চৌগাছায় কাঁচাবাজারে মডেল মসজিদ নির্মাণ ঘিরে উত্তেজনা

এশিয়া পোস্ট নিউজ, যশোর
চৌগাছায় কাঁচাবাজারে মডেল মসজিদ নির্মাণ ঘিরে উত্তেজনা
যশোরের চৌগাছা কাঁচাবাজার। ছবি: এশিয়া পোস্ট

যশোরের চৌগাছা উপজেলায় প্রশাসন নির্ধারিত পাইকারি কাঁচাবাজারের স্থানে প্রস্তাবিত মডেল মসজিদ নির্মাণ ঘিরে উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান সরিয়ে নেওয়ার জন্য গত মাসে নোটিশ দেওয়ার পর কয়েক দফা বৈঠকেও কোনো সমাধান হয়নি। প্রশাসনের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে ব্যবসায়ীরা রোববার (২১ জুন) জেলা প্রশাসকের (ডিসি) কার্যালয় ঘেরাও কর্মসূচী দিয়েছেন।

Advertisement

ব্যবসায়ী ও প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, চৌগাছা পাইকারি কাঁচাবাজারের দক্ষিণ-পশ্চিম পাশে মডেল মসজিদ নির্মাণের জন্য স্থান নির্ধারণ করা হয়। ওই এলাকায় বর্তমানে প্রায় ১৭২টি কাঁচামালের আড়ৎ রয়েছে। ব্যবসায়ীদের প্রতিষ্ঠান সরিয়ে নেওয়ার জন্য উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে নোটিশ দেওয়া হয়েছে। নোটিশে সাত দিনের মধ্যে জায়গা খালি করার নির্দেশনা দেওয়া হয়। অন্যথায় উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

ব্যবসায়ীরা বলছেন, তারা কেউ মডেল মসজিদ নির্মাণের বিরোধিতা করছেন না। তবে বাজারের মাঝখানে মসজিদ নির্মাণ না করে পাশের কোনো খালি বা পরিত্যক্ত স্থানে নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন। এতে মসজিদ নির্মাণ সম্ভব হবে, ব্যবসায়ীদেরও ক্ষতির মুখে পড়তে হবে না।

চৌগাছা কাঁচাবাজার ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি মশিউর রহমান বলেন, আমরা মসজিদ নির্মাণের বিরোধী নই। আগেও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে লিখিতভাবে স্থান পরিবর্তনের আবেদন করেছি। বিকল্প জায়গার প্রস্তাব দিয়েছি। সাধারণ মানুষের ক্ষতি করে বা কারও পেটে লাথি মেরে মসজিদ নির্মাণ ইসলাম সমর্থন করে কি না, সেটিও বিবেচনা করা প্রয়োজন।

সাধারণ সম্পাদক আয়নাল হোসেন বলেন, এই জায়গায় ১৭২টি আড়ৎ রয়েছে। বাজারকে কেন্দ্র করে প্রায় দুই হাজার ৫০০ থেকে তিন হাজার পরিবার জীবিকা নির্বাহ করছে। আমরা চাই চৌগাছায় মডেল মসজিদ হোক। তবে আমাদের পাশে আরও জায়গা রয়েছে, পরিত্যক্ত স্থানও আছে। সেখানে মসজিদ নির্মাণ করা হলে হাজারো পরিবার জীবিকা রক্ষা করতে পারবে।

তিনি আরও বলেন, সরকারের কাছে আমাদের আবেদন, নির্ধারিত স্থান পরিবর্তন করে বাজার থেকে কিছুটা দূরে নদীর ওপারের জায়গায় মসজিদ নির্মাণ করা হোক। কাঁচামালের হাট ক্ষতি করে কোনো মসজিদ নিমাণ করার চেষ্টা করা হয়, তা আমরা মেনে নেব না। যে কোনোভাবে প্রতিহত করব।

এ বিষয়ে উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফারজানা ইসলাম বলেন, ব্যবসায়ীদের নোটিশ দেওয়া হয়েছে। তারা এখনও ছড়েনি। তাদের পুর্নবাসনের জন্য নয় সদস্য কমিটি করে দেওয়া হয়েছে। কমিটি ব্যবসায়ীদের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে।