তিন ভাইকে যাবজ্জীবন ও আরেক ভাইকে সাত বছরের সশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করেছে আদালত। একই সঙ্গে যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত প্রত্যেককে এক লাখ টাকা করে এবং সাত বছরের সাজাপ্রাপ্ত আসামিকে ১০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) মাদারীপুরের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ প্রথম আদালতের বিচারক নাহিদুর রহমান নাহিদ এ রায় ঘোষণা করেন।

সাজাপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন রাজৈর উপজেলার বাসাবাড়ী গ্রামের মৃত গফুর হাওলাদারের ছেলে লিটন হাওলাদার (৩০), টিটন হাওলাদার (২৬), বাচ্চু হাওলাদার (৪০) ও আতিয়ার হাওলাদার (৩৫)।

আদালত সূত্রে জানা যায়, লিটন, টিটন ও বাচ্চু হাওলাদারকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ডের পাশাপাশি এক লাখ টাকা করে অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে। জরিমানার টাকা দিতে ব্যর্থ হলে প্রত্যেককে আরও এক বছর বিনাশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে। অপর আসামি আতিয়ার হাওলাদারকে সাত বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ও ১০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে। জরিমানা অনাদায়ে তাকে আরও দুই মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে।

মামলার নথি ও এজাহার সূত্রে জানা যায়, ২০১৪ সালের ৫ জুলাই সন্ধ্যায় রাজৈর উপজেলার বাসাবাড়ী ব্রিজের পশ্চিম পাশে সেকেন্দার আলী হাওলাদার ও তার ভাতিজা কামরুল হাওলাদারের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে। জমিজমাসংক্রান্ত বিরোধের জেরে পূর্বপরিকল্পিতভাবে তাদের ওপর হামলা চালানো হয় বলে মামলার এজাহারে অভিযোগ করা হয়।

এজাহারে উল্লেখ করা হয়, হামলাকারীরা লোহার রড ও ধারালো অস্ত্র দিয়ে সেকেন্দার আলী ও কামরুল হাওলাদারকে এলোপাতাড়ি মারধর করে গুরুতর আহত করেন। পরে স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে রাজৈর হাসপাতালে নিয়ে যান। অবস্থার অবনতি হলে চিকিৎসকের পরামর্শে তাদের ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে সেকান্দার আলীর মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় ২০১৪ সালের ৬ জুলাই রাজৈর থানায় মামলা করেন ভুক্তভোগী পক্ষ। মামলাটির জিআর নম্বর ১৮৩/১৪ এবং দায়রা নম্বর ১৯৭/১৭।

দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়ায় সাক্ষ্য-প্রমাণ গ্রহণ ও পর্যালোচনা শেষে মঙ্গলবার মামলাটির রায় ঘোষণা করেন আদালত। এক যুগের কাছাকাছি সময় পর ঘোষিত এ রায়ে চার আসামির মধ্যে তিনজনকে যাবজ্জীবন এবং একজনকে সাত বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হলো।

মাদারীপুর আদালতের পিপি এমারত হোসেন বলেন, মামলার সাক্ষ্য-প্রমাণ পর্যালোচনা করে আদালত চার আসামিকে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দিয়েছেন।