ঝুট ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ নিতে বিএনপির দুই পক্ষের সংঘর্ষ

গাজীপুর মহানগরীর ৩২ নম্বর ওয়ার্ডের ডেগের চালা এলাকায় ইনডেসোর সোয়েটার কারখানার ঝুট ব্যবসার নিয়ন্ত্রণ নিতে স্থানীয় বিএনপির দুই গ্রুপ সশস্ত্র মহড়া দিয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) দিনভর দফায় দফায় মহড়াকে কেন্দ্র করে এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
এসময় আশপাশের কয়েকটি বাড়িঘর ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে। অস্ত্রের মহড়ার ভিডিও করতে গিয়ে টুটুল নামে স্থানীয় এক সাংবাদিক হামলার শিকার হয়ে গুরুতর আহত হয়েছেন।
আহত শরীফ ওমর টুটুল প্রতিদিনের কাগজের গাজীপুর মহানগর প্রতিনিধি। তাকে উদ্ধার করে শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে মাথার ক্ষতস্থানে চিকিৎসা ও ১৭টি সেলাই দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে তিনি চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
আহত সাংবাদিক টুটুল এশিয়া পোস্ট বলেন, হামিদ মণ্ডলের লোকজনের কাছে পরিস্থিতি জানতে গেলে পেছন থেকে আমার মাথায় রামদা দিয়ে কোপ দেওয়া হয়। আমি কেন ভিডিও করেছি, এটাই আমার অপরাধ। আমার মাথায় ১৭টি সেলাই লেগেছে, হাসপাতালে ভর্তি রয়েছি।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ওই পোশাক কারখানার ঝুট ব্যবসার নিয়ন্ত্রণ নিয়ে বেশ কিছুদিন ধরে এলাকায় উত্তেজনা চলছিল। বৃহস্পতিবার সকাল থেকে ডেগের চালা রোডে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে কয়েক দফায় লোকজনের জড়ো হওয়া ও মহড়ার কারণে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। এক পর্যায়ে সড়কে যান ও জনচলাচল প্রায় বন্ধ হয়ে যায়। আতঙ্কিত লোকজন বাড়িঘরের দরজা-গেট বন্ধ করে এবং ব্যবসায়ীরা দোকানের শাটার নামিয়ে ভেতরে অবস্থান নেন।
৩২ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি আব্দুল হামিদ মণ্ডল অভিযোগ করেন, ইনডেসোর সোয়েটার কারখানা কর্তৃপক্ষের সঙ্গে লিখিত চুক্তির মাধ্যমে তিনি নিয়মিত ঝুট উত্তোলন করে আসছেন। সম্প্রতি বিএনপির নাম ব্যবহার করে একটি পক্ষ জোরপূর্বক ওই ব্যবসা নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার চেষ্টা করছে। তাদের নেতৃত্বেই শতাধিক লোক দেশীয় অস্ত্র নিয়ে কারখানার সামনে অবস্থান নেয়। তাদের হাতে রামদা, চাপাতি, চাইনিজ কুড়াল ও লাঠিসোঁটা ছিল বলে তিনি অভিযোগ করেন।
গাজীপুর মেট্রোপলিটন গাছা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গোলাম রব্বানি এশিয়া পোস্টকে বলেন, ঝুট ব্যবসার নিয়ন্ত্রণ নিয়ে দুই পক্ষ মারমুখী অবস্থানে ছিল। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হলে পরিস্থিতি শান্ত হয়। স্থানীয়ভাবে জানতে পারি বিএনপির দুই গ্রুপ ছিল। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। তবে কোনো পক্ষ থানায় লিখিত অভিযোগ দেয়নি।



