logo
Advertisement

কথা-কাটাকাটির জেরে হত্যা, আসামির যাবজ্জীবন কারাদণ্ড

এশিয়া পোস্ট নিউজ, কুমিল্লা
কথা-কাটাকাটির জেরে হত্যা, আসামির যাবজ্জীবন কারাদণ্ড
আদালত থেকে কারাগারে নেওয়া হচ্ছে দণ্ডপ্রাপ্ত মিজানুর রহমান হাজারীকে। ছবি: এশিয়া পোস্ট

কুমিল্লার লাকসামে কথা-কাটাকাটির জেরে সাইফুল ইসলাম সোহানকে হত্যার ঘটনায় আসামি মো. মিজানুর রহমান হাজারীকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।

Advertisement

বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) দুপুরে কুমিল্লার অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ (পঞ্চম আদালত) আদলতের বিচারক মোহাম্মদ সুলতান উদ্দীন প্রধান এ রায় দেন।

দণ্ডপ্রাপ্ত মিজানুর রহমান হাজারী কুমিল্লার লাকসাম উপজেলার চিকুনিয়া দক্ষিণপাড়া হাজারী বাড়ির বাসিন্দা।

তিনি মৃত আলী হোসেনের ছেলে। রায় ঘোষণার সময় দুই আসামিই আদালতের কাঠগড়ায় উপস্থিত ছিলেন।

আদালত সূত্র ও মামলার নথি থেকে জানা যায়, ২০২১ সালের ৮ এপ্রিল দুপুরে টাকা-পয়সা লেনদেন সংক্রান্ত বিরোধের জেরে সাইফুল ইসলাম সোহানের সঙ্গে মিজানুর রহমানের কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে মিজানুর রহমান ধারালো দা দিয়ে সোহানকে কুপিয়ে জখম করা হয়।

আহত অবস্থায় তাকে প্রথমে মুজাফফরগঞ্জ হেলথ কেয়ার প্রাইভেট লিমিটেড হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। অবস্থার অবনতি হলে কুমিল্লা ট্রমা হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং সেখান থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) স্থানান্তর করা হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় ২০২১ সালের ১৮ মে রাত ১১টার দিকে তার মৃত্যু হয়।

নিহতের বাবা রুহুল আমিন ২০২১ সালের ২৬ এপ্রিল লাকসাম থানায় মিজানুর রহমান হাজারীসহ পাঁচজনকে আসামি করে মামলা করেন। মামলাটি প্রথমে দণ্ডবিধির ১৪৩, ৩২৬, ৩০৭, ৫০৬ ও ৩৪ ধারায় করা হলেও তদন্তে হত্যার অভিযোগের সত্যতা পাওয়ায় তদন্ত কর্মকর্তা দণ্ডবিধির ৩০২/৩৪ ধারায় আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন।

২০২৩ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি আদালত মিজানুর রহমান হাজারী ও তার ছেলে মেহেদী হাসানের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন। বিচার চলাকালে রাষ্ট্রপক্ষের ১০ জনের সাক্ষ্য, নথিপত্র এবং উভয় পক্ষের যুক্তিতর্ক পর্যালোচনা শেষে আদালত মিজানুর রহমানের বিরুদ্ধে হত্যার অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়েছে বলে রায়ে উল্লেখ করেন। মেহেদী হাসানের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় তাকে খালাস দেওয়া হয়।

রাষ্ট্রপক্ষে মামলাটি পরিচালনা করেন অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর (এপিপি) মোহাম্মদ এনামুল হক সরকার। তিনি বলেন, রাষ্ট্রপক্ষ সাক্ষ্যপ্রমাণের মাধ্যমে আসামি মিজানুর রহমানের বিরুদ্ধে আনা হত্যার অভিযোগ আদালতে প্রমাণ করতে সক্ষম হয়েছে। আদালত সাক্ষ্যপ্রমাণ পর্যালোচনা করে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করেছেন। অপর আসামি মেহেদী হাসানের বিরুদ্ধে অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত না হওয়ায় আদালত তাকে খালাস দিয়েছেন।

বিষয় :