logo
Advertisement

বরিশাল/গুদাম থেকে বের হওয়ার আগেই কালোবাজারে চাল-আটা

শাকিল মাহমুদ
বরিশাল
গুদাম থেকে বের হওয়ার আগেই কালোবাজারে চাল-আটা
জাহাজ থেকে চাল-আটা গুদামে নেওয়া হচ্ছে। ছবি: এশিয়া পোস্ট

সরকারি খাদ্যগুদামে নিম্মআয়ের মানুষের জন্য মজুত রাখা হয় চাল ও আটা। কিন্তু সেই খাদ্যপণ্যের একটি অংশ গুদাম থেকে বের হওয়ার আগেই গোপনে বিক্রি হয়ে চলে যাচ্ছে কালোবাজারে। অভিযোগ রয়েছে, খোলা বাজারে বিক্রির (ওএমএস) দায়িত্বে থাকা ডিলার ও কিছু জনপ্রতিনিধি খাতায় পুরো বরাদ্দ উত্তোলন দেখালেও বাস্তবে অর্ধেক পণ্য বিতরণ করে বাকিটা বিক্রি করে দিচ্ছেন।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে সংশ্লিষ্ট এক সূত্রে জানা গেছে, বরিশালের খাদ্যসংরক্ষণ গুদাম থেকে পণ্য ছাড় করার সময় ওএমএস ডিলার ও জনপ্রতিনিধিরা চাল-আটার একটি অংশ বিক্রি করে দেন। পরবর্তীতে নতুন করে সরকারি পণ্য গুদামে সরবরাহের সময় আগের বিক্রি করা অংশ রাস্তা থেকেই কালোবাজারে চালান করে দেওয়া হয়। এই পুরো কেনাবেচায় মূল কারিগর হিসেবে কাজ করছেন গুদামের চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী মো. শাহাবুদ্দিন।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, ওএমএসের একজন ডিলার রোববার থেকে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত প্রতিদিন এক টন করে চাল ও এক টন করে আটা বিক্রির জন্য উত্তোলন করতে পারেন। কিন্তু অর্ধেক চাল ও তিন থেকে চার বস্তা আটা ট্রাকে নিয়ে বিক্রি করেন। বাকি চাল ও আটা গুদামের চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী মো. শাহাবুদ্দিন বিক্রি করে দেন। এএকইভাবে কতিপয় জনপ্রতিনিধিও তাদের বরাদ্দের চাল তার কাছে বিক্রি করেন। বিক্রির লভ্যাংশ গুদামের কর্মকর্তাসহ খাদ্য দপ্তরের কর্মকর্তারাও পান।

বস্তা ছিঁড়ে চাল চুরি

গুদামে চাল ওঠা-নামানোর সময় নিয়োজিত শ্রমিকেরা কৌশলে বস্তা ছিঁড়ে ফেলেন। নিয়ম অনুযায়ী, ছেঁড়া বস্তার চাল মেপে পুরো ভর্তি করে সেলাই করার কথা থাকলেও তা না করে পড়ে যাওয়া চাল সরিয়ে রাখা হয়। ফলে ওএমএস থেকে চাল কেনা অসচ্ছল ও দরিদ্র মানুষগুলো প্রতি বস্তাতেই নির্ধারিত পরিমাণের চেয়ে কম চাল পান।

সম্প্রতি কালোবাজার থেকে কেনা ৪০০ বস্তা চাল সদর উপজেলার একটি মাদ্রাসায় নেওয়ার সময় স্থানীয়রা আটক করলেও মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে তা রফা হয়। এছাড়া ডিলাররা ধরা পড়লে অর্থের বিনিময়ে ঘটনা ধামাচাপা দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে।

বরিশাল জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক কার্যালয় থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, জেলার গুদামে ১৫ হাজার ৫০০ টন ধারণক্ষমতা রয়েছে। গুদামে ১৮ হাজার ৬১৮.৩০৩ টন ধান, চাল ও গম মজুত রয়েছে। এর মধ্যে বোরো চাল রয়েছে ১১ হাজার ৩৩৬.২৬২ টন, আমন চাল দুই হাজার ৯১৭.৯৫৩ টন, সিদ্ধ আমদানি তিন হাজার ২০৯.৫৭৬ টন। এ ছাড়া বোরো ধান রয়েছে এক হাজার ১৫৪.৫১২ টন।

বরিশাল সদর উপজেলার খাদ্য কর্মকর্তা আবু সাঈদ বলেন, সদর উপজেলায় তিনটি গুদাম রয়েছে। তিনটির ধারণক্ষমতা সাড়ে চার হাজার মেট্রিক টন। এর মধ্যে একটি ভাটারখাল, অপরটি ত্রিশ গোডাউন এবং অন্যটি সদর উপজেলা পরিষদে রয়েছে। এসব গুদামে বর্তমানে চার হাজার ৮১০ মেট্রিক টন চাল রয়েছে।

তবে অভিযোগ অস্বীকার করে তিনি বলেন, কালোবাজারে বিক্রির কোনো তথ্য নেই। প্যাকিং বস্তায় আসে ও প্যাকিং বস্তায় খালাস হয়। জাহাজে উঠানোর সময় কিছু বস্তা ফেটে যায়। যে বস্তা সেলাইয়ের যোগ্য, সেখানে পরিমাণমতো চাল ভর্তি করে সেলাই করে দেওয়া হয়। সেখান থেকে চাল সরানোর কোনো সুযোগ নেই।

এ বিষয়ে বরিশাল জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক এস এম তাহসিনুল হককে ২৪ ঘণ্টায় একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি।