logo

উদ্যোক্তা হোন, পাহাড়ের অর্থনীতিকে এগিয়ে নিন: পার্বত্য মন্ত্রী

উদ্যোক্তা হোন, পাহাড়ের অর্থনীতিকে এগিয়ে নিন: পার্বত্য মন্ত্রী
​বান্দরবানে সমবায় সংস্থাকে সম্মাননা ক্রেস্ট তুলে দেন পার্বত্য মন্ত্রী সাচিং প্রু জেরী। ছবি: এশিয়া পোস্ট

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশনায় দেশব্যাপী ফ্যামিলি ও কৃষক কার্ড বিতরণ করা হয়েছে জানিয়ে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী সাচিং প্রু জেরী বলেছেন, সরকারের মূল লক্ষ্যই হলো সবার আগে স্বাবলম্বী পরিবার এবং সবার আগে বাংলাদেশ গড়ে তোলা। নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের আর্থিক দুর্দশা লাঘবে বর্তমান সরকার অঙ্গীকারবদ্ধ।

​রোববার (৮ নভেম্বর) দুপুরে বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদ অডিটোরিয়ামে আয়োজিত ৫৫তম জাতীয় সমবায় দিবসের আলোচনা সভা, চেক বিতরণ ও পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। জেলা পরিষদ ও সমবায় অধিদপ্তর যৌথভাবে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।

বক্তব্যে মন্ত্রী তার পারিবারিক ঐতিহ্য স্মরণ করে জানান, ১৯৬৭ সালে তার স্বর্গীয় পিতা অংশুই প্রু বান্দরবানে প্রথম সমবায় সমিতি প্রতিষ্ঠা করেছিলেন, যার সদস্য সংখ্যা ছিল প্রায় ৯ হাজার। বর্তমানে সেই ধারা ধাপে ধাপে বেড়ে ৫০ হাজার সদস্যে উন্নীত হয়েছে।

​পার্বত্য চট্টগ্রামের অর্থনৈতিক সম্ভাবনার চিত্র তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, আমরা স্থায়ী অর্থনৈতিক স্বাবলম্বিতা অর্জনে নিত্যনতুন আয়ের উৎস তৈরিতে কাজ করছি। পাহাড়ি এলাকার মাটির গুণাগুণ গবেষণা করে দেখা গেছে কফি, কাজুবাদাম, রামবুটান, মাশরুম, চুইঝাল ও লটকন চাষের ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে।

​বিশেষ করে রুমা ও থানচি উপজেলাকে কফি চাষের জন্য অত্যন্ত উপযোগী হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি। চাষিদের সেচ ও পানির সংকট দূর করতে রুমায় দ্রুত ৫ হাজার লিটার পানি সরবরাহের ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানান মন্ত্রী। এ ছাড়া বিদেশে রপ্তানিযোগ্য লাল মাশরুম, দেশি মুরগি, গাড়ল এবং আদা, হলুদ ও জিরার মতো মসলাজাতীয় লাভজনক ফসল চাষে পাহাড়ি উদ্যোক্তাদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানান। শিক্ষিত বেকার যুবক-যুবতীদের কেবল চাকরির পেছনে না ছুটে দক্ষ উদ্যোক্তা হওয়ার পরামর্শ দেন মন্ত্রী। সমবায় বিভাগকে এ বিষয়ে সার্বজনীন প্রকল্প গ্রহণ ও সচেতনতা সৃষ্টির নির্দেশনা দেন তিনি।

​তরুণ সমাজকে মাদকের হাত থেকে রক্ষা করতে খেলাধুলা ও সবুজ পরিবেশ গড়ে তোলার ওপর জোর দিয়ে তিনি জানান, প্রতি শনিবারের পরিচ্ছন্নতা অভিযান অব্যাহত থাকবে। মন্ত্রী ‘করবো সমবায় গড়বো দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’ স্লোগানকে সামনে রেখে বৈষম্যহীন ও সম্প্রীতির বান্দরবান গড়ার আহ্বান জানান।

অনুষ্ঠানে জেলার ৪টি সমবায় সমিতিকে মোট ৯ লাখ টাকার ঘূর্ণায়মান ঋণের চেক হস্তান্তর করা হয়। পাশাপাশি সমবায় খাতে বিশেষ অবদানের জন্য ৫টি সমবায় সংস্থাকে সম্মাননা ক্রেস্ট প্রদান করা হয়।

​অনুষ্ঠানে বান্দরবানের জেলা প্রশাসক নাজনীন সুলতানা, পার্বত্য জেলা পরিষদের সদস্য লুসাইমং, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ফরহাদ সরদার, জেলা সমবায় কর্মকর্তা ফাতেমা বেগম এবং বান্দরবান প্রেসক্লাবের সভাপতি নাছিরুল আলমসহ বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি কর্মকর্তা ও সমবায় সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

​পরবর্তীতে বিকেলে মন্ত্রী শৈলশোভা সড়ক পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়নের ‘মৃত্যু ফান্ড’ থেকে প্রয়াত ১৯ জন শ্রমিকের পরিবারের হাতে নগদ অনুদানের অর্থ তুলে দেন।